112 বার দেখা হয়েছে বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

লাকসামে নিখোঁজের ৭২ঘন্টা পর কিশোর মুন্নার মরদেহ উদ্ধার

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মশিউর রহমান সেলিম:  কুমিল্লার লাকসাম পৌরশহরের কোমারডোগা এলাকা থেকে নিখোঁজের ৭২ঘন্টা পর আজাদ আহম্মেদ মুন্না (১৩) নামে এক কিশোরে মরদেহ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। সে সিলেট সুনামগঞ্জ দোয়ারা বাজার উপজেলার বড়হরি গ্রামে মঞ্জিল মিয়ার ছেলে। বর্তমানে পিতা-মাতার সহ প্রায় ১বছর যাবৎ তার নানার বাড়ী গন্ডামারায় তারা বসবাস করছে। শুক্রবার (২৭ নভেম্বর) সকালে থানা পুলিশ সংবাদ পেয়ে তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করে।
পারিবারিক সুত্রে জানাযায়, গত মঙ্গলবার (২৪ নভেম্বর) বিকেলে মুন্না তার আত্মীয় স্থানীয় বাসিন্দা পিকআপ ড্রাইবার জাহিদের গাড়ি পরিস্কার শেষে বাড়িতে গিয়ে ফুছকা খাওয়ার জন্য মায়ের কাছ থেকে ২০টাকা নিয়ে বাহির হয়ে আর ঘরে ফিরেনি । পরিবার সদস্যরা ওইদিন বিকেল থেকে মুন্না বাড়িতে না ফেরায় অনেক খোজাখুজির পর তার মা মনোয়ারা বেগম বুধবার সকালে লাকসাম থানায় একটি সাধারণ ডাইরী রুজু এবং সমগ্র এলাকায় মুন্না নিখোঁজের মাইকিং প্রচার করে। দীর্ঘ ৭২ ঘন্টা মুন্না নিখোঁজের কোন সংবাদ পায়নি স্বজনরা। অবশেষে শুক্রবার সকালে এলাকার ছেলেরা ক্রিকেট খোলার সময় ক্রিকেট বলটি কোমারডোগা গ্রামের ছোবহান মিয়ার ডোবায় পড়ে গেলে বলটি তুলতে গিয়ে ১টি মরদেহ দেখতে পায়। তখন ওইসব ছেলেরা চিৎকার দিলে আশেপাশের লোকজন ছুটে এসে মরদেহটি চিনতে পেরে স্বজনদের খবর দেয়। স্বজনরা ঘটনাস্থলে এসে পুত্রকে চিনতে পেরে তাৎক্ষনিক শোকে আত্মচিৎকার শুরু করলে কিছুক্ষনের জন্য সমগ্র এলাকা স্তব্ধ হয়ে পড়ে। এঘটনাটি একটি হত্যাকান্ড বলে ওই কিশোরের স্বজনরা জানায়। সংবাদ পেয়ে লাকসাম থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে কিশোর মুন্নার মরদেহ উদ্ধার করে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মুন্নার মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ এবং স্বজনরা মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
স্থানীয় একাধিক সুত্র জানায়, ওই ডোবার পাশে পরিত্যাক্ত একটি মাঠে প্রতিনিয়ত ফুটবল/ক্রিকেট খেলা নিয়ে ঝগড়া/মারা-মারির ঘটনা ঘটে আসছে। ওই মাঠ নির্জন থাকার কারণে সন্ধার পর মাদকের হাট বসে এবং বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত বিভিন্ন বয়সী নারীদের আনা ঘোনা চলে আসছে। স্থানীয় ভাবে একাধিক বার ওই সব অনৈতিক কর্মকান্ড প্রতিহতের উদ্দ্যোগ নিলেও এলাকার কতিপয় ব্যক্তির কারনে তা বন্ধ হচ্ছে না। মুন্নার মৃত্যুকে একটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড বলে অভিমত দেন এলাকাবাসী। তবে কেউ কেউ এ ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে বলছেন ভিন্ন কথা।
স্থানীয়, ওয়ার্ড কাউন্সিলর ওমর আলী জানায়, বিভিন্ন মাধ্যমে মরদেহ পাওয়ার খবর শুনে তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে যাই। এবং বিস্তারিত অবগত হই। তবে হত্যাকান্ডের পাশা-পাশি বিদ্যুৎ বিভাগের দায়িত্বহীনতাকে দায়ী করা সহ ময়না তদন্ত রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে এ ঘটনাটি পরিস্কার হবে বলে মনেকরি।
এ ব্যাপারে লাকসাম থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ নিজাম উদ্দীন জানায়, মরদেহ পাওয়া খবর পেয়ে তাৎক্ষতি থানা পুলিশ ওই এলাকায় গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য কুমিল্লা মর্গে প্রেরণ করার প্রস্তুতি নিচ্ছি এবং স্বজনদের অভিযোগ ফেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।