586 বার দেখা হয়েছে বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

শিশু শিল্পী থেকে আজকের সফল কাস্টিং ডিরেক্টর মিরাজ

  • 388
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    388
    Shares
দেলোয়ার উদ্দিনঃ আমরা আমাদের চারপাশে অনেক নামি দামি বা উঠতি অভিনেতা দেখতে পাই।কেউই কিন্ত হঠাৎ করে এসেই একজন জনপ্রিয় অভিনেতা/অভিনেত্রী হয়ে উঠতে পারেননা অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে প্রতিষ্ঠিত হতে হয়েছে আর এর পিছনে কিছু অদৃশ্য মানুষের হাত থাকে। যারা কখনোই সামনে আসেননা রয়ে যায় লোকচক্ষুর আড়ালে, আর তারা আড়ালে থাকতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। তারা সৃষ্টিশীল মানুষ, তাদেরকে আমরা বলে থাকি কাস্টিং এজেন্সির ও’নার অথবা কাস্টিং ডিরেক্টর যার অধীনে থাকে একটি সুদক্ষ দল।
সারাবিশ্বেই বিজ্ঞাপন, নাটক, সিনেমা বা সাম্প্রতিক ওটিটিতে একটি ফিকশন নির্মাণ করার জন্য গল্পকার, চিত্রনাট্যকার, পরিচালক,প্রযোজক, অভিনেতা/অভিনেত্রী সহ প্রতিটি কলাকুশলীদের নিয়েই গড়ে ওঠে একটি টীম। টীমের প্রতিটি সদস্য তাদের নিজ নিজ জায়গা থেকে সেরাটা দিতে পারলেই একটি পরিপূর্ণ নাটক, বিজ্ঞাপন বা সিনেমা সফল হবার দৌড়ে অনেকটা এগিয়ে থাকে।সেই ভাবনা থেকে তরে তরে সাজিয়ে প্রোডাকশন হাউজ বা ডিরেক্টরের কাছে পিপিএম এর মাধ্যমে সম্পুর্ন নিজের চিন্তাভাবনার মাধ্যমে শিল্পী বাছাই করে উপস্থাপন করে থাকে।তখন একজন ডিরেক্টরকে একজন শিল্পীর দক্ষতা ও যোগ্যতা তুলে ধরে। আর এই প্রতিটা সেক্টরে দক্ষ এবং মানানসই শিল্পী এবং কলাকুশলীদের নির্বাচন করার কাজটি করে থাকেন একজন কাস্টিং ডিরেক্টর এবং তার টীম।
অন্যান্য দেশে একটি ভালো এবং নান্দনিক কাজের জন্য একজন কাস্টিং ডিরেক্টর এবং তার টীমের ব্যাপারে আলোচনা বা প্রশংসা শুনা গেলেও আমাদের দেশে এই প্রচলনটা নেই বললেই চলে।তবে নানা প্রতিবন্ধকতা ও বিপত্তি পার করে সময়ের সাহসী এক তরুণ আস্তে আস্তে বিনোদন অংগনে একটি স্বতন্ত্র জায়গা তৈরী করে চলেছেন।তিনি হচ্ছেন মেহরাজ হোসেন মিরাজ।যিনি কিংবদন্তী নায়িকা শাবানা, ববিতা সহ অসংখ্য মায়ের শিশু শিল্পী হয়ে অভিনয় করেছেন। অফিসিয়ালি মাত্র দুই বছরের ক্যারিয়ার এর মাঝে করোনা পরিস্থিতিতে বাধাগ্রস্ত হবার পরেও অনেকগুলো ভিন্নধর্মী এবং আলোচিত কাজ সফলতার সাথে সুসম্পন্ন করেছেন। আস্তে আস্তে এই মাধ্যমে বেশ জনপ্রিয় একটি নাম এম,এম, ফিল্মস কাস্টিং এজেন্সি।১৯৯৫ ইং সনে তার বাবার প্রতিষ্ঠিত এম এম কাস্টিং এজেন্সিতে নিজের মেধা ও দক্ষতা দিয়ে প্রতিষ্ঠানের এক্সিকিউটিভ প্রযোজক এবং কাস্টিং ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করছেন।মিজানুর রহমানের ব্যাপারে আরেকটু জেনে আসি ১৯৯৫ ইং সনের দিকে বাংলাদেশের সকল ধরনের চলচ্চিত্রে সহশিল্পী সরবরাহ করতেন মিজানুর রহমান। তখনকার সময়ে এখনকার মতো এত এত কাস্টিং এজেন্সি ছিলনা। তখন ডিরেক্টর ও প্রযোজক একসাথে বসে প্রথম সারির কিছু অভিনেতা ও অভিনেত্রী বাছাইয়ের কাজটি করতো বাকি প্রায় সব গুলি সহশিল্পীর যোগান দিত এম এম কাস্টিং এজেন্সি।
২০০৫(আনুমানিক) সিসিমপুর এর কাস্টিং এর দায়িত্বে ছিলেন এম এম কাস্টিং এজেন্সি। এছাড়া ৯৫ ইন সনের দিকে নায়ক রাজ রাজ্জাকের নেতৃত্বে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র জুনিয়র শিল্পীগোষ্ঠী নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি এবং প্রযোজক সমিতির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার সুযোগ্য উত্তরসুরী হচ্ছেন আজকের মেহরাজ হোসেন মিরাজ।
আজকাল ব্যাঙ এর ছাতার মতো কাস্টিং এজেন্সির ছড়াছড়ি এই ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন.. অভিনয়শিল্পী তৈরির নামে অভিনয় ক্যারিয়ার করে দেয়ার নামে মডেলিংয়ের নামে সাধারণ অভিনয় প্রেমি মিডিয়া প্রেমি মানুষের আবেগকে কেন্দ্র করে অভিনয় প্রশিক্ষণের নামে অভিনয়শিল্পীর ক্যারিয়ার করে দেয়ার নামে মডেল বানিয়ে দেয়ার নামে ইনস্টিউট,কাস্টিং এজেন্সির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানান।
তিনি আরো বলেন যারা অভিনয় কি জিনিসটা জানেনা তারা যদি অভিনয় প্রশিক্ষণের নামে প্রতারণা করে যাচ্ছে তাদেরকে উদ্দেশ্য করে বলেন একটা নিয়মের ভেতর এসে সঠিক তথ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে পরিপূর্ণ তথ্য উপস্থাপন করে ছাড়পত্র এনে তবেই এই শিল্পে বৈধ ভাবে ব্যবসা করতে পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি আক্ষেপ করে আরো বলেন অন্যান্য দেশে ক্যাস্টিং ডিরেক্টর কাস্টিং বিষয় বস্তুকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মাননা দিয়ে থাকে ও পরিপূর্ণ কাস্টিং ডিরেক্টরের একটি প্রজেক্টে সবথেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।কনটেন্ট অনুযায়ী ক্যাস্টিং ডিরেক্টর গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়ানো উচিত আমাদের দেশে।চলচ্চিত্রে নিয়মিত ক্যাস্টিং ডিরেক্টর দিয়ে ক্যারেক্টার নির্বাচন করা অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত।কাস্টিং এর একটা কমিউনিটি থাকা উচিত চাইলেই সবাই যেন কাস্টিং করতে না পারে এবং পরিপূর্ণ যোগ্যতা থাকলেই যেন ক্যাস্টিং ডিরেক্টর হতে পারে সেই দিকে সেই চর্চা অভ্যস্ত হওয়া উচিত।উন্নত রাষ্ট্রগুলোর মত বাংলাদেশও কাস্টিং ডিরেক্টরদের মূল্যায়ন করা সময়ের দাবি।
এই মাধ্যমে শুরুটা কিভাবে জানতে চাইলে তিনি বলেন ‘আসলে সেই ভাবে বলতে গেলে আমি পুরোপুরিভাবে কাজ শুরু করার আগেই এই মাধ্যমটা সম্পর্কে জানতাম। আমার বাবা তিনবছর আগে হঠাৎ করেই স্ট্রোক করেন। সেই সময় তার সহকারীরা বিভিন্নভাবে আমাদেরকে ঠকানোর চেস্টা করে যা আমাদের চিন্তায়ও আসেনি। পরবর্তীতে আব্বার শারীরিক অবস্থার কথা চিন্তা করে আমাদের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানটিকে টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব নিজ কাধে তুলে নেই আমি। একজন কাস্টিং ডিরেক্টর এইভাবেই আমার শুরু।প্রথম দিকে কাজ করার সময় আমার অনেক সমস্যা সম্মুখীন হতে হয়েছে কারন অভিজ্ঞতার অভাব এবং কম বয়সের কারনে অনেকেই প্রথমদিকে আমাকে গুরুত্ব দিতে চাইতেন না।তাছাড়া স্বাভাবিকভাবেই প্রথমদিকে অনেক কিছু বুঝতে পারিনি।
কিভাবে একটা প্রযোজনা সংস্থা বা শিল্পীদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে, শিডিউল মেলাতে হবে, বা কোন চরিত্রে কাকে নিলে কাজটা ভালো হবে সেসব বিষয়ে কাজ করতে করতেই আমি শিখেছি।গত দুই বছরে প্রায় ৬০ টির মতো টিভিসি, ওভিসি, ওয়েব সিরিজের কাজ সম্পন্ন করেছেন।কাস্টিং ডিরেক্টর হিসেবে কোন কাজগুলো করে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ মনে হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন- ‘অনেক কাজের মধ্যে নির্দিষ্ট করে তো কিছু বলা যায়না তবে এসব কাজের মধ্যে গত মে দিবসে নেরোলাক পেইন্টস, ভাষা দিবসে অলিম্পিক ইন্ড্রাস্টি, বসুন্ধরা এলপি গ্যাস, ভালোবাসা দিবসে ‘কাপল অফ হ্যাক্স’, জ্যাক বাংলাদেশ, ১৬ই ডিসেম্বরে সিম্ফনি মোবাইলের আমাদের বিজয় তারুণ্যের হাতে, এছাড়া আইসিটি মন্ত্রণালয়ের ‘এক্সপেরিয়েন্স ডিজিটাল বাংলাদেশ ২০২০’, এবং ওয়েবসিরিজ ‘গাল্লি স্কোয়াড’ ব্যক্তিগতভাবে আমার খুব প্রিয়। মিরাজ আমাদেরকে আনন্দের সাথে
জানান যে বাংলাদেশর প্রথম কোন লাইন প্রডিউসিং কমার্শিয়াল চলচ্চিত্র হতে যাচ্ছে ‘নূর’।
আর এই চলচ্চিত্রে ক্যাস্টিং ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করতে যাচ্ছেন মেরাজ হোসাইন মিরাজ। নিঃসন্দেহে একজন তরুণ কাস্টিং ডিরেক্টর হিসেবে এটা তার জন্য আনন্দের।মিরাজ দেশের অন্যতম আলোচিত এবং জনপ্রিয় ণির্মাতা অমিতাভ রেজার হাফস্টপ ডাউনে কাস্টিং এর খুটিনাটি কাজ শেখার সৌভাগ্য হয়েছে মিরাজের। অমিতাভ রেজার তত্ত্বাবধানে ইতিমধ্যে তিনি ইন্টার্নশীপ সম্পন্ন করেছেন।সামনের দিনে এম এম কাস্টিং এজেন্সি বাংলাদেশের মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রিতে একটি স্বণামধন্য কাস্টিং ইন্সটিটিউট হিসেবে আবির্ভূত হবে এমন স্বপ্ন বা পরিকল্পনা নিয়েই নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন এই দক্ষ তরুণ।
পরিশেষে মিরাজ বলেন অনেকেই আমাদের হাত ধরে মিডিয়ায় প্রবেশ করে প্রতিষ্ঠা পেলেও আমাদের কৃতিত্ব দিবে তো দুরের কথা এজেন্সির নামটা পর্যন্ত উচ্চারণ করতে চাইনা যা আফসোস ও কষ্টের।
পথিক মিডিয়ার পক্ষ থেকে আপনার জন্য ও এম এম ফিল্মস কাস্টিং এজেন্সির জন্য অনেক অনেক শুভ কামনা রইলো।
  • 388
    Shares