825 বার দেখা হয়েছে বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

শিশু অভিনয় শিল্পী মেধা স্বপ্ন দেখে একদিন আর্মি অফিসার হবে

  • 328
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    328
    Shares
দেলোয়ার উদ্দিনঃ এই যুগের মেধাবী শিশু শিল্পীদের মধ্যে সবার থেকে আলাদা ও গুনি শিশু শিল্পী মায়মুনা ইসলাম মেধা যে কিনা বিজ্ঞাপন, নাটক ও সিনেমায় সর্বক্ষেত্রে সমান তালে স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। বেশ কিছু বিষয় নিয়ে মেধার সাথে কথা বলেছেন দেলোয়ার উদ্দিন-
পথিক নিউজ -কেমন আছো?
মেধা– আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি।
পথিক নিউজ – নিজের সম্পর্কে কিছু বলো?
মেধা- আমি মায়মুনা ইসলাম মেধা মনিপুর মূল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, মিরপুর, ঢাকা, পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ি। আমার বয়স প্রায় ১১ বছর।
পথিক নিউজ – দুরন্ত টিভির নিয়মিত দর্শকদের সবাই তোমাকে চেনে। বাবা থাকে বাসায় নাটকের স্যুটিং সেটে তোমার অভিজ্ঞতা কেমন ছিল? মেধা – ধন্যবাদ। আসলে খুবই অল্প সময় হলো অভিনয়ে এসেছি। দুরন্ত টিভিতে ” বাবা থাকে বাসায়, সিজন ৩” আমার প্রথম ধারাবাহিক নাটক। নাটকটির পরিচালক গোলাম মুক্তাদির শান আংকেল, প্রধান সহকারী পরিচালক আরাফাত সোহান আংকেল,ভিডিওগ্রাফার হৃদয় সরকার আংকেল, প্রযোজনায় আলফা আই। ৩০ পর্বের ধারাবাহিক নাটকটির প্রতিটি পর্বেই আমার অভিনয়ের দৃশ্য রয়েছে। এখানে আমি খুবই অভিজ্ঞ অভিনেতা অভিনেত্রীদের সাথে কাজ করার সুযোগ পেয়ে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি, যেমন তৌকির আহমেদ আংকেল, বিজরী বরকতউল্লাহ আন্টি, স্বাগতা আন্টি, পংকজ আংকেল, ইমন আংকেল সহ আরো অনেক। তাদের কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার চেষ্টা করেছি। শিশুশিল্পী বন্ধুদের সাথে প্রতদিনই খুব মজা করেছি। পুরো টিমই ছিল অসাধারণ। সবাই আমার কাজের প্রশংসা করেছেন। বিশেষ করে তৌকির আংকেল আমার কাজে খুবই খুশী। বুঝতেই পারিনি এত গুলি দিন কিভাবে শুটিং সেটে কেটে গিয়েছে! এক কথায় অসাধারণ সময় কাটিয়েছি।
পথিক নিউজ – অভিনয়ে কিভাবে আসা?
মেধা– বাংলাদেশ শিশু একাডেমি, মিরপুরে আমি নাঁচ শেখা শুরু করি ২০১৫ সালে। টিচাররা আমাকে খুবই ভালবাসে, ২০১৮ সালে আমার নাঁচের টিচার ফাহমিদা কাকলী ম্যাডাম আমাকে প্রথম দুরন্ত টিভিতে নিয়ে যান ” দুরন্ত সময়,সিজন ২” নামে একটি অনুষ্ঠানে অডিশনের জন্য। সেখানে আমি সিলেক্ট হই এবং ভিন্ন ভিন্ন ১৩ টি পর্বে কাজ করার সুযোগ পাই। এভাবেই আমার অভিনয়ে আসা। তখন সবাই আমার কাজে খুশী হয়েছেন ও প্রশংসা করেছেন। এরপর দুরন্ত টিভিতে ১৩০ পর্বের একটি বিজ্ঞানভিত্তিক অনুষ্ঠান ” ভুলোস্টাইন” এ কাজ করেছি। এ অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান বিষয়ে হাতে কলমে কাজ করেছি। খুবই মজা পেয়েছি অনেক কিছু শিখেছি।এদিকে চলচ্চিত্রে আসা আমার আরেক নৃত্যগুরু জনাব এম আর ওয়াসেক স্যারের মাধ্যমে। এখানে নৃত্যকলার শামিম ভাইয়া এবং শরীফ ভাইয়ার কথা না বললেই নয় তারাই আমাকে পাঠান আমার প্রথম চলচ্চিত্র “এডভেঞ্চার অফ সুন্দরবন” এর অডিশনে।
পথিক নিউজ – অবসরে তোমার কি করতে ভালো লাগে ও অভিনয় জগৎটা কেমন লাগে?
মেধা- শুধু শুধু ঘরে বসে থাকাটা আমার খুবই অপছন্দ। সবসময় কোনো না কোনো কাজে ব্যস্ত থাকতেই আমি বেশি পছন্দ করি আর এভাবে ব্যস্ত থাকতে থাকতেই আমি A+ রেজাল্ট নিয়ে নাঁচের কোর্স সম্পন্ন করেছি ২০১৮ সালে। বর্তমানে ভরত নাট্যম এবং কত্থক নাঁচ শিখছি।খুব ভালো পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশন (BKF) থেকে Sotokan “BLACK BELT” (1st DAN) পেয়েছি ২০১৯ সালে। বর্তমানে কারাতে ইভেন্টে ন্যাশনাল গেমসের প্রস্তুতি নিচ্ছি।এরই ফাঁকে বাংলাদেশ সুইমিং ফেডারেশন, মিরপুরে সাঁতার শিখছি।অভিনয় জগৎ সম্পর্কে আমার ধারণা খুবই কম তবে অভিনয় করতে আমার খুবই ভালো লাগে।
পথিক নিউজ – তোমার ক্যারিয়ার ও ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে জানতে চাই?
মেধা- অভিনয়, নাঁচ, কারাতে এগুলো আমার শখ এই কাজগুলো করতে আমি খুবই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। যতদিন সুযোগ পাবো ততদিন আমি এই কাজগুলো করেই যাবো। ক্যারিয়ার নিয়ে এখনও আমি কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারিনি। কারণ সব কাজই আমার ভালো লাগে। কখনও মনে হয় অভিনেত্রী হব, আবার কখনও ডাক্তার হওয়ার সাধ জাগে, কখনও ইঞ্জিনিয়ার বা শিক্ষক হওয়ার ইচ্ছেও হয়। তবে আমার মনে মনে প্রবল ইচ্ছা আমি বড় একজন “আর্মি অফিসার” হব।
পথিক নিউজ – তোমার উল্লেখযোগ্য কিছু কাজের নাম বলবে?
মেধা- আমি বেশ কিছু টিভি বিজ্ঞাপণ এবং অনলাইন বিজ্ঞাপণে কাজ করেছি। ২ টি চলচ্চিত্রে কাজ করেছি। ১ম টি হলো শিশুতোষ চলচ্চিত্র “এডভেঞ্চার অফ সুন্দরবন”। লেখক: ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবাল স্যার। পরিচালক : আবু রায়হান জুয়েল আংকেল। যেহেতু শিশুতোষ চলচ্চিত্র কাজেই সকল স্কুল কলেজ যখন নিয়মিত হবে তখন সিনেমাটি রিলিজ হবে। ২য় টি হলো: চলচ্চিত্র “পায়ের ছাপ”। লেখক এবং পরিচালক: জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত পরিচালক সাইফুল ইসলাম মান্নু আংকেল। ছবিটি এ বছরের শেষদিকে রিলিজ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পথিক নিউজ – তোমার হাতে এখন কি কি কাজ রয়েছে?
মেধা – বেশ কিছু Tvc-Ovc ফটোশুট,নাটক এবং একটি নতুন চলচ্চিত্রের কাজ হাতে রয়েছে। পথিক নিউজ – মজার ঘটনা শুনতে চাই। মেধা- শুটিং শেষ করার পর সবাই ঘুমোতে গিয়েছে হঠাৎ শুনি কতগুলো কণ্ঠ চিৎকার করে ডাকছে- সিয়াম ভাইয়া, সিয়াম ভাইয়া! তাদের চিৎকার করে ডাকা শুনে সবার ঘুম ভেঙ্গে গিয়েছে তখন সকাল দশটা বাজে। আম্মু ভেবেছে নিশ্চয়ই নৌ-ডাকাত এসেছে। সারারাত জাগার পর সবাই আধোঘুমে হুড়মুড় করে উঠে পড়েছে। দরজা খুলে আম্মু বাইরে গেলো আর আমি আম্মুর পিছু পিছু। দেখি ১৪/১৫ জন ছেলে খালি গায়ে ভেজা শরীরে চিৎকার করে সিয়াম ভাইয়াকে ডাকছে। রাতে কখনও লঞ্চ চালানো হতো না। নিরাপদ কোনো এক জায়গায় থামিয়ে রাখা হতো। তবে সেটা নদীর পার হতে বেশ খানিকটা দূরে নদীর ভিতরের দিকে। পাশেই একটি গ্রাম থেকে ছেলেগুলো নদী সাঁতরে এসেছিল শুধু একনজর সিয়াম ভাইয়াকে দেখবে বলে। আমি অবাক হয়ে ভাবছি ওরা কীভাবে যেন জানলো এই লঞ্চে শুটিং হচ্ছে এবং এখানে সিয়াম ভাইয়াও আছে! যাই হোক তুরান আংকেল, পরিচালক জুয়েল আংকেলসহ জাহাজের লোকজন তাদের বোঝানোর চেষ্টা করল যে, সারারাত শুটিং করে সিয়াম ভাইয়া মাত্রই ঘুমাতে গিয়েছে তারা যেন পরে আসে।অভিনেতা সিয়ামের সঙ্গে শিশুশিল্পীরাও ঘুমোতে গেছে। নদী সাঁতরানো ছেলেগুলো একেবারেই নাছোড়বান্দা! তারা বলতে লাগলো সিয়াম ভাইয়াকে তারা শুধু একনজর দেখেই বিরক্ত না করে চলে যাবে। তারা বলল, এই নদীতে কুমির আছে তবুও সেই ভয় উপেক্ষা করে সিয়াম ভাইয়াকে দেখতে এসেছ
পথিক নিউজ- তোমাকে ধন্যবাদ ও শুভ কামনা রইলো।
মেধা- আপনাকেও অসংখ্য ধন্যবাদ।
  • 328
    Shares