590 বার দেখা হয়েছে বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

ষোল বছরেও জরিমানার টাকা পাননি নাসিরনগরের এসিডদগ্ধ রাবেয়া

  • 92
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    92
    Shares

 বাবুল সিকদার: বিগত ২০০৪ সালের ঘটনা। পূর্বশত্রুতার জের ধরে প্রতিপক্ষের বখাটেদের নিক্ষিপ্ত এসিডে জলসে গিয়েছিল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার চাতলপাড় গুজিয়াখাই গ্রামের জয়ধর আলী মুন্সীর মেয়ে বাবেয়া খাতুনের। এঘটনায় যথারীতি নাসিরনগর থানায় এসিড অপরাধ দমন আইন ২০০২ এর ৫(খ)/৭ ধারায় মামলা রজ্জু হলে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। কিন্তু ঘটনার মাত্র এক মাস যেতে না যেতেই মান সম্মানের ভয় ও সামাজিক চাপে প্রতিপক্ষের সাথে আপষ করতে হয় ভিকটিমকে। গ্রাম্য শালিসে জরিমানা করা হয় চল্লিশ হাজার টাকা। কিন্তু আপষের ষোল বছরেও জরিমানার টাকা বুঝে পাননি এসিডদগ্ধ রাবেয়া খাতুন। অথচ সরলমনে আপষের জন্য দেয়া হলফনামায় স্বাক্ষর করেছিলেন রাবেয়া ও তার পিতা।

বিবাদী পক্ষের দাবি জরিমানার টাকা শালিসকারকদের নিকট জমা দেয়া হযেছে। আর শালিসকারকগণ বলছেন আদালতে মামলার নিষ্পত্তে দেরী হওয়ায় বিবাদীরা টাকা ফেরত নিয়ে গেছেন। এদিকে স্পর্শকাতর অভিযোগে দায়েরকৃত মামলা আপষ করায় এনজিওর অর্থ সহায়তা থেকেও বঞ্চিত হয়েছেন ভিকটিম। এসিডদগ্ধ রাবেয়া খাতুন জানান, বিগত ২০০৪ সালে পূর্বশত্রুতার জের ধরে গুজিয়াখাই গ্রামের মারফত আলীর ছেলে কাউছার, দুলাল ও সুলতান মহরম আলীর ছেলে আলাল এব্ং আবু মিয়ার ছেলে জনাব আলী আমার উপর এসিড নিক্ষেপ করে।

এতে আমার শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে যায়। এঘটনায় আমার পিতা বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে নাসিরনগর থানায় এসিড অপরাধ দমন আইনে মামলা দায়ের করে। পরে স্থানীয় কিছু সাহেব সরদারগণ বিষয়টি আপষ করার জন্য চাপ দেন। পরে সামাজিক চাপ ও মান সম্মানের দিক চিন্তা করে আমার পিতা আপষে সম্মত হন। এরপর শালিসে আমার ক্ষতিপূরণ বাবদ চল্লিশ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। আদালতে আপষের হলফনামা দেয়ার পর উক্ত জরিমানার টাকা হস্তান্তর করা হবে বলে আমাদের জানানো হয়। আমি এবং আমার পিতা সরলমনে আপষ সংক্রান্ত হলফনামায় স্বাক্ষর করি। কিন্তু আমাদের স্বাক্ষর নেয়ার পর টাকা না দিয়ে নানা অযুহাতে ঘুরাতে থাকে। এ ব্যাপারে শালিসকারক ইদ্রিছ পাঠান, কুতুব পাঠান ও হাজী ইউনুছ মেম্বার জানান, আদালতে আপষনামা দাখিলের পর মামলার নিষ্পত্তিতে স্বাভাবিকভাবে কিছুটা সময় লাগে।

এই অযুহাতে আসামী পক্ষ জরিমানার জমাকৃত টাকা ফেরত নিয়ে গেছে। তবে আপষের ভিত্তিতে আদালতে মামলাটি খারিজ হয়ে গেছে। তবে অভিযুক্তদের পিতা মারফত আলীর দাবি ভিকটিমকে জরিমানার টাকা বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। এমন ছলছাতুরী ও প্রতারণায় হতবাক ভিকটিম রাবেয়া। ইতোমধ্যেই মেয়ের উপর এসিড নিক্ষেপের বিচার না পাওয়ার বেদনা নিয়ে মারা গেছেন তার পিতা জয়ধর আলী মুন্সী। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট আইন শৃঙ্খলা কর্তৃপক্ষ ও বিবেকবান মানুষদের সহযোগিতা কামনা করছেন রাবেয়া। বাবুল

  • 92
    Shares