244 বার দেখা হয়েছে বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

সাংবাদিককে নির্মম নির্যাতনের প্রতিবাদে রংপুরে সকল সাংবাদিক সংগঠনের ব্যানারে বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

স্টাফ রিপোর্টারঃ সাংবাদিকরা দেশ ও জাতির কথা বলতে গিয়ে অব্যাহতভাবে প্রতিনিয়ত নানান নিষ্ঠুর নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। কিন্তু সাংবাদিক নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা না নেয়ার কারণে দেশে সাংবাদিক নির্যাতন দিন দিন বেড়েই চলছে। এর পাশাপাশি মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদের জেলে পাঠানো হচ্ছে। এতে করে গণমাধ্যমের বাকস্বাধীনতা খর্ব করা হচ্ছে। গতকাল বুধবার (২০ জানুয়ারি ২১ইং) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত রংপুর প্রেসক্লাব চত্ত্বরে বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। বর্তমান দেশের আলোচিত নির্যাতিত সাংবাদিক খায়রুল আলম রফিক ও সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফাসহ দেশে বিভিন্ন সময় সাংবাদিকদের নির্মম নির্যাতনের প্রতিবাদে রিপোর্টার্স ক্লাব রংপুর, সিটি প্রেসক্লাব, রিপোর্টার্স ইউনিটি, মাহিগঞ্জ প্রেসক্লাব, তাজহাট প্রেসক্লাব, দৈনিক আমাদের কন্ঠ রংপুর ব্যুরো অফিস, বাংলাদেশ অনলাইন সাংবাদিক কল্যাণ ইউনিয়ন (বসকো)সহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের ব্যানারে ২ ঘন্টা ব্যাপী বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সিনিয়র সাংবাদিক ও দৈনিক প্রতিদিনের বার্তাথর নির্বাহী সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম বাবলার সভাপতিত্বে বিশাল মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন মাছরাঙ্গা টিভির রংপুর অফিস ইনচার্জ ও রংপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সাধারণ সম্পাদক রফিক সরকার, একাত্তর টিভির রংপুর অফিস প্রধান ও রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শাহ বায়োজিদ আহম্মেদ, দৈনিক আমাদের কন্ঠের রংপুর অফিস প্রধান ও দৈনিক প্রথম খবরের নির্বাহী সম্পাদক তাজিদুল ইসলাম লাল, মাহিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি বাবলু নাগ, রংপুর সিটি প্রেসক্লাবের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজার রহমান বাবলু, রংপুর রিপোর্টার্স ইউনিটির যুগ্ম সম্পাদক রনজিত দাস, বাংলাদেশ তৃণমুল সাংবাদিক কল্যাণ সোসাইটির সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ আলম, দৈনিক সাইফ এর স্টাফ রিপোর্টার কবি ও সাংবাদিক হায়াত মাহমুদ মানিক, সাবেক ছাত্র নেতা পলাশ কান্তি নাগ, রংপুরের পীরগঞ্জের আলোর সংবাদ এর প্রকাশক ও সম্পাদক আঃ করিম সরকার, রংপুর ফটো জার্নালিষ্ট এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও কালের কন্ঠের রংপুরের আলোকচিত্রী আদর রহমান, বদরগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুল আলম আপন, ছান্দসিক এর সাধারণ সম্পাদক ও সাহিত্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মমিন উদ্দিন পাটোয়ারী, তৃণমুল সাংবাদিক সোসাটির সাধারণ সম্পাদক এসএম ফজলুল করিম লিটন, সন্ধ্যাবানী পত্রিকার রংপুর ব্যুরো প্রধান এজাজ আহম্মেদ প্রমুখ।
মানববন্ধনে সাংবাদিক নেতারা দাবী করেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও আইজিপি সাংবাদিকদের সুরক্ষা দিতে হবে এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। করোনাকালীন দুর্যোগ মুহুর্তে সাংবাদিকরা নিবেদিতভাবে কাজ করেছেন। তারা ঠিকমত বেতন পাননা। তারপরে তারা দেশের হয়ে সরকারের উন্নয়ন ও প্রগতির পক্ষে কাজ করে যাচ্ছেন। কোন দুর্নীতি এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ হলেই তাদের উপর নেমে অমানষিক নির্যাতন। তারা
নিবেদিতভাবে মাঠে-ঘাটে কাজ করছে, আবার নির্যাতনের শিকারও হচ্ছে, এটা মেনে নেয়া যায় না। বক্তারা আরও বলেন, আমাদের দুর্বল ভাববেন না। সাংবাদিক সমাজ জেগে উঠলে নির্যাতনকারী, হামলাকারীরা টিকে থাকতে পারবেন না। সাংবাদিকদের সুরক্ষা দিতে হবে এবং তাদের পাশে থাকতে হবে। সাংবাদিকরা আহত হচ্ছেন কেন? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং আইজিপির কাছে জবাব চাই। সাংবাদিকরা গণমানুষের কথা বলেন, সরকারের উন্নয়ন ও নানা অসঙ্গতি তুলে ধরেন। এতে জীবনের ঝুঁকি আছে জেনেও তারা সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকেন। বক্তারা আরও বলেন, বর্তমানে আলোচিত এই দুইজন নির্যাতিত সাংবাদিকের বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা মামলা করেছেন ওই দুই পুলিশ কর্মকতাসহ কয়েকজন। মানববন্ধন থেকে সকল মিথ্যা মামলা দ্রুত প্রত্যাহার, তাদের উন্নত চিকিৎসা, ক্ষতিপুরণসহ জান-মালের নিরাপত্তার দাবিও জানানো হয়।
সমগ্র অনুষ্ঠানটির সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন রংপুর মেট্রোপলিটন তাজহাট প্রেসক্লাবের আহবায়ক এসএম জাকির হোসাইন। এসময় রংপুরের বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেক্ট্রনিক্স, অনলাইন নিউজপোর্টালে কর্মরত সাংবাদিকসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক এবং পেশাজীবী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
দৈনিক ময়মনসিংহ প্রতিদিন পত্রিকার সম্পাদক ও দৈনিক আমাদের কণ্ঠের ক্রাইম চীফ খায়রুল আলম রফিক প্রেরিত এক বিজ্ঞপ্তিকে তঁার ওপর পুলিশী নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে জানান, ময়মনসিংহ ডিবি পুলিশের এসআই আকরাম হোসেনের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, যৌনপল্লীতে নারী পাচার, সন্ত্রাসীদের অপরাধ কার্যক্রমে সহযোগিতার অভিযোগ ছিলো। সে সময়ে এসআই আকরাম হোসেনের এসব অপরাধের চিত্র পত্রিকায় তুলে ধরেই রোষানলে পরেন তিনি। সাংবাদিক খায়রুল আলম রফিকের অভিযোগ, এসআই আকরাম হোসেন তাকে আটক করে ডিবি হেফাজতে রাখার নামে অকথ্য নির্যাতন চালায় যা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। আকরামের যোগসাজশে ষড়যন্ত্রমূলক ৩টি মামলায় গ্রেফতার হয়ে দীর্ঘ দুই মাস থাকতে হয় ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগারে। আটকের পর তার চোখ বেঁধে অকথ্য নির্যাতন চালানো হয়।
২০১৮ সালের ২৯ নভেম্বর রাত ১১টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল গেইটের বিপরীত দিকে তিনি অবস্থান করেছিলেন। পরে তাকে চোখ বেঁধে একটি কালো হায়েজ গাড়িতে করে ময়মনসিংহ চরপাড়ায় পত্রিকার কার্যালয়ে নিয়ে যায়। সেখানে থাকা আমার জমি ক্রয়ের দলিল, জনতা ব্যাংকের চেক ও ৪ টি কম্পিউটার, দুটি মোবাইল, ভোটার আইডি কার্ড, পরিবারের সকল কাগজপত্র নিয়ে যায়। দলিল ও জনতা ব্যাংক চেক প্রতিপক্ষের কাছে তুলে দিয়ে জব্দ দেখানো হয় শুধু ১টি কম্পিউটার এবং একটি মোবাইল। সেখান থেকে তাকে নেয়া হয় ময়মনসিংহের ব্রহ্মপুত্র পুরাতন গুদারাঘাটস্থ দুর্গম চর এলাকায়। এ সময় দু’চোখ বেঁধে দু হাত পেছনে বেঁধে নির্যাতন চালায়। পরে ডিবি অফিসে এনে চোখ বেধে বিদ্যুৎ শক দেয়  এবং উলঙ্গ করে ভিড্ওি করেন ডিবি পুলিশের এসআই আকরাম হোসেন। গত বছরের ডিসেম্বরে ২২ তারিখে অজ্ঞাত কোন এক ব্যক্তি তার ম্যাসেঞ্জারে চোঁখ বাঁধা ছবি প্রদান করেন। যা দেখে তিনি আতঁকে উঠেন এবং সেই সব নির্যাতনের দৃশ্যগুলো চোখের সামনে ভাসতে শুরু করে। এর পরপরই তার এই ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হতে শুরু করে এসব নিষ্ঠুর ঘটনা। একারনেই দুইবছর পর মুখ খুললেন তিনি। এ বিষয়ে সাংবাদিক খায়রুল আলম রফিক বাদি হয়ে এসআই আকরাম হোসেনসহ ৭/৮ জনের বিরুদ্ধে ময়মনসিংহের দায়রা জজ অদালতে একটি মামলা করেন। মামলা নং- ০১/২০২১, তারিখ- ১৮.০১.২০২১খ্রি:। এসব ঘটনায় সাংবাদিক খায়রুল আলম রফিক ইতিমধ্যে পুলিশের ‘আইজিপিথস মনিটরিংথ সেলে একটি অভিযোগ জমা দিয়েছেন। যার অভিযোগ নম্বর ঝখ-১৭ এবং তারিখ ৫ই জানুয়ারি ২০২১।
এদিকে, কক্সবাজারের টেকনাফের সিনিয়র সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফা, রংপুরের পীরগঞ্জের সাংবাদিক আঃ করিম সরকার, বদরগঞ্জের সাংবাদিক আশরাফুল আলম আপন, বগুড়ার ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ার দুই সাংবাদিকসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিক নির্মম নির্যাতন, মামলা ও হামলার শিকার হচ্ছেন। এসব ঘটনায় বিভিন্ন সময় সাংবাদিকরা মামলা দায়ের করেছেন কিন্তু বিচার ব্যবস্থায় ধীরগতি থাকায় নির্যাতনকারীরা পার পেয়ে যাচ্ছেন।#