শায়খুল ইসলাম আল্লামা আহমদ শফি (রাহি.) এর মৃত্যুর ৫ বছর পূর্ণ হলো :

লেখক: দেলোয়ার হোসাইন মাহদী
প্রকাশ: ৪ মাস আগে

একবিংশ শতাব্দীর ইসলামী নবজাগরণের প্রতীক, অবিসংবাদিত আধ্যাত্মিক রাহবার, এদেশের কোটি কোটি তাওহীদী জনতার হৃদয়ের স্পন্দন, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহামান্য প্রতিষ্ঠাতা আমীর, দারুল উলুম হাটহাজারীর মহাপরিচালক ও শাইখুল হাদীস, শাইখুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী রহ. ছিলেন বাংলাদেশ তথা উপমহাদেশের একজন প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন।

 

তিনি ১৯৩০ খ্রিষ্টাব্দে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া থানার নওয়াবীঘোনা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশব থেকেই তিনি দ্বীনি শিক্ষায় মনোনিবেশ করেন এবং পরবর্তীতে ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দে উচ্চশিক্ষা লাভ করেন। সেখানে তিনি উপমহাদেশের নামকরা আলেমদের কাছ থেকে হাদীস, তাফসীর, ফিকহ ও অন্যান্য ইসলামী বিদ্যা অর্জন করেন। দেশে ফিরে দীর্ঘ সময় দারুল উলুম হাটহাজারীতে শিক্ষকতা ও হাদীসের দরস প্রদান করে অসংখ্য আলেম তৈরি করেন।

 

তিনি কেবল একজন শিক্ষাবিদই ছিলেন না বরং ছিলেন যুগের এক সাহসী নেতা। মুসলিম উম্মাহর ঈমান-আকীদা, ইসলামী শিক্ষা, পর্দা-হিজাব, এবং সুন্নাহর প্রচারে তাঁর ভূমিকা ছিল অনন্য। ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তিনি সর্বদা সোচ্চার ছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ একটি শক্তিশালী জনআন্দোলনে পরিণত হয়। কোটি কোটি তাওহীদী জনতা তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে ইসলামী মূল্যবোধ রক্ষার সংগ্রামে অংশগ্রহণ করে।

 

আল্লামা শাহ আহমদ শফী রহ. ছিলেন একাধারে দৃঢ় আকীদার দাঈ, আপসহীন ইসলামী নেতা, মমতাময় শিক্ষক এবং আধ্যাত্মিকতার বাতিঘর। ২০২০ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ সেপ্টেম্বর এই মহামানব ইন্তেকাল করেন। আজ তাঁর ইন্তেকালের পাঁচ বছর পূর্ণ হলো।

 

আমরা মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করছি তিনি যেন তাঁর জীবনের সকল ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করে দেন, তাঁর দাওয়াত ও ত্যাগকে কবুল করেন এবং জান্নাতুল ফেরদৌসের উঁচু মাকামে আসন দান করেন। আমীন।

লেখক : শেখ আরিফ বিল্লাহ আজিজি

কেন্দ্রীয় মূখ্য সংগঠক : বৈষম্য বিরোধী কওমি ছাত্র আন্দোলন