399 বার দেখা হয়েছে বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

শিবচরের একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুলের সনদটি নকল নিশ্চিত করলো জাতীয় বিশ্ব বিদ্যালয় ও ঢাকা কলেজ।

  • 7
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    7
    Shares

মাজহারুল ইসলাম (রুবেল) মাদারীপুর প্রতিনিধি: তদন্ত কমিটির অনুসন্ধানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষের লিখিত পত্রে শিবচরের একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের মাস্টার্সের সনদটি নকল ও জালিয়াতির বিষয়ে প্রমানিত হলো। এ ব্যাপারে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের সনদটি “নকল সনদ” এবং নারায়নগঞ্জের ফতুল্লার মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের সনদটি “আসল সনদ” বলে নিশ্চিত করেছেন। অপরদিকে প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের মাস্টার্স ভর্তির কোন তথ্য উপাত্ত ঢাকা কলেজের ভর্তি রেজিস্ট্রারে পাওয়া যায়নি। তবে নারায়নগঞ্জের ফতুল্লার মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের মাস্টার্স ভর্তিসহ তথ্য উপাত্ত প্রমাণাদি সঠিক পাওয়া গেছে বলে ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ লিখিত পত্রে শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়েছেন। ওই জাল সনদধারী প্রধান শিক্ষককে অভিযোগের পরই সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি।

শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিস সূত্র জানায়, জাতীয় বিশ্ব বিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের অফিসের আজ ২৬ নভেম্বর জাতীঃ/বিঃ/পরীঃ/সনদ/৪৪৯/২০০৫/৫৫৭৯ নং স্মারকে প্রেরিত পত্রে, দুটি সাময়িক সনদের ফটোকপি যাচাই করে মতামত প্রদান করেন। এতে ১ নং সাময়িক সনদ এর ফটোকপি তথ্য জাতীয় বিশ্ব বিদ্যালয়ের রেকর্ড অনুযায়ী সঠিক নয় এবং ২নং সাময়িক সনদ পত্রের তথ্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেকর্ড অনুযায়ী সঠিক বলে তিনি চিঠিতে উল্লেখ করেন। উল্লেখ্য ১নং সাময়িক সনদপত্রের ফটোকপি শিবচরের শেখ ফজিলাতুন্নেছা সরকারী পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের ছবি সংবলিত। ২নং সাময়িক সনদপত্রের ফটোকপি নারায়নগঞ্জের ফতুল্লা থানার মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের ছবি সংবলিত।

এছাড়াও ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক নেহাল আহমেদ ২৬ নভেম্বর ঢাঃকঃ/৭৬৭/২০২০ তারিখের চিঠিতে শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে দুটি প্রত্যয়নপত্রের মাধ্যমে ওই কলেজের মাস্টার্স শেষ পর্ব ইংরেজী বিভাগে শিক্ষার্থী মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাময়িক সনদের ব্যাপারে লিখিতপত্রে শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানান। তিনি বলেন শিবচরের মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের মাস্টার্স ইংরেজি সনদের স্বপক্ষে অত্র কলেজের নথিতে কোন তথ্য নেই। এছাড়া নারায়নগঞ্জের ফতুল্লার মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের মাস্টার্স ইংরেজি সনদের স্বপক্ষে অত্র কলেজের নথিতে সঠিক পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করেন।

শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিস সূত্র জানায়, নারায়নগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার ভুইঘর পশ্চিমপাড়া গ্রামের শাহাবুদ্দিন সাউদ ও রাশিদা বেগমের ছেলে মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম এর অভিযোগের করেন যে, শিবচরের শেখ ফজিলাতুন্নেছা সরকারী পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম তার মাস্টার্স এর সনদ ব্যবহার করে। ২ ব্যক্তি দাবিকৃত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ঢাকা কলেজে ২০০৯-১০ বছরে মাস্টার্স ইংরেজি বিষয়ে মাস্টার্স সনদে রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন এবং নাম মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম একই। এ কারণে সনদটি যাচাই করা হয়।

শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গত (২ নভেম্বর) তারিখ ৭৬০ নং স্মারকে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ও একই দিনে ৭৬১নং স্মারকে ঢাকা কলেজ অধ্যক্ষের কাছে চিঠি লিখেন। এছাড়া গত ১ নভেম্বর প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের কাছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তার স্বপক্ষে প্রমান পত্রাদিসহ লিখিত জবাব চেয়ে চিঠি দিয়েছেন।

শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও শেখ ফজিলাতুন নেছা সরকারী পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোঃ আসাদুজ্জামান জানান, দীর্ঘ ২৪ দিন পর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের ও ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষের চিঠি জবাব পাওয়া গেছে। তিঁনি দুটি সাময়িক সনদের ফটোকপি যাচাই করে মতামত প্রদান করেন। এতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ১ নং সাময়িক সনদ এর ফটোকপি তথ্য জাতীয় বিশ্ব বিদ্যালয়ের রেকর্ড অনুযায়ী সঠিক নয় এবং ২ নং সাময়িক সনদ পত্রের তথ্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেকর্ড অনুযায়ী সঠিক বলে তিনি চিঠিতে উল্লেখ করেন। ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষের তদন্তে শিবচরের শেখ ফজিলাতুন্নেছা সরকারী পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের সনদের বিষয়ে কোন তথ্য উপাত্ত ঢাকা কলেজে পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নারায়নগঞ্জের ফতুল্লার মোঃ রফিকুল ইসলামের মাস্টার্স ভর্তিসহ সকল তথ্য উপাত্ত প্রমাণাদি পাওয়া গেছে।

মাদারিপুর জেলা প্রশাসক ড.রহিমা খাতুনের কাছে লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রেকসোনা খাতুনের তদন্ত কমিটি তদন্ত কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ইতোপূর্বে প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে নারায়নগঞ্জের ফতুল্লা মডেল থানায় (জিডি- ১৫০৮) এবং ওই বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী মোঃ জহিরুল ইসলামের শিবচর থানায় জিডির (নং-১২০৮) তদন্ত করতে মাঠে নেমেছে পুলিশ।

পথিকনিউজ/অনামিকা

  • 7
    Shares
  • 7
    Shares