শিশুর লাশ নয়, সমাজের বিবেক পড়ে ছিল মসজিদের মেঝেতে

লেখক:
প্রকাশ: ১০ মাস আগে
শিশুর লাশ নয়

পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসীর ধারণা, শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। এখনও ঘটনাটি তদন্তাধীন, পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। তবে প্রাথমিকভাবে যা প্রকাশ পেয়েছে, তা সমাজকে একবার নয়—বারবার নাড়া দিয়ে যায়। কারণ এটি কেবল একটি হত্যাকাণ্ড নয়, এটি আমাদের সমাজব্যবস্থার নৈতিক পতনের জ্বলন্ত প্রমাণ।

একটি শিশু যখন মসজিদের মতো নিরাপদ যখন কেউ ধর্ষন বা হত্যার মতো অপরাধ করে, তখন বুঝতে হবে আমাদের সামাজিক মূল্যবোধ, ধর্মীয় শিক্ষাব্যবস্থা এবং পারিবারিক নৈতিকতা—সব কিছুতেই বড় ধরনের ছিদ্র সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের সমাজে সহানুভূতি, সততা এবং মানবিকতা প্রতিনিয়ত পিষ্ট হচ্ছে পাশবিকতা, ক্ষমার অযোগ্য বর্বরতা এবং বিচারহীনতার করাল গ্রাসে।

আমরা জানি, এই ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন নয়। ময়নার মতো বহু শিশু প্রতিদিন কোনো না কোনোভাবে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে তা প্রচারেই আসে না, আসলেও হারিয়ে যায় অন্য খবরের ভিড়ে। প্রশ্ন হলো, আমরা কি একেকটি হৃদয়বিদারক ঘটনার জন্য অপেক্ষা করব? না কি এখনই সোচ্চার হব?

আমরা মনে করি, এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে, সমাজে নৈতিক শিক্ষার চর্চা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পারিবারিকভাবে শিশুদের প্রতি যত্নবান হওয়ার সংস্কৃতি গড়ে তোলা আজ সময়ের দাবি।

এটি শুধুমাত্র একটি শিশুর লাশ নয়—এটি আমাদের বিবেকের প্রতিচ্ছবি। আরেকটি ময়না হারিয়ে যাওয়ার আগেই, আমাদের জাগতে হবে। বিচার চাই, কিন্তু তার চেয়েও বেশি চাই—এই সমাজে যেন আর কোনো শিশুর শৈশব অন্ধকারে হারিয়ে না যায়।