300 বার দেখা হয়েছে বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

সাময়িক বরখাস্ত প্রতিনিধির মধ্যে ২৫ জন আদালতের স্থগিতাদেশ পেয়ে স্বপদে ফিরেছেন

প্রতিকী ছবি

  • 23
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    23
    Shares

পথিক রিপোর্ট:  সাময়িক বরখাস্ত  ১০৮ জন প্রতিনিধির মধ্যে ২৫ জন আদালতের স্থগিতাদেশ পেয়ে স্বপদে ফিরেছেন।

আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে স্বপদে ফেরাটা ‘আইনি ব্যবস্থার দুর্বলতা’। সরকারি কৌঁসুলিরা অভিযোগগুলোর তথ্য–প্রমাণ হাজিরে যথেষ্ট আন্তরিক থাকেন না।

এই  দেশ আমাদের তারপরও আমাদের কোনো অধিকার নেই। কোন দেশে বাস করি আমরা।

নিচে দেওয়া হলো দেশ রক্ষার মহান মানুষদের  কাজগুলো। বিভিন্ন জায়গা থেকে সংগ্রহ করা।

করোনাকালে দরিদ্র নারীদের মধ্যে চাল বিতরণ করে ছবি তোলার পর আবার ফেরত নিয়েছিলেন তিনি। মারধরও করেছিলেন। এর আগে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ইউপি সদস্যরা তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা দেন। এ ঘটনায় সাময়িক বরখাস্ত হন চট্টগ্রামের হাটহাজারীর মির্জাপুর ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল আবসার। তিনি আবার স্বপদে ফিরেছেন। বরখাস্তের আদেশ হাইকোর্ট তিন মাসের জন্য স্থগিত করায় ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

করোনা মহামারির সময় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় গরিবের ত্রাণ বিতরণে অনিয়মের দায়ে বরখাস্ত হওয়া জনপ্রতিনিধিদের অনেকেই আবার স্বপদে ফিরেছেন। স্থানীয় সরকার বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সাময়িক বরখাস্ত হওয়া ১০৮ জনপ্রতিনিধির মধ্যে ২৫ জন আদালতের স্থগিতাদেশ দেখিয়ে পদে ফিরেছেন। আরও কয়েকজন ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন। স্থানীয় সরকার বিভাগের ভাষ্য, আইনের ফাঁকফোকর গলে অনেকেই স্থগিতাদেশ আনছেন। প্রতিটি আদেশের বিরুদ্ধেই আপিল করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এই মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, যেসব জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে, তাঁদের মধ্যে ৯০ জনই ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।

স্থানীয় সরকার বিভাগ গত ৭ জুলাই হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার গজনাইপুর ইউপি চেয়ারম্যান ইমদাদুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করে। হতদরিদ্রদের তালিকা প্রণয়নে অনিয়ম এবং বরাদ্দ করা চাল সঠিক ব্যক্তিদের মধ্যে বিতরণ না করাসহ বেশ কিছু অভিযোগে তাঁকে বরখাস্ত করা হয়। এই জনপ্রতিনিধিও আদালত থেকে ছয় মাসের স্থগিতাদেশ পেয়ে স্বপদে ফিরেছেন।

ইমদাদুর রহমান নবীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। তাঁর ভাষ্য, ‘খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১০ টাকা কেজি দরের চাল বিতরণের তালিকায় কিছু ব্যক্তির ঠিকানা ভুল ছিল। আর প্রিন্টিং মিসটেকের কারণে কিছু ব্যক্তির নামে ভুল থাকায় এমন হয়েছিল।’

অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় দলীয় পদ থেকে ইমদাদুরকে অব্যাহতি দেয় নবীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ। পরে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের জন্য জেলা আওয়ামী লীগকে সুপারিশ করা হয়। তবে জেলা আওয়ামী লীগ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

অপর দিকে হাটহাজারীর মির্জাপুর ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল আবসারও ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তিনি ত্রাণ বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাঁর কথা, ‘এখন থেকে সবার সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করতে চাই।’

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে ২৬ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি শুরু হয়। করোনার ছুটিতে দরিদ্র লোকজনকে সহায়তার জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় ত্রাণ হিসেবে চাল ও নগদ টাকা দেয়। খাদ্য মন্ত্রণালয় ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি করে। মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনেও খাদ্যসহায়তা দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর নগদ সহায়তা হিসেবে সারা দেশে ৩৫ লাখ দরিদ্র পরিবারের একজন করে সদস্যের মুঠোফোন-ব্যাংক নম্বরে ২ হাজার ৫০০ টাকা দেওয়া হয়।

এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই বিভিন্ন এলাকার জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে ত্রাণ বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। জেলা পর্যায়ের তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখা। বরখাস্ত হওয়ার কারণ বিশ্লেষণে দেখা যায়, চাল চুরি, ত্রাণ লুট এবং উপকারভোগীদের তালিকা তৈরিতে স্বজনপ্রীতি ও অনিয়ম করেছেন জনপ্রতিনিধিরা। প্রধানমন্ত্রীর নগদ সহায়তার তালিকায় নিজের আত্মীয়স্বজনকে অন্তর্ভুক্ত করে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন অনেকে।

অনিয়মে জড়িত জনপ্রতিনিধিদের তাঁদের পদ থেকে সাময়িক বরখাস্তের পাশাপাশি কারণ দর্শাতে বলে স্থানীয় সরকার বিভাগ। তাঁদের কারও বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন-১৯৭৪ অনুযায়ী মামলাও করা হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এসব জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করছে। বরখাস্ত জনপ্রতিনিধিরা কারণ দর্শানোর জবাব দিয়েছেন। এসব জবাবের বিষয়ে মতামত দিতে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হচ্ছে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ করোনার ছুটির সময় ত্রাণ বিতরণে অনিয়মের অভিযোগে শতাধিক ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যকে বরখাস্ত করা হয়েছিল। তাঁদের অনেকেই উচ্চ আদালত থেকে তিন থেকে ছয় মাসের স্থগিতাদেশ নিয়ে এসেছেন। স্থানীয় সরকার বিভাগের প্যানেল আইনজীবীদের মাধ্যমে প্রতিটি আদেশের বিরুদ্ধেই আপিল করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

জনপ্রতিনিধিদের আদালতের স্থগিতাদেশ দেখিয়ে পদে ফেরার বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ তোফায়েল আহমেদ  বলেন, যেনতেনভাবে নির্বাচিত হওয়ায় স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধিরা বেপরোয়াভাবে, ইচ্ছেমতো চলছেন। স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ছেন। তাঁর মতে, আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে স্বপদে ফেরাটা ‘আইনি ব্যবস্থার দুর্বলতা’। সরকারি কৌঁসুলিরা অভিযোগগুলোর তথ্য–প্রমাণ হাজিরে যথেষ্ট আন্তরিক থাকেন না।

  • 23
    Shares
  • 23
    Shares