শিকারিদের ফাঁদে আটকে পড়া আহত সুন্দরবনের বাঘ সুস্থ হতে লাগতে পারে আরও দুই–তিন সপ্তাহ, চিকিৎসা চলছে খুলনায়

লেখক: Arisha Eme
প্রকাশ: ২ মাস আগে
শিকারিদের ফাঁদে আটকে পড়া আহত সুন্দরবনের বাঘ সুস্থ হতে লাগতে পারে আরও দুই–তিন সপ্তাহ, চিকিৎসা চলছে খুলনায়

হরিণ শিকারিদের পাতা ফাঁদে আটকে পড়া সুন্দরবন থেকে উদ্ধারকৃত আহত বাঘটি পুরোপুরি সুস্থ হতে আরও দুই থেকে তিন সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। তবে গত দুই দিন সামান্য খাবার গ্রহণ করায় বাঘটির শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে।

বুধবার সকালে বাঘটি ভয়ংকর চেহারায় গর্জন করেছে এবং মানুষ দেখলেই অস্বাভাবিক ও আক্রমণাত্মক আচরণ করছে। ফাঁদে আটকে পড়ার কারণে বাঘটির সামনের বাম পায়ের শিরা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেখানে কিছু সময় রক্ত চলাচল বন্ধ ছিল। এতে বাঘটি তার স্বাভাবিক শক্তি অনেকটাই হারিয়ে ফেলেছিল।

বুধবার দুপুরে খুলনা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সুন্দরবন বন বিভাগের পক্ষ থেকে এসব তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ বলেন, গত ৪ জানুয়ারি সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জ এলাকা থেকে আহত বাঘটিকে উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে বাঘটি বন বিভাগের খুলনা বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

তিনি জানান, উদ্ধারকালে বাঘটি অত্যন্ত দুর্বল অবস্থায় ছিল। তবে চিকিৎসা শুরু হওয়ার পর ধীরে ধীরে পানি পান ও খাদ্য গ্রহণ করছে। বাঘটির ভেতরে বন্য ক্ষিপ্রতা ধীরে ধীরে ফিরে আসছে, যা তার সুস্থতার একটি ইতিবাচক লক্ষণ। ফাঁদে আটকে থাকার কারণে সামনের বাম পা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও চলনভঙ্গি দেখে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের ধারণা, কোনো হাড় ভাঙেনি, যা আশাব্যঞ্জক।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অনুষদের অধ্যাপক ড. হাদী নূর আলী খান বলেন, গত দুই দিন বাঘটি পানি পান করেছে এবং সামান্য মাংস খেয়েছে। মাংসের সঙ্গে প্রয়োজনীয় ওষুধ মিশিয়ে অল্প অল্প করে খাবার দেওয়া হচ্ছে। কাছে গেলেই বাঘটি আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে এবং বিকট শব্দে গর্জন করছে, যা তার স্বাভাবিক আচরণে ফেরার ইঙ্গিত দেয়।

তিনি আরও বলেন, বাঘটির সম্পূর্ণ সুস্থ হতে দুই সপ্তাহ থেকে দুই মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। বন বিভাগ ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বাঘটির চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছেন।

  • চিকিৎসা চলছে খুলনায়
  • শিকারিদের ফাঁদে আটকে পড়া আহত সুন্দরবনের বাঘ সুস্থ হতে লাগতে পারে আরও দুই–তিন সপ্তাহ