200 বার দেখা হয়েছে বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

লাকসামে ঠাকুরপাড়া কালি মন্দিরে শ্যামা পূজা অনুষ্ঠিত

  • 3
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    3
    Shares

পথিক রিপোর্ট:মশিউর রহমান সেলিম, লাকসাম

কুমিল্লার লাকসাম পৌর শহরের উত্তর পশ্চিমগাঁও ঠাকুরপাড়ায় সহ এবার ৬টি মন্দিরে দেবী শ্যামা কালী পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
লাকসাম পৌর এলাকার উত্তর পশ্চিমগাঁও ঠাকুর পাড়া পুকুর পাড়ে পৌর সহকারী প্রকৌশলী বাবু শিশির আচার্যের সার্বিক তত্তবধানে ঠাকুরপাড়া কালি মন্দির, জগন্নাথ দেবালয়, দৌলতগঞ্জ বাজার কালী বাড়ী, দক্ষিণ লাকসাম কালী বাড়ি, পূর্ব লাকসাম কালী বাড়ি, পশ্চিমগাঁও সাহাপাড়া কালী বাড়ী, ও পূর্ব লাকসাম মহাশ^শ্মান কালী বাড়ি সহ ৬টি কালী মন্দিরে শান্তিপূর্ন ভাবে শ্যামা পূজা পালন করেছে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন।
গত কাল শনিবার সন্ধ্যার পর থেকে ঐ সব মন্দির গুলোতে একযোগে হঠাৎ করে ফটকা বাজির শব্দ আর ডোল-তবলা ও কাশাইয়ের টুং টাং আওয়াজে পৌর শহর যেন কিছু সময়ের জন্যে স্তব্ধ হয়ে পড়ে। এছাড়া রাত ১১টা দিকে আনুষ্ঠানিক পূজা অর্চনা শুরু হলেও গভির রাত ২টার দিকে পাঠা বলীর মাধ্যমে শ্যামা পূজার অনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়।
লাকসাম পৌর সহকারী প্রকৌশলী ও হিন্দু ধর্মীয় নেতা বাবু শিশির চন্দ্র আচার্য্য জানায়, কার্তিক মাসের অমাবস্যা তিথিতে হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব এ শ্যামা পূজা। তাদের অধিকাংশ দেব-দেবীর পূজা দিনে হলেও শ্যামা পূজা হয় রাতে। দুষ্টের ধমন আর শিষ্ঠের পালনের মাধ্যমে ভক্তদের জীবন কল্যাণের অঙ্গীকার নিয়ে পৃথিবীতে আগমন ঘটেছে দেবী শ্যামা কালীর। ঐ সম্প্রদায়ের কাছে শ্যামা দেবী শান্তি, সংঙ্গতি ও সম্প্রৃীতি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সংগ্রামের প্রতীক। ১০ মহাবিদ্যার মধ্যে ১ম মহাবিদ্যা হচ্ছেন দেবী শ্যামা কালী। তবে দেশব্যাপি অদৃশ্য ভাইরাস করোনার কারনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্বল্প পরিষরে এ উৎসবটি পালন করা হচ্ছে।
তিনি আরো জানান, এছাড়া দেবী শ্যামার বিভিন্ন রুপের কথা বলা হয়েছে বঙ্গীয় তন্ত্রসার, শ্যামা রহস্য বিভিন্ন তন্ত্রে। বিশেষ করে তার রুপের মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ, সিদ্ধ, ভদ্র, শ্বশ্মান, রক্ষা ও মহাকালী। শ্যামার চতুর্ভুজের দক্ষিণ হস্তদ্বয়ে থাকে খট্রাঙ্গ ও চন্দ্র হাঁস এবং বাম হস্তদ্বয়ে থাকে বর্ম ও পাশ। দেবী ব্যাঘ্রচর্ম পরিধানে থাকেন। কার্তিকী আমবস্যার এ তিথীতে শ্যামা পূজাই দীপা বলী কিংবা দিওয়ালী নামে পরিচিত। শ্যামা দেবীর আবির্ভাব সম্পর্কে বলা হয়েছে দেবাসুরের যুদ্ধে পরাজিত দেবগণের স্মৃতিতে আদ্যাশক্তি ভগবতীর দেহ কোষ থেকে দেবী কৌষিকী নামে আবির্ভুত হন।
এসময় উত্তর পশ্চিমগাঁও ঠাকুরপাড়া কালী মন্দিরের রক্ষনা বেক্ষনকারী লাকসাম পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী বাবু শিশির চন্দ্র আচার্যের সাথে অন্যান্যদের মধ্যে ওই মন্দিরের সভাপতিত স্বপন আচার্য্য, ঠাকুর টিটু আচার্য্য, টিটু মজুমদার, সুনীল দে, হারাধন ঠাকুর, লোকজিৎ আচার্য্য, গৌরাঙ্গ দে, মিতু দে, সঞ্চিত আচার্য্য, হারু আচার্য্য, পিন্টু মুজুমদার, অজিৎ ঘোষ, সঞ্জু দে উপস্থিত ছিলেন।
অপরদিকে লাকসাম একতা সংগের আয়োজনে জগন্নাথ দেবালয়ে তিনদিন ব্যাপি নানাহ কর্মসূচি পালন করেছে হিন্দু সম্পদ্রায়ের লোকজন। এ সময় ঐ সংগঠনের কর্মকর্তা সুদীপ্ত রায় চৌধুরী, শ্যাম্বু সাহা, মিঠু সাহা, প্রবীর দাস টেবলু দাসও সুজীত সাহার তদারকিতে এ শ্যামা পূজা পালিত হয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা পূজা উজ্জাপন কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি ডাঃ সচীন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক দুর্জয় সাহা জানায়, বর্তমান সরকারের শাসন আমলে প্রত্যেকটি পূজাই আমরা শান্তিপূর্ণ ভাবে শেষ করতে পেরেছি। এলাকার সকল রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠন নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশোসনের সার্বিক সহযোগিতা আমাদেরকে প্রেরনা যোগিয়েছে। তবে দেশব্যাপি অদৃশ্য ভাইরাস করোনার কারনে এবার স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্বল্প পরিষরে এ উৎসবটি পালন করা হয়েছে।

 

  • 3
    Shares
  • 3
    Shares