56 বার দেখা হয়েছে বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

শিবচরে ভাড়াটিয়া স্বামী স্ত্রীর সহযোগিতায় কিশোরীকে তুলে নিয়ে ধর্ষন করলো কর্মচারী, স্বামী স্ত্রী গ্রেফতার

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
মাজহারুল ইসলাম (রুবেল), শিবচর(মাদারীপুর) প্রতিনিধিঃ মাদারীপুরের শিবচরে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ফুসলিয়ে তুলে নিয়ে গিয়ে রাতভর ধর্ষনের অভিযোগ পাওয়া গেছে জাকির হাওলাদার (২৫) নামের এক দোকান কর্মচারীর বিরুদ্ধে। ধর্ষন শেষে ওই কিশোরীকে রাস্তায় ফেলে পালিয়ে যায় জাকির। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় ওই কিশোরী বাড়ি ফিরে আসলে তার পরিবার থানায় মামলা দায়েরের পর পুলিশ ধর্ষক জাকিরের সহযোগী ওই কিশোরীর পাশর্^বর্ত্তী ভাড়াটিয়া স্বামী ও স্ত্রীকে গ্রেফতার করেছে।
মামলার নথি ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বন্দরখোলা ইউনিয়নের গোয়ালকান্দা এলাকার বাসিন্দা হিন্দু এক দরিদ্র দিনমজুর নিজের ঘর-বাড়ি না থাকায় স্ত্রী ও এক মেয়েসহ  প্রায় দশ বছর আগে একই উপজেলার পাঁচ্চর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর বাজার সংলগ্ন এক মুসলিম পরিবারে আশ্রয় নেয়। মুসলিম পরিবারটি তাদের অসহায়ত্ব দেখে নিজেদের একটি ঘরে ঘরভাড়া ছাড়াই তাদের বসবাস করতে দেয়। ওই দরিদ্র দিনমজুর বাহাদুরপুর মাছ বাজারে মজুরী করে তাই দিয়ে জন্মগত বধির স্ত্রী ও একমাত্র মেয়েকে নিয়ে কোনমতে সংসার পরিচালনা করছিল।
দারিদ্রতার কারনে মেয়েটিকে প্রাইমারি পাশের পর আর লেখাপড়া করাতে পারেনি পরিবার।  ১৪ বছর বয়সী কিশোরী মেয়েটি অন্যের দেওয়া একটি সেলাই মেশিনে সেলাইয়ের কাজ শিখছিল। কয়েক বছর আগে দেলোয়ার বেপারী (৩৫) ও তার স্ত্রী জান্নাত (২৭) ওই কিশোরীদের পাশের ঘর ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করে। দেলোয়ার বাসায় নিমকি, মুড়লিসহ তেলের ভাজা খাবার তৈরি করে এলাকার বিভিন্ন হাটে বিক্রি করতো।
তার এ কাজে সহযোগীতার জন্য ৩/৪ জন কর্মচারী ছিল। প্রায় এক বছর যাবত একই উপজেলার মাদবরচর ইউনিয়নের সাড়ে এগার রশি লপ্তিকান্দি গ্রামের মৃত আনোয়ার হাওলাদারের ছেলে জাকির হাওলাদার দেলোয়ার বেপারীর ব্যবসায়ীক কাজে কর্মচারী হিসেবে নিযুক্ত হয়। জাকির এখানে কাজ করার পর থেকে তার লোলুপ দৃষ্টি পড়ে ওই কিশোরীর উপর। জাকির প্রায়ই ওই কিশোরীকে কুপ্রস্তাব দিত। এ ব্যাপারে জাকিরকে দেলোয়ার ও তার স্ত্রী জান্নাত সহযোগীতা করতো।
গত ২ মার্চ মঙ্গলবার দুপুরে দেলোয়ার ও তার স্ত্রী জান্নাত প্রানে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে ওই কিশোরীকে বাসা থেকে বের করে বাহাদুরপুর বাজার সংলগ্ন রাস্তায় নিয়ে যায়। সেখানে ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সা নিয়ে জাকির অপেক্ষা করছিল। সেখানে দেলোয়ার ও জান্নাতের সহযোগীতায় জাকির জোরপূর্বক কিশোরীর মুখ ও হাত বেঁধে অটোরিক্সায় করে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার মালিগ্রাম এলাকায় একটি বাড়িতে নিয়ে যায়। ওই বাসায় আটকে রেখে প্রানে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে কিশোরীকে জাকির রাতভর ধর্ষন করে। পরদিন বুধবার দুপুরে কিশোরীকে অসুস্থ্য অবস্থায় জাকির অটোরিক্সায় করে শিবচরের পাঁচ্চর এলাকায় রাস্তার পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা মেয়েটিকে উদ্ধার করে এক বাসায় রাখে।
পরদিন বৃহস্পতিবার স্থানীয়রা মেয়েটিকে বাহাদুরপুর তার বাসায় পৌছে দেয়। এদিকে মেয়ে নিখোঁজ হওয়ায় দরিদ্র বাবা বিভিন্ন স্থানে মেয়েকে পাগলের মত খুজে বেড়াচ্ছিল। মেয়ে বাসায় আসলে তার কাছে ধর্ষনের ঘটনা শুনে ওই দিনই ৪ মার্চ মেয়েটির বাবা বাদি হয়ে জাকির, দেলোয়ার ও জান্নাতকে আসামী করে ধর্ষন মামলা দায়ের করে। বৃহস্পতিবার রাতে বাসা থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ অভিযান চালিয়ে দেলোয়ার ও তার স্ত্রী জান্নাতকে গ্রেফতার করে।
ওই বাড়ির মালিক বলেন, এই মেয়েটির পরিবার খুবই দরিদ্র। বয়সের কারনে ওর বাবা ঠিকমত কাজও করতে পারে না। ওদের অসায়ত্ব দেখে আমরা আমাদের বাড়ির একটি ঘরে ওদের ভাড়া ছাড়াই থাকতে দিয়েছি। এই মেয়েটির জীবন নষ্ট করার ক্ষেত্রে জাকিরসহ যারা জড়িত আমরা তাদের দ্রæত গ্রেফতার করে কঠিন বিচারের দাবী জানাই।
ধর্ষনের শিকার ওই কিশোরী বলেন, আমাকে প্রায়ই জাকির কুপ্রস্তাব দিত। দেলোয়ার আর জান্নাত জাকিরের কুপ্রস্তাবে রাজি হতে আমাকে অনেক চাপ দিতো। আমি তাদের সাথে জাকিরের সাথে দেখা করতে রাস্তায় না গেলে আমার বাবা, মা ও আমাকে মেরে ফেলবে বলে ভয় দেখিয়ে আমাকে হাত ও মুখ বেঁধে অটোতে করে এক বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে রাতভর জাকির আমাকে ধর্ষন করে পরদিন অটোতে করে এনে রাস্তার পাশে ফেলে দিয়েছে। আমি ওদের বিচার চাই।
কিশোরীর বাবা বলেন, আমি অসহায় মানুষ। আমার মেয়ের জীবন যারা নষ্ট করেছে আমি আইনের কাছে তাদের কঠিন বিচারের দাবী জানাই। আর মূলহোতা জাকিরকে যেন পুলিশ তারাতারি গ্রেফতার করে এটাই আমার চাওয়া।
শিবচর থানার অফিসার ইনচার্জ মো: মিরাজ হোসেন বলেন, ধর্ষনের অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথে অভিযান চালিয়ে ধর্ষনকারীর সহযোগী দেলোয়ার ও তার স্ত্রী জান্নাতকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মূলহোতা জাকিরকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।