408 বার দেখা হয়েছে বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

শর্ত সাপেক্ষে জামিন পেলেন সাংবাদিক রোজিনা

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়ের করা মামলায় আদালতের তৃতীয় কার্যদিবসে এসে জামিন পেয়েছেন প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলাম। পাসপোর্ট জমা দেওয়ার শর্তে পাঁচ হাজার টাকার বন্ডে তার জামিন আদেশ মঞ্জুর করেছেন আদালত।

সচিবালয় থেকে নথি চুরির অভিযোগে তার নামে ১৯২৩ সালের অফিশিয়াল সিক্রেটস আইনে মামলা করেছিল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। মামলায় একরাত থানা হাজতে ও পাঁচ দিন কারাগারে থাকার পর জামিন পেলেন রোজিনা। তার পক্ষের আইনজীবীরা বলছেন, জামিন আদেশ পৌঁছানোর পর বিকেলের আগেই রোজিনা কারামুক্ত হবেন বলে তারা আশাবাদী।

 

রোববার (২৩ মে) ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিম বাকী বিল্লাহর ভার্চুয়াল আদালত রোজিনার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (২০ মে) রোজিনার জামিন আবেদনের শুনানি নিয়ে আদেশের জন্য আজকের দিন নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন এই আদালত।ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক বাকী বিল্লাহ বলেছেন, গণমাধ্যম গণতন্ত্রের অন্যতম অনুষঙ্গ। গণমাধ্যমের কারণে অন্যান্য প্রতিষ্ঠান দায়িত্বশীল আচরণ করে থাকে। কোর্ট গণমাধ্যম একে অপরের বাধা হিসেবে কাজ নয়, পরিপূরক হয়ে কাজ করে।

আজ রবিবার (২৩ মে) সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের জামিন মঞ্জুরের পর রাষ্ট্র ও আসামি পক্ষের আইনজীবীদের উদ্দেশ্যে এমন মন্তব্য করেন তিনি। একইসঙ্গে সাংবাদিক রোজিনাকে দায়িত্ব পালনে আরও সতর্ক হতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। অফিসিয়াল সিক্রেসি অ্যাক্টের মামলায় পাসপোর্ট জমাদানের শর্তে রোজিনা ইসলামের জামিন মঞ্জুর করেন বিচারক।

রোজিনা ইসলামের আইনজীবী এহসানুল হক সমাজী, জোতির্ময় বড়ুয়া ও আমিনুল গনি টিটো ভার্চুয়াল আদালতে শুনানিতে অংশ নেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের (সিএমএম) পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ আবু। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে তার বক্তব্যে বলেন, শর্তসাপেক্ষ অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেওয়া যেতে পারে রোজিনা ইসলামকে। আসামিপক্ষের এহসানুল হক সমাজী তার বক্তব্য সমর্থন করেন। পরে পাসপোর্ট জমা দেওয়া ও পাঁচ হাজার টাকার বন্ডে রোজিনা ইসলামকে জামিন দেওয়া হয়।

 

এর আগে সোমবার (১৭ মে) রাতে শাহবাগ থানায় মামলা দায়েরের পর মঙ্গলবার (১৮ মে) রোজিনাকে আদালতে নেওয়া হয়েছিল। ওইদিন পুলিশের রিমান্ড আবেদন নাকচ করে দিয়ে এবং রোজিনার জামিন আবেদন অনিষ্পন্ন রেখে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছিলেন। একইসঙ্গে জামিন আবেদনের বিষয়ে শুনানির জন্য বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেন।

সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে গ্রেফতারের পর থেকেই তার মুক্তির দাবিতে সরব হয় দেশের সকল সাংবাদিক ইউনিয়ন ও সংগঠনসমূহ। এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থা। সিনিয়র এই সাংবাদিকের মুক্তির দাবিতে লাগাতার কর্মসূচির ঘোষণা ছিল বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা রিপোর্টারস ইউনিটিসহ দেশের প্রায় সকল সাংবাদিক সংগঠনের। রোজিনা ইসলামের মুক্তির দাবিতে গত দুইদিন সারাদেশে মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছেন সাংবাদিকেরা।

এর আগে ১৭ মে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব শিব্বির আহমেদ বাদী হয়ে রোজিনার বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ এনে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ১৮৬০ সালের পেনাল কোডের ৩৭৯ ও ৪১১ ধারা এবং অফিসিয়াল সিক্রেসি অ্যাক্টের ৩ ও ৫ ধারা অনুযায়ী রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিবের একান্ত সচিবের দফতরে প্রবেশ করেন রোজিনা ইসলাম। এ সময় একান্ত সচিব দাফতরিক কাজে সচিবের কক্ষে অবস্থান করছিলেন। রোজিনা ইসলাম দাফতরিক গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র শরীরের বিভিন্ন স্থানে লুকান এবং মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ছবি তোলেন। ঘটনার সময় সচিবের দফতরে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য মো. মিজানুর রহমান খান বিষয়টি দেখতে পেয়ে তাকে বাধা দেন এবং তিনি নির্ধারিত কর্মকর্তার অনুপস্থিতিতে কক্ষে কী করছেন, তা জানতে চান।

অভিযোগে আরও বলা হয়, এ সময় রোজিনা ইসলাম নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দেন। পরবর্তী সময়ে অতিরিক্ত সচিব কাজী জেবুন্নেছা বেগম, উপসচিব জাকিয়া পারভীন, সিনিয়র সহকারী সচিব শারমীন সুলতানা, সচিবের একান্ত সচিব মো. সাইফুল ইসলাম ভূঞা, সিনিয়র সহকারী সচিব মোসাদ্দেক মেহদী ইমাম, অফিস সহায়ক মো. মাহফুজুল ইসলাম, সোহরাব হোসেনসহ অন্যান্য কর্মকর্তা ও স্টাফরা ঘটনাস্থলে আসেন এবং অতিরিক্ত সচিব কাজী জেবুন্নেছা বেগম তল্লাশি করে রোজিনা ইসলামের কাছ থেকে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র এবং ডকুমেন্টসের ছবি সম্বলিত মোবাইল উদ্ধার করেন। বর্ণিত ঘটনায় প্রতীয়মান হয় যে ডকুমেন্টসগুলো রোজিনা ইসলাম চুরি করে নিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় সচিবালয়ের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বে শাহবাগ থানার মহিলা পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তাকে জিম্মায় নেন।