3697 বার দেখা হয়েছে বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

সরাইল তথা বাংলাদেশের রাজনীতির কুতুব মিনার -পর্ব-১

যে হৃদ রোগে আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশ্ব জনমত সৃষ্টির লক্ষ্যে বুদাপেস্ট থেকে ভারত ফেরার পথে দিল্লী বিমানবন্দরে তিনি মৃত্যু বরণ করেন, সেই হৃদ রোগে আমিও আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে আছি। তাই তাঁর মৃত্যু বার্ষিকীতে থাকতে পারছিনা বলে হৃদয়ে তীব্র বেদনা অনুভব করছি।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এড.জিয়াউল হক মৃধা:  বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের তরুণ যোদ্ধা ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক,এ দেশের কৃষক, শ্রমিক মেহনতী জনতার মুক্তির মহানায়ক দেওয়ান মাহবুব আলি কুতুব মিয়ার আজ পঞ্চাশতম মৃত্যু বার্ষিকী পালিত হচ্ছে জেনে আমি আনন্দিত। এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে আমি আমন্ত্রিত ছিলাম।কিন্তু, বিধির বিধান! “Man proposes god disposes”.
যে হৃদ রোগে আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশ্ব জনমত সৃষ্টির লক্ষ্যে বুদাপেস্ট থেকে ভারত ফেরার পথে দিল্লী বিমানবন্দরে তিনি মৃত্যু বরণ করেন, সেই হৃদ রোগে আমিও আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে আছি। তাই তাঁর মৃত্যু বার্ষিকীতে থাকতে পারছিনা বলে হৃদয়ে তীব্র বেদনা অনুভব করছি। দেওয়ান মাহবুব আলি শুধু সরাইল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গর্বের ধন নয়,তিনি ছিলেন সারা বাংলার গর্বিত রাজনীতিবিদ।জমিদারপুত্র হওয়া স্বত্বেও তিনি সাধারণ জীবন যাপন করতেন। পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্ট,হাইকোর্ট ডিভিশনের একজন স্বনামধন্য আইনজীবি ছিলেন তিনি। অর্থের লোভ লালসা তাঁকে স্পর্শ করতে পারেনি। ওনি যখন এলাকায় আসতেন পকেটওয়ালা ফুল শার্ট, লুঙ্গি, কদাচিত পায়জামা এবং চপ্পল পড়ে ঘুরে বেড়াতেন।বাজারে-বন্দরে সাধারণ মানুষের মতো চলাফেরা করতেন এবং জনগনের সুখ দুঃখের খবর নিতেন।সাম্প্রদায়িক দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে সৃষ্ট পাকিস্তান রাষ্ট্রের পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠী প্রথমেই আঘাত হানে সংখ্যাগুরু বাঙালীর ভাষা ও সংস্কৃতির উপর। দেওয়ান মাহবুব আলীর মতো প্রগতিশীলেরা তখন চুপচাপ থাকেননি। তাঁরা আন্দোলন গড়ে তুলেন পাকিস্তানি ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে। ভাষা আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম নেতা ও সংগঠক ছিলেন তিনি। বঙ্গবন্ধু তাঁর অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে দেওয়ান মাহবুব আলির কথা উল্লেখ করেছেন। উনিশশো চুয়ান্ন সালের নির্বাচন ছিলো পাকিস্তানের রাজনীতিতে টার্নিং পয়েন্ট। হক, ভাসানী, সোহরাওয়ার্দী, ওনাদের নেতৃত্বে গঠিত হয় যুক্তফ্রন্ট। সেই সময় প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনের প্রার্থী ছিলেন দেওয়ান মাহবুব আলী। মজার ব্যাপার হলো, যুক্তফ্রন্টের টিকেট পেয়েছিলেন হযরত মাওলানা তাজুল ইসলাম ফখরে বাঙ্গাল।কিন্তু, যুক্তফ্রন্টের প্রতিক নৌকা নিয়েছিলেন দেওয়ান মাহবুব আলি।দেওয়ান সাহেব হাতির পিঠে চড়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালাতেন। বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছিলেন তিনি। ওই নির্বাচনে মুসলিম লীগের ভরাডুবি হয়।কথিত আছে, কালিকচ্ছ ইউনিয়নের চাঁনপুর ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে গিয়ে এক বাচ্চা প্রসব করে এক মহিলা।দেওয়ান মাহবুব আলী ছিলেন অবিভক্ত পাকিস্তানের ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক।উনিশশো সাতষট্টি সালের দিকে সমাজতান্ত্রিক শিবির চীনপন্থী ও রুশপন্থী দুই শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়ে। পাকিস্তান ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টিও তখন একদল ‘সিমান্ত গান্ধী’ নামে খ্যাত আব্দুল গফফার খানের পুত্র ওয়ালি খান এবং আরেক দল মাওলানা আব্দুল হামিদ ভাসানীর নেতৃত্বে সংগঠিত হয়।
ধারাবাহিকভাবে সম্পূর্ণ জীবনী লেখার ইচ্ছা আছে।
লেখক:এড.জিয়াউল হক মৃধা,সাবেক সংসদ সদস্য