2567 বার দেখা হয়েছে বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

সকালে উঠে এই খবর দেখে মনটা বিষণ্ণতায় ছেয়ে গেল!

  • 343
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    343
    Shares

নূহ আব্দুল্লাহ,ঢাকা:  গতকাল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় সুমাইয়া (১৪) ও সোনিয়া (১৩) নামে দুই কিশোরীকে ধর্ষণ (ধারণা করা হচ্ছে) করে, হত্যা করে তাদের লাশ পোস্ট অফিসের পেছনের লোহার সিড়িতে ঝুলিয়ে রেখেছে মানুষরূপী কিছু নিকৃষ্ট জানোয়ার!
ছবিতে যে পা খানি দেখছেন ওটা আমার সন্তানের পা। আমার পৃথিবী, আমার বিশ্ব-ব্রহ্মাণ্ড সব। কেউ যদি আমাকে প্রশ্ন করে, ‘বেঁচে থাকেন কেন?’ আমার স্পষ্ট জবাব হবে, ‘আমার সন্তান দুটোর জন্য বাঁচি’।
হ্যাঁ, কেবল সাকিব আল হাসানের (একজন সেলিব্রেটিকে উদাহরণ হিসেবে দিচ্ছি। যদিও সংবিধানে সকলকে সমান বলা হয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি যে, সাধারণ মানুষের হাজারো ভালো কাজের গ্রহণযোগ্যতা না থাকলেও সেলিব্রেটিরা ভেচকি দিলেও তার গ্রহণযোগ্যতা বেশি!) সন্তানই পৃথিবীতে ‘দুটি মূল্যবান রত্ন’ নয়, প্রতিটি বাবা-মায়ের কাছেই তার সন্তান ‘রত্ন’। সেই নিজের বুকের রত্নকে, বুকের ধন, বুকের মানিক, বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডকে যখন এভাবে ঝুলতে দেখে কোনো বাবা-মা তখন তার কি হয়, তার পৃথিবী কেমন উল্টে যায় তা কেবল বাবা-মা-ই বুঝতে পারেন!
কিন্তু, আমার মনে হয় এমন এক মানসিক অবস্থায় আমরা পৌঁছে গিয়েছি যেখানে এমন তরতাজা প্রাণের এমন নৃশংস, করুণ মৃত্যুও আমাদের হৃদয়ে নাড়া দেয় না!
যা হোক, যে কারণে লিখতে বসলাম, সকাল বেলা পাওয়া এ খবরটা আমাকে ভীষণভাবে মন খারাপ করে দিয়েছে। কারণ, এ খবর আমাকে ভয় দেখিয়েছে! এ ছবি, এ খবর এ সমাজের। এ সমাজ সে সমাজ, যে সমাজে আমি বাস করি (আপনি এ সমাজে বাস করেন কি না তা আপনার ব্যাপার। জিজ্ঞাসা করতে পারেন নিজেকে)। আমি দেখতে পারছি এ সমাজের কি ভয়াবহ অবস্থা!
আমি চিন্তিত এ সমাজের পরিণতি নিয়ে নয়, সমাজের অবস্থা তো দেখতেই পারছি। আমি চিন্তিত এ সমাজে বাস করা মানুষগুলো, বিশেষ করে বেড়ে ওঠা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নিয়ে!
আমি চিন্তিত, ওরা কিভাবে বাঁচবে!
ওদের জন্য একটা সুন্দর সমাজ গড়তে দীর্ঘদিন ধরে মানুষের আক্ষরিক অর্থেই (আক্ষরিক অর্থে শব্দের মানে হয়তো অনেকে কেবল দুটো শব্দ বলে ধরে নিতে পারেন তাই বলছি, বাস্তবিক অর্থেই) হাতে-পায়ে ধরে অনুরোধ করে আসছি।
দেখুন আমি:
* প্রথমে তাদের সংবিধান পড়তে বলেছি যাতে কংক্রিট একটা নীতিমালার মধ্য দিয়ে মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্মানবোধ জাগ্রত হয়। সকলে সকলকে সম্মান করে। কেউ কারো ক্ষতি না করে!
সেজন্য নিজের পকেটের পয়সা খরচ করে সারা দেশে দৌড়ে বেড়িয়েছি। যার জন্য মানুষ আমাকে এখনও পাগল বলে! আমি মেনে নিয়েছি, মেনে নিই। তবুও মানুষ যদি বদলায়!
* তারপর আমি মানুষকে দৃষ্টান্তমূলক গল্প শোনাতে চেয়েছি! মানুষ শোনে না!
এ সমাজ বদলায় না! এ সমাজ বদলাতে কেউ এগিয়ে আসে না। কেউ এগিয়ে এলেও তার পাশে কাউকে পাওয়া যায় না!
আমি ভীত! সত্যিই ভীত! জানি না এ সমাজ কিভাবে বদলাবে! আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম কি এভাবেই আমাদের ভুলের মাশুল দিয়ে যাবে!
যা হোক, সবাই যে যার মতো ভালো থাকুন। সামগ্রীক চিন্তা করে কি লাভ তাই না?
কেবল প্রার্থণা, আর কারো সন্তানের ভাগ্য যেমন দ্বিতীয় ছবিটার মতো না হয়!

  • 343
    Shares