300 বার দেখা হয়েছে বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

সরাইল জয়ধরকান্দী পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক হয়রানী চরমে: ৩ বছরেও মিললনা সমাধান

  • 26
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    26
    Shares

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:  ব্রাহ্মণবাড়িয়া পল্লী বিদ্যুত অফিসে গ্রাহক ভোগান্তির যেন কোনো শেষ নেই। মাসের পর মাস ধর্ণা দিয়েও কর্মকর্তাদের দায়িত্ব হীনতার কারণে গ্রাহক ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে বলে অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে।

জয়ধরকান্দী গ্রামের গ্রাহক মোঃ জাহের আলীর অভিযোগে প্রকাশ সরাইল উপজেলার পাকশিমুইল ইউনিয়নের জয়ধর কান্দি গ্রামের গ্রাহক মোঃ জাহের আলীর বাড়িতে দুইটি খুঁটি উঁচু করার জন্য বিগত ২৭/১২/২০১৭ইং তারিখে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পল্লী বিদ্যুত অফিসে যোগাযোগ করা হলে অফিসের কর্মকর্তার পরামর্শে খুটি অপসারণ ও উঁচু করার জন্য অফিসের নিয়মানুযায়ী ফিস প্রদান করে দরখাস্ত করতে বলেন এবং এই দিনই (২৭/১২/২০১৯ইং) গ্রাহক ১৫০০(পনের শত) টাকা জমা দিয়ে দরখাস্ত করেন, যার ইজঊই ফরম নং ০৫ , অফিসিয়াল রিসিপ নং ৬৩১৭৮৪, আবেদন নং- ৭২৪ (মাহবুব আরা বেগম, ক্যাসিয়ার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পবিস, তঁার কাছে জমা দেয়া) দরখাস্ত জমা দেয়ার পর অফিসের কর্মকর্তা গ্রাহকের মোবাইল নম্বর রেখে বলেন পল্লী বিদ্যুতের লোক আপনাকে ফোন করে আপনাদের বাড়িতে গিয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা করে দেবেন এবং তিনি সালাম নামের একজনকে দেখিয়ে বলেন তিনি গিয়ে তদন্ত করে কতটুকু উঁচু খুঁটি লাগবে, অন্যান্য জিনিস পত্র লাগবে কিনা দেখে রিপোর্ট দেয়ার পর পল্লী বিদ্যুতের লোকজন গিয়ে কাজ করে দিয়ে আসবে। কিন্তু গ্রাহককে তো আর ফোন করা হয়নি। গ্রাহকই বাধ্য হয় ফোন করেন অফিসে বার বার। গ্রাহক ফোন করলে বলা হয় আপনি কেন বার বার আমাদেরকে ফোন করে বিরক্ত করেন, আমরাই তো আপনাকে ফোন করব সময় মত। অফিস থেকে ফোন না করা ও তদন্ত করতে না যাওয়ার কারণে গ্রাহকই বিগত দিনে তার বিশেষ প্রয়োজনেই অন্ততঃ ১০ বার অফিসে গিয়ে তাগিদ দিলেও অফিসের লোকজনের ব্যস্থতার কারণে তদন্ত করতে যেতে পারেননা বলে জানান। গ্রাহক বার বার তাগিদ ও প্রায় বৎসরাধিক কাল ধর্ণা দিয়েও সমস্যার কোনো সুরাহা না হওয়ায় আবারো অফিসে যেতে বাধ্য হয়। কারণ বেশ কয়েক বছর আগে বিদ্যুত লাইন বসানোর সময় ওটা ছিল চাষের জমি, আর এখন এখানে মাটি ভরাট করে বাড়ি করা হয়েছে কিন্তু বিদ্যুতের তার নিচু হওয়ার কারণে ঘর উঠানো অসম্ভব। তাই বাধ্য হয়েই বার বার অফিসে ধর্ণা দেয়া গ্রাহকের। আর এ কারণেই গত ০১/০৪/২০১৯ইং তারিখে আবার পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে প্রথমে একজন কর্মকর্তা বলেন এতদিন পর হয়তো দরখাস্তই পাওয়া যাবেনা। তবে অনেক অনুণয়ের পর হাবিবুর রহমান নামের একজনকে তদন্তের জন্য বলেন। তিনি দুই/একদিনের মধ্যে যাবেন বলে গ্রহককে বললেও সময়ের অভাবে নাকি যেতে পারেন না। তাকে সপ্তাহকাল ফোন করার পর তিনি আবার নাছিমুজ্জামান নামের অন্য একজনের মোবাল নাম্বার দিয়ে তার সাথে যোগাযোগ করতে বলেন। উক্ত নাম্বারে কয়েকদিন থেকে যোগাযোগ করতে থাকলেও ব্যস্থতার অজুহাতে এখনো তদন্ত করতেই যেতে পারেননা।

তিনি আরও বলেন অবশেষে একদিন লোকজন গেলেন এবং তদন্ত করে এসে আমাকে যে টাকা পরিশোধ করতে জানালেন তাতে আমার মাথায় হাত, কারণ একে তো আমার বাড়ির ভিতরে খঁুটি বসিয়ে যথেষ্ট ক্ষতি করা হয়েছে আবার যে পরিমান টাকা পবি অফিসে জমা করতে বলা হয়েছে তা আমার পক্ষে আদৌও জমা দেয়া সম্ভব হবেনা। জমা দিতে বলা টাকার পরিমাণঃ- ০১। মালামাল মূল্য বাবদ = ২৭,৭৪৭/-টাকা। ০২। নির্মান খরচ বাবদ = ১৯,৬৬৩/ -টাকা। ০৩। উপদেষ্টা ফি বাবদ = ৩,৬৯৮/-টাকা। মোট = ৫১,১০৮/-টাকা। তাছাড়া গত ১৬/১০/২০১৯ ইং তারিখে আবেদন অনুমোদনের পর আরও দুই বার অনুমোদন কারী এ জি এম (সদস্য সেবা) জনাব মোঃ নুরে আলম সাহেবের সাথে যোগাযোগ করা হলেও টাকা জমা না দিলে কাজ হবে না বলে জানান।

জাহের আলী আক্ষেপ করে বলেন আমি ইট বালু কিনে রেখেছি খুটিটি সরানো বা উচু না করার জন্য ঘরের কাজ করতে পারতেছিনা। খুটিটি সরিয়ে বা উচু করে আমাকে ঘরের কাজ করার সুযোগ করে দিতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

এ ব্যাপারে অরুয়াইল পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ইনচার্জ মোঃ মিজানুর রহমান বলেন বারপাইকা থেকে তেলিকান্দী, জয়ধরকান্দী গ্রামের বৈদ্যুতিক খুঁটির আপগ্রেটিং এর জন্য টিকাদারী প্রতিষ্ঠান কে ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়া হয়েছে।বর্ষায় খুটি আনা হচ্ছে, শুকনার সময় সব খুটি উচু করা হবে। তখন গ্রাহকের সুবিধার্থে কোন খুটি ২/৩ ফুট এদিক সেদিক সরানোর দরকার মনে করলে করে দেওয়া হবে।

  • 26
    Shares