সংবাদদাতা : মোঃ শরিফ মিয়া (স্টাফ রিপোর্টার)
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে থাকা চার ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান সরকারি কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন অদৃশ্য ইশারায়। যার ফলে ব্যাহত হচ্ছিল সাধারণ জনগণের নাগরিক সেবা, থমকে যাচ্ছিল উন্নয়নমূলক কার্যক্রম।
এদের মধ্যে শাহবাজপুর ইউপি চেয়ারম্যান খাইরুল হুদা চৌধুরী বাদল ও শাহজাদাপুর ইউপি চেয়ারম্যান আছমা আক্তার-কে অবশেষে দায়িত্ব থেকে অপসারণ করেছে জেলা প্রশাসন। তবে এখনও আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় কার্যত দায়িত্ব পালন করে চলেছেন অরুয়াইল ইউপি চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া ও পানিশ্বর ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান (মিস্টার)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিভিন্ন হত্যা মামলায় নাম আসা এসব ইউপি চেয়ারম্যানরা প্রশাসনের কতিপয় দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে ম্যানেজ করে আত্মগোপনে থেকেও নিয়ন্ত্রণ করছে ইউনিয়ন পরিষদ। উন্নয়ন কার্যক্রম থেকে শুরু করে আয়-ব্যয়ের হিসাবও পরিচালিত হচ্ছে তাদের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে, যার ফলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতায় মারাত্মক ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
অরুয়াইল ও পানিশ্বর এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, স্থানীয়ভাবে প্যানেল চেয়ারম্যান থাকলেও প্রকৃতপক্ষে উন্নয়ন কার্যক্রম চালানো হচ্ছে আত্মগোপনে থাকা চেয়ারম্যানদের পরোক্ষ নির্দেশনায়। তাদের অনুপস্থিতিতে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনেও সমস্যায় পড়ছে ইউপি দপ্তর, ফলে স্থবির হয়ে পড়েছে বিভিন্ন প্রকল্প।
এ বিষয়ে সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ মোশারফ হোসেন বলেন, “আমরা ইতোমধ্যে দুইজন আত্মগোপনে থাকা ইউপি চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব থেকে অপসারণ করেছি। বাকিদের ব্যাপারেও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”
জনগণের প্রশ্ন—দীর্ঘ ১০ মাসেও কেনো এই ইউপি চেয়ারম্যানদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি? প্রশাসনের নীরবতা এবং দুর্বলতা নিয়েও উঠেছে নানা অভিযোগ।