441 বার দেখা হয়েছে বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

লতিফ আহমেদ সিদ্দিকী তারুণ্যের অহংকার

  • 51
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    51
    Shares

হালিমা খানম : একজন সত্যিকার সফল উদ্যোক্তা তাঁর ব্যবসার উন্নয়নের পাশাপাশি নিজেকেও সব সময়ে উন্নত করার চেষ্টা করেন। সফল উদ্যোক্তা হওয়ার উপায় হিসেবে এর কোনও বিকল্প নেই। সফল উদ্যোক্তা হতে পারা অবশ্যই দারুন, কিন্তু সেই পথে চ্যালেঞ্জও কম নয়। আর এই চ্যালেঞ্জ জয় করতে সব সময়ে নিজেকে উন্নত করার বিকল্প নেই । বেশিরভাগ সফল উদ্যোক্তা খুবই উ‌ৎসাহী ও আশাবাদী ধরনের মানুষ।

সেই সাথে তাঁরা জানেন যে, ব্যবসার উন্নতি ঘটানোর পাশাপাশি নিজের দক্ষতা ও জ্ঞানের উন্নতি করা কতটা দরকার। পৃথিবীর সেরা উদ্যোক্তাদের দিকে তাকালে দেখা যায়, তাঁরা সব সময়েই নিজেদের আপগ্রেড করার জন্য নতুন নতুন জ্ঞান ও দক্ষতা শেখার চেষ্টা করেন। প্রতিযোগীতায় টিঁকে থাকতে এবং ব্যবসাকে এগিয়ে নেয়ার এটাই সেরা উপায়। শুধু ব্যবসার পেছনে বিনিয়োগ করার বদলে যিনি ব্যবসাটি চালাচ্ছেন, তাঁর পেছনেও বিনিয়োগের দরকার আছে। উদ্যোক্তা নিজে যত উন্নত হবেন, তাঁর ব্যবসাও তত উন্নত হবে।

ঠিক এমনই একজন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার কথা বলছি। যিনি তার অত্যন্ত কঠোর পরিশ্রম ও মেধার সমন্বয়ে একটি ক্ষুদ্র স্টার্টআপ পরিচালনা করছেন। মানুষের দৈনন্দিন চাহিদা পূরণ করছেন পাশাপাশি নিজের ব্যবসায় কে নিয়ে যাচ্ছেন সফলতার দিকে। “সালসাবিল এন্টারপ্রাইজ” এর ফাউন্ডার লতিফ আহমেদ সিদ্দিকী কোহিনূর এর কথা বলছিলাম। অল্প বয়সেই সফল এই তরুণ উদ্যোক্তার জন্ম কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার পূর্ব গোবরিয়া গ্রামে।

বাবা জসিম উদ্দিন একজন একাত্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধা। শুধু মুক্তিযোদ্ধা বললে ভুল হবে, নেতৃত্ব দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধের কমান্ডার হিসেবে এবং প্রাক্তন কৃষি ব্যাংক কর্মকর্তা এবং তার দাদা মরহুম আব্দুল হেকিম দলু প্রধান একজন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ছিলেন। তিন ভাই-বোনের মধ্যে কোহিনূর পরিবারের বড় সন্তান।

সংসারের নানাবিধ টানাপোড়নের মাঝে বড় হওয়া এই তরুণ সরকারী তিতুমীর কলেজ থেকে সমাজকর্ম বিষয়ে স্নাতকোত্তর শেষ করে নেমে যান জীবনযুদ্ধে। একটি দেশসেরা বেসরকারী কোম্পানীর রিপ্রেজেনটিটিভ দুই মাসের অভিজ্ঞতা নিয়ে কোম্পানির বড় বসদের নজরে আসেন এবং দুমাসের মাথায় প্রমোশন পেয়ে যান। এর প্রতিবছর এক এক প্রমোশন।

তিনি এখন সালসাবিল কেমিক্যাল এন্ড কনস্যুমার, সালসাবিল ট্রেডিং ইন্টারন্যাশনাল ও সালসাবিল এন্টারপ্রাইজের কর্ণধার। নরসিংদীতেই তিনি গড়ে তুলেছেন তাঁর স্বপ্নের প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানটি ক্যামিকেল প্রোডাক্ট, ফুড প্রোডাক্ট থেকে শুরু করে বাজারজাত করছে নিত্য প্রয়োজনীয় নানাবিধ পণ্য সামগ্রী। তিনি শুধু একজন সফল উদ্যোক্তা নন, একজন মিষ্টভাষী-বিনয়ী সমাজসেবকও বটেন।

ব্যক্তিজীবনে ওনি ভালো একজন আর্টিস্ট ছিলেন ছাত্র অবস্থায় আর্ট করেও টাকা ইনকাম করতেন। সময় পেলেই ইসলামি সংগীত, গান,কবিতা লিখতেন ভালো,শখের কয়েকটি নাটকও করেছিলেন এককথায় একজন সহজ সরল সংস্কৃতিমনাও ছিলেন এবং নিরবধি কাজ করে যাচ্ছেন সমাজের পিছিয়ে পড়া অসহায়-দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কল্যাণে। দরদী তরুন প্রজন্মের আইডলে পরিচিত লাভ করেছেন কয়েকজেলায়।

সমাজের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি এই উদ্যোক্তা অনেক আগে থেকেই স্বপ্ন দেখে আসছিলেন একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী হবার এবং সমাজের সেবা করার। সেই লক্ষ্যেই কাজ শুরু। শুরুটা তার তেমন ফলপ্রসু ছিলো না। বহুবার বহু যাত্রায় ব্যর্থ হয়ে বর্তমানে তার নতুন প্রতিষ্ঠানটিকে প্রচন্ড পরিশ্রমের মাধ্যমে সফলতার দিকে নিয়ে এসেছেন। কথা হচ্ছিলো তার সাথে। তিনি বলেনঃ” বাংলাদেশের মতো একটি দেশে ব্যবসায় পরিচালনা করা যেমন সহজ তেমন প্রতিবন্ধকতাও অনেক। তবে দমে গেলেই হবে না। আমি নিজে বহুবার ব্যর্থ হয়েছি। এতে করে কি হয়েছে, আমি ভেঙ্গে পরিনি। মনোবল হারাইনি। বরং অদম্য শক্তি আর সাহস নিয়ে এগিয়েছি। নতুন নতুন চিন্তা করেছি।

বিভিন্ন রকম মানুষের সাথে মিশেছি। জেনেছি কি করে কি করা যায়। আর বিভিন্ন সেমিনার এ যাওয়ার সুযোগ হতো না তবে ইউটিউবে দেখে নিতাম। এই যেমন ভারতের সন্দীপ মাহেশ্বরী, বাংলাদেশের রকমারি ডট কম এর সোহাগ ভাই, আর সোলায়মান সুখন ভাই তো আছেনই, ইনাদের সেমিনারের ভিডিও দেখতাম, শুনতাম। আমি স্বপ্ন দেখি মহাকাশ চুম্বী, যেনো অন্তত পক্ষে আকাশ পর্যন্ত হলেও পৌছুতে পারি। পরীক্ষায় সফলতা, ব্যর্থতা সবই আছে। আমি এরকম আরো পরীক্ষার সম্মুখীন হতে চাই। কোহিনূর তার প্রতিষ্ঠানকে আরো উচ্চতায় নিয়ে যেতে চান।

বর্তমানে তার সাথে কাজ করছেন আরো ৯ জন। সফলতাকে বিভিন্ন ভাবে সংজ্ঞায়িত করা যায়। তবে যার যার ক্ষেত্র থেকে সফলতাটা ভিন্ন। এই ভিন্ন মাত্রার সফলতার স্বাদ আস্বাদন করতেই নিরলস পরিশ্রম করে এগিয়ে যাচ্ছেন জাওয়াদ এর মতো হাজারো ক্যাম্পাসিয়ান উদ্যোক্তা।আর তিনি বলেন নিন্দুকের সমালোচনা কে এনজয় ও পজেটিভ ভাবছি সব সময়। তিনি আরো বলেন, ধৈর্য্য এবং সততার সাথে সব সময় কাজ করেছি প্রতিদানস্বরুপ আমার প্রতিষ্ঠান সফল হয়েছে।

ব্যক্তিগতভাবে সফল হয়েছি আমি। তার ফেলে আসা কষ্টের দিনগুলোর কথা বলতে গিয়ে বলেন, এমনও দিন গেছে ২৪ ঘন্টার মধ্যে ১৮ ঘন্টাই কাজ করতে হয়েছে। বাকি সময়টা ঘুমসহ অন্য কাজ করেছি। অসংখ্য নেশাগ্রস্ত লোকের সাথে হেঁটেছি, কিন্তু জীবনে কোনো দিন একটি সিগারেটও মুখে নিইনি।

চিন্তা করেছি যদি পরিশ্রম করে যাই আর লক্ষ ঠিক রাখি তাহলে সফলতা একদিন আসবেই। কঠোর পরিশ্রম করার কারণে সফলতা আসতে বেশীদিন লাগেনি। তিনি বলেন, সফল হতে হলে প্রথমে দরকার সততা। তারপর সঠিক লক্ষ এবং তা বাস্তবায়ন করার স্পৃহা ও কঠোর পরিশ্রম।

যদি কেউ সুশিক্ষিত হয় এবং লক্ষ ঠিক করতে পারে তাহলে অবশ্যই সে সফল হবে। অন্যরা বিশ্বাসঘাতকতা করলেও নিজের কাজ আর পরিশ্রম নিজের সাথে কখোনোই বিশ্বাসঘাতকতা করেনা। পরিশ্রম অবশ্যই সফলতা এনে দেবে।

  • 51
    Shares