189 বার দেখা হয়েছে বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

লাকসাম পৌর নির্বাচনে তৎপর শাসকদল কৌসুলী ভূমিকায় বিরোধীরা

  • 12
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    12
    Shares

লাকসাম প্রতিনিধিঃ  সরকারী ভাবে গত ১৪ ডিসেম্বর সোমবার দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকারের নির্বাচন অনুষ্ঠানের পৌর নির্বাচনের তফসিল ঘোষনা করেছে। ফলে আসন্ন এ নির্বাচনে মেয়র প্রার্থীরা দলীয় প্রতীকে অংশ নিতে হবে। ২য় স্থানীয় নির্বাচনে সরাসরি দলীয় প্রতীকে রাজনীতির রং লাগছে। জাতীয় নির্বাচনের মত নিবন্ধিত দলগুলোই এ নির্বাচনে অংশ নিবে। ইতিমধ্যে লাকসাম পৌর এলাকায় বেজে উঠেছে নির্বাচনী ঢামাঢোল। শুরু হয়েছে অনেকেরই প্রার্থীতা নিয়ে গুঞ্জন। আবার কেউ কেউ মনে করেন ভোটাররা ব্যাক্তি দেখে নয় বরং প্রতীক দেখেই তারা ভোট দিবেন। পুরো শহর জুড়ে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। এ নির্বাচনে অনেকটাই তৎপর শাসকদলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা থাকলেও প্রতিপক্ষ বিরোধীরা রয়েছে অনেকটা কৌসুলী ভূমিকায়। তবে কয়েকদিনের মধ্যে প্রধান দুই দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে চুড়ান্ত তালিকা পাওয়া যাবে বলে ধারণা করছেন অনেকেই।
সরজমিনে ঘুরে দেখা যায়, লাকসাম পৌরসভার এ গুরুত্বপূর্ন নির্বাচনের দিনক্ষন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই সম্ভাব্য প্রার্থীদের দূঃচিন্তাও বাড়ছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাপ ৯টি ওয়ার্ডকে কাঁপিয়ে তুলেছে। বিশেষ করে ক্লান্তিহীন দৌড়ঝাপে এগিয়ে রয়েছেন ক্লিন ইমেজ ও তরুন প্রজন্মের প্রার্থীরা। তাদের পক্ষে জোরালো ভূমিকা রাখতে নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনায় নির্বাচনী প্রচারনা চালাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। এ নির্বাচনী বিধিমালায় বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার সুযোগ নেই বলে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীরা পড়েছেন মহাটেনশনে। তবুও বসে নেই সম্ভাব্য প্রার্থীদের কেউ কেউ। এদিকে লাকসাম পৌরসভার স্থানীয় লোকজন এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখবেন এমন প্রার্থীকে বেচে নিবেন তবে কোন বহিরাগত কিংবা বিতর্কিত লোককে ভোট দিবেন না তারা। আবার পাশাপাশি চলছে এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে চুল ছিড়া হিসাব নিকাশ ও নানাহ সমীকরন।
পৌর এলাকার বিভিন্ন মাধ্যমের সূত্রগুলো জানায়, এ অঞ্চলের রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভাজনসহ পৌর শহরের অপরিকল্পিত নগরায়নের তাল-মাতাল অবস্থাকে গুডবাই জানিয়ে নগরবাসীর কল্যানে সুষ্ঠ পরিকল্পনা নিয়ে ক্লিন ইমেজে নির্বাচনী কৌশল সাজাতে পারবে তিনিই কেবল ফলাফল ঘরে নিতে পারবেন বলে ধারনা করছেন অনেকেই। তৃণমূল থেকে কেন্দ্রীয় হাইকমান্ড সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্য থেকে যাকে দলীয় প্রতীকে মনোনয়ন দিবে সকল নেতাকর্মী তারই নির্বাচন করতে হবে এটাই স্বাভাবিক কিন্তু মাঠ পর্যায়ে পর্দার অন্তরালে ঘটতে পারে নাটকীয় সমীকরন। প্রার্থীরা চোখের ঘুম হারাম করে ছুটছেন এলাকার ভোটারদের কাছে। জমে উঠেছে নির্বাচনী হাওয়া তবে এলাকার মানুষ বিগত কয়েক বছর ধরে ভোটের উপর আস্তা হারিয়ে ফেলেছে। দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে রয়েছে হাজারো বির্তক। এ ছাড়া এ পৌর নির্বাচনে ৯টি ওয়ার্ডে ২১টি ভোট কেন্দ্রে পরুষ ২৪হাজার ৫শ ১৬ ও মহিলা ২৪ হাজার ১শ ৯৩ ভোটার ভোট দিবে। তফসিল অনুযায়ী মনোয়ণ পত্রের জমার শেষ তারিখ ৩১ ডিসেম্বর, বাচাই ৩রা জানুয়ারী প্রত্যাহার ১০ই জানুয়ারী, ভোট গ্রহন ৩০শে জানুয়ারী অনুষ্ঠিত হবে।
স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রগুলো আরও জানায়, সম্ভাব্য প্রার্থীদের পক্ষে তাদের সমর্থকরা সর্বদা মাঠ গরম করে রেখেছে। পুরো শহর এলাকাজুড়ে যেন মহা উৎসবের আমেজ। মেয়র প্রার্থীদের প্রচারনার পাশাপাশি কাউন্সিলর ও মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থীরাও বসে নেই। বিশেষ করে প্রার্থীদের গনসংযোগ আর নানাহ রকম কৌসুলী প্রচারনায় সরগম পৌর শহরের ৯টি ওয়ার্ডের অলিগলি। তারা মহল্লা-মহল্লায় গিয়ে চায়ের দোকান, ক্লাব-সমিতি, দলীয় কার্যালয়সহ নির্বাচনী আড্ডা আর আলাপচারিতায় নির্বাচনী পরিবেশ চাঙ্গা করে তুলছে। কেউ কেউ ইতিমধ্যে জেলা-উপজেলা থেকে কেন্দ্রীয় শীর্ষনেতাদের দ্বারে দ্বারে মনোনয়ন লাভে ধর্না দিচ্ছেন। যোগ দিচ্ছেন এলাকার বিভিন্ন ধর্মীয়, সামাজিক, দলীয় অনুষ্ঠান এবং ঘুরছেন আত্মীয়-স্বজনদের বাড়ী। এ পর্যন্ত সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে মেয়র পদে শাসকদলের এ অঞ্চলের রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান লাকসাম পৌরসভা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও দৌলতগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারন সম্পাদক তাবারক উল্যাহ কায়েস, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মহব্বত আলী, বর্তমান মেয়র অধ্যাপক আবুল খায়ের, লাকসাম উপজেলা আওয়ামীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এড.রফিকুল ইসলাম হিরা, বিরোধী দল বিএনপির মেয়র পদে সিএনএফ ব্যবসায়ী মনিরুজ্জামান মনির, ব্যাবসায়ী বেলালুর রহমান মজুমদার ও সতন্ত্র প্রার্থী হিসোবে নওয়াব ফয়জুন্নেছার বংশধর ফজলে রহমান চৌধুরী আয়াজের নাম শুনা যাচ্ছে। তবে সুনামধন্য শিল্প পরিবার ভাইয়া গ্রপের কেউ-কেউ এ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন। এ ছাড়া পৌর এলাকার ৯টি ওয়ার্ডে প্রায় ২৫/৩০ জন কাউন্সিলর ও প্রায় ৭/৮জনের মত মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থী এ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন। তবে এ নির্বাচনে ভোটারদের কাছে ক্লিন ইমেজধারী ও নবীন শিক্ষিত প্রার্থীরাই প্রাধান্য পাবে দাবী ভোটারদের।
এ দিকে বিগত নির্বাচনগুলো পরিস্থিতির আলোকে রাজনীতি কিংবা পারিবারিক সম্প্রতি বজায় রেখে বেশিরভাগ ভোটার আঞ্চলিকতার বিষয়টি মাথায় রেখে এবং প্রার্থী ও প্রতীক নিয়েও ভাবছেন কেউ কেউ। অনেক ক্ষেত্রে দলীয় পরিচয়ে চিহ্নিত হওয়ার ভয়ে স্থানীয় পেশাজীবি ও সুশীল সমাজের লোকজন ইচ্ছা থাকা স্বত্তেও এ নির্বাচন থেকে দূরে রয়েছেন বলে দাবী রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। অপরদিকে এ নির্বাচন যাতে সহিংসতামুক্ত পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয় তার জন্য স্থানীয় সংশ্লিষ্ট প্রশাসন অনেকটাই প্রস্তুত। পাশাপাশি এ নির্বাচনের সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সকল বির্তকের উদ্ধে উঠে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হিসাবে এ নির্বাচনটি পরিচালনা করবেন বলে প্রত্যাশা পৌরবাসীর।

 

 

  • 12
    Shares
  • 12
    Shares