283 বার দেখা হয়েছে বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

শীতের সকাল নিয়ে কিছু কথা……মোঃ মনির হোসেন

  • 2
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    2
    Shares

মোঃ মনির হোসেনঃ   সকালের আকাশটা কুয়াশায় ঢাকা। সূর্যের দেখা পাওয়া কঠিন। আলস্যের চাদর মুক্ত করে কুয়াশার ধূম্রজাল চিরে পূর্ব আকাশে সূর্য নিজেকে জানান দেয়ার অপেক্ষায়। কোমল সূর্যরশ্মিতে ঘাসের ডগায় জমে থাকা শিশির বিন্দুগুলো মুক্তোদানার মতো ঝলমল করে। গাছের পাতা থেকে শিশির ঝরে পড়ার টুপটাপ শব্দ আর পাখিদের কলরব আন্দোলিত করে গ্রামীণ জীবনযাত্রাকে। কী স্নিগ্ধময় গ্রামবাংলার শীতের সকাল!

শহুরে জীবনের কথা বাদ দিলে গ্রামীণ জীবনে শীতের সকাল অনেকটা স্মৃতিময় হয়ে ওঠে। খুব ভোরে ঘুম থেকে ওঠার আলস্য জড়িয়ে থাকে শরীরজুড়ে। চোখ খুললেও শরীর নামতে চায় না বিছানা থেকে।

কুয়াশা ভেদ করে যখন সকালের প্রথম সূর্যটা উঁকি মারে; তখন ঝলমল করে ওঠে চারপাশ। চাঞ্চল্য ফিরে পায় মানুষ। কর্মব্যস্ত মানুষ ছোটে কাজে। বৃদ্ধ-শিশুরা সকালের রোদে গা পেতে দেয় পরম আনন্দে। শীতের তীব্রতায় বা শৈত্যপ্রবাহে আগুন জ্বেলে চারিদিকে বসতে দেখা যায় কখনো কখনো।

শীতের সকাল উপভোগ্য হয় পিঠা-পায়েসে। বিভিন্ন রকমের পিঠা তৈরি হয় শীতকে ঘিরে। রাতে পিঠাগুলো তৈরি করে খেজুর রসে ভিজিয়ে পরদিন সকালে পরিবেশন করার রেওয়াজ আছে গ্রামাঞ্চলে। হালকা রোদ গায়ে মেখে শীতের পিঠাপুলি আস্বাদন বহু বছরের পুরনো রীতি বা ঐতিহ্য।

শহুরে জীবনে শীতের সকাল আমাদের প্রলুব্ধ না করলেও গ্রামীণ শীতের সকাল আমাদের কাছে স্মৃতিময় হয়ে ওঠে। সারা বছরের স্বাভাবিক পোশাকের চেয়ে ভারি পোশাক আমাদের জন্য অপরিহার্য হয় তখন। কিছু বাড়তি অনুষঙ্গ যুক্ত হয় শরীরের সঙ্গে। কেননা শহরের চেয়ে গ্রামের শীত যেন আগে আসে। নভেম্বরের শুরু থেকেই গ্রামাঞ্চলে শীতের আমেজ লক্ষ্য করা যায়। তবে শহরে ডিসেম্বরের আগে শীত তেমন অনুভূতই হয় না।

গ্রামাঞ্চলে শীতের সকালে আড্ডাটা জমে ওঠে। রাস্তার পাশে, চায়ের দোকানে, খোলা মাঠে ভিড় জমতে থাকে। আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা যুক্ত হয় সে আড্ডায়। ছয়টি ঋতুর মধ্যে তাই শীতকালটি উপভোগ্য হয়ে ওঠে। স্মৃতিময় হয়ে থাকে সবার কাছে। যদিও দরিদ্রের শীতের সকাল হাড়কাঁপানো আর বিত্তশালীর শীতের সকাল আভিজাত্যের প্রতীক হয়ে দেখা দেয়। তবু আমরা চাই শীত আসুক! আসুক প্রাকৃতিক সমৃদ্ধি! শাক-সবজিতে ভরে উঠুক গ্রামের মাঠ কিংবা আঙিনা।

এক শীতে গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে যাই। পুবের জানালা চিরে সূর্যের আলোর ছোঁয়ায় ভোরবেলা ঘুম থেকে জেগে উঠি। কিন্তু কনকনে শীতের কারণে লেপ মুড়ি দিয়ে বসে আছি। হঠাৎ হিমেল বাতাসে ভেসে আসা মিষ্টি গন্ধ আমাকে মুগ্ধ করে। কৌতূহল নিয়ে বাইরে এসে দেখি উনুনে খেজুর রস জ্বাল দেয়া হচ্ছে। তৈরি হচ্ছে শীতের নানা পিঠাপুলি।

শিশিরভেজা মেঠোপথে একদল শিশু খালি পায়ে হেঁটে বেড়াচ্ছে। আমিও তাদের সঙ্গী হলাম। কিছুটা পথ এগোতেই চোখ দুটি জুড়িয়ে গেল সরিষাখেত দেখে। যেন হলুদের চাদর বিছিয়ে রাখা হয়েছে খোলা আকাশের নিচে। কী অপরূপ প্রকৃতি!

শুকনো এ ঋতুতে এ সময়টা শুকিয়ে আসে খাল বিলের পানি। কোথাও হাঁটুজল, কোথাও বা খটখটে চর জাগে। আর তাই গ্রামের দুরন্ত কিশোর-কিশোরীরা মেতে ওঠে অল্প পানিতে মাছ ধরার উৎসবে। সেইসঙ্গে খাবারের খোঁজে খাল-বিল আর মাঠে-ঘাটে ঝাঁকে ঝাঁকে নামে সাদা বকের ঝাঁক। ঝাঁকে ঝাঁকে সাদাফুলের মত বসে থাকা বকের শুভ্রতা সেও এক অপরূপা দৃশ্য।
চলবে……………………

 

  • 2
    Shares
  • 2
    Shares