152 বার দেখা হয়েছে বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

লাকসাম আজগরায় জলাবদ্ধতায় পঁচে গেলো কয়েক’শ একর জমির আমন ফসল

  • 9
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    9
    Shares

মশিউর রহমান সেলিম: কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার আজগরা ইউপির বাটিয়াভিটা, ঘাটার ও নোয়াগাঁওসহ ৪টি গ্রামের ধানি জমি গুলোতে জলাবদ্ধতায় পঁচে গেলো কয়েক’শ একর জমির আমন ফসল। লাকসাম- নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কে ফোরলেনের কাজ করায় জেলা দক্ষিনাঞ্চলের লাকসাম, নাঙ্গলকোট ও মনোহরগঞ্জ উপজেলার পানি নিষ্কাশনের একমাত্র মাধ্যম বেরুল খালটি ভরাট হয়ে অস্তিত্ব হারাতে বসেছে। ফলে ওই ইউপির ৪টি গ্রামের কয়েক’শ একর কৃষি জমিতে জলাবদ্ধতায় পৌষমাস এলেও দূভোর্গ কাটেনি ওই অঞ্চলের মানুষের। এ দুর্যোগ এ অঞ্চলের সার্বিক অর্থনৈতিক কার্যক্রম স্থবির ও তার উপর ওই এলাকায় আংশিক আকস্মিক জলাবদ্ধতা এবং আসন্ন ইরি-বোরো উৎপাদনে মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ায় মানুষ শংকায় পড়েছে।

জানা যায়, বিগত ৮/৯ মাস যাবত অদৃশ্য ভাইরাস করোনার প্রভাবসহ নানাহ কারণে ওই এলাকাটি অবহেলিত। এছাড়া যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে ওই আঞ্চলিক মহাসড়কটি চারলেনে উন্নয়ন ঘটালে তার প্রভাব পড়ে ঐতিহ্যবাহী ডাকাতিয়া নদী সংযোগ বেরুলা খালটির উপর। ধীরে ধীরে খালটি ভরাট হয়ে পড়লে দেখা দেয় ওই ইউপির ৪টি গ্রামের কৃষি জমিগুলোতে জলাবদ্ধতা। ফলে আমন ফসলটি কৃষকরা ঘরে তুলতে পারেনি। সবগুলো ধানেই জলাবদ্ধতায় পঁচে গেছে। এছাড়া আঞ্চলিক মহাসড়ক থেকে বাটিয়াভিটা-ঘাটার নোয়াগাঁও কাঁচা সড়ক পাকা করণে উদ্যোগ নিলেও দুই মাঠের মধ্যে ব্রিজ কিংবা কালভাট নির্মাণ না করায় ওই এলাকায় পানি বন্দি হয়ে জলাবদ্ধতায় রূপ নেয়। ওই ইউপির ৪টি গ্রামের কৃষকরা জলাবদ্ধতার শিকারে আসন্ন ইরি-বোরো মৌসুমএবং আগাম গ্রীষ্মকালীন শাক-সবজি উৎপাদনে মারাত্মক ক্ষতির ঝুঁকিতে পড়েছে।

এ দিকে ওই আঞ্চলিক মহাসড়কে ফোরলেনের কাজ চলায় বেরুলা খালটি বর্তমানে ময়লা-আবর্জনায় ভরাট হয়ে এলাকার পরিবেশকে বেসামাল করে তুলেছে। বেরুলা খালটির পাশাপাশি এ অঞ্চলের নতুন-পুরাতন ডাকাতিয়া নদীসহ সংযোগ খালগুলো এ অঞ্চলের পানি নিষ্কাশনের একমাত্র মাধ্যম। লাকসামের চাইলতাতলী, ঘাগৈর,  কার্জন, মেলা, কুচাইতলী ও ছিলনিয়া খালের অবস্থা বর্তমানে অস্তিত্ব সংকটে। ওইসব খালগুলো জবর দখল ও ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি প্রবাহ গতিহীন। তার উপর ময়লা আবর্জনাসহ বিষাক্ত পানি জলাবদ্ধ হয়ে এ অঞ্চলের বিশুদ্ধ পানির মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ে নানাহ রোগের আতংকে সকল পেশার মানুষ। ইতিমধ্যে খালের উপর ব্রীজ ও কালভাটগুলোর প্রবেশ পথ ভরাট  হয়ে বন্ধ হয়ে গেছে। প্রত্যেক বছর এলাকার মানুষ ভয়াবহ  জলাবদ্ধতার সম্মুখিন হতে হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন জবরদখলকারী ও নদী-খালের ভরাট নিরসনে নিরব দর্শক। বিগত ৫/৬ মাস যাবত ওই এলাকার কোথাও কোথাও পানি নিষ্কাশনের ব্যাবস্থা না থাকায় পানি আটকে জলাবদ্ধতায় সৃষ্টি হয়েছে।

এ ব্যাপারে ঘাটার গ্রামের কৃষক মাহবুবুল আলম জানায়, স্থানীয় প্রশাসনের ভ্রান্তনীতির কারনে চলমান আমন মৌসুমের শেস প্রান্তে এসেও এই এলাকায় চরম জলাবদ্ধতায় কৃষকদের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। এ বছর এ দূযোর্গে পড়ে আমরা কৃষকরা এক মুঠো আমন ধান ঘরে তুলতে পারিনি। এ নিয়ে ৪ গ্রামের সাধারণ কৃষকরা আসন্ন ইরি-বোরো মৌসুম নিয়েও চিন্তায় আছি।

স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার আখতার হোসেন জানায়, আমার ওয়ার্ডের পাশ দিয়ে বেরুলা খালটি রহস্যজনক কারণে চারলেনের ভিতরে ঢুকে যাওযায় ৪ গ্রামের কৃষকরা এ জলাবদ্ধতার স্বীকারে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। আমরা ইউনিয়ন পরিষদ তার নিরশনে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে নানাহ ভাবে কাজ করে যাচ্ছি।

ওই ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব রুহুলআমিন জানায়, ওই ওয়ার্ডের সিংহভাগ এলাকায় জলাবদ্ধতায় কয়েকশ একর কৃষি জমি ক্ষতি স্বীকার। ওই এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে জেলা-উপজেলা সংম্লিষ্ট দপ্তর কর্মকর্তাদের অবহিত করেছি। এমনকি স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করার পর ওই এলাকায় চারলেনের কাজ সাময়িক বন্ধ রয়েছে। আজ মঙ্গলবার উপজেলা পরিষদের মাসিক সভায় তা নিয়ে জোরালো ভাবে কথা বলবো।

এ ব্যাপারে জেলা ও স্থাণীয় প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চাইলে তারা মুখ খুলতে অপরাগতা প্রকাশ করেন। তবে এ এলাকার জলাবদ্ধতা সমস্যাটি দীর্ঘদিনের নয়। এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

 

পথিকনিউজ/এইচ কে 

  • 9
    Shares
  • 9
    Shares