নিজস্ব প্রতিবেদক : আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক মৈত্রী পরিষদের উদ্যোগে এবং সুরলহরী ও স্কুল অফ আর্ট–এর সভাপতি করবী চক্রবর্তীর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত হলো এক ব্যতিক্রমধর্মী সাংস্কৃতিক যাত্রা। ৭ জুন থেকে ১৬ জুন পর্যন্ত সিলেটের বিভিন্ন লোকজ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র পরিদর্শন ও লোকসংগীতভিত্তিক কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয় এই বিশেষ আয়োজন। এই সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিলো সিলেট অঞ্চলের লোকজ শিল্প সংস্কৃতি, গুণী শিল্পীদের সংগীতধারা, বিশেষ করে বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিমের জীবনের স্মৃতিধন্য স্থানসমূহকে কাছ থেকে দেখা এবং তার গান ও দর্শনের অনুপ্রেরণা উপলব্ধি করা।
করবী চক্রবর্তীর নেতৃত্বে একঝাঁক তরুণ কণ্ঠশিল্পী এই সফরে অংশগ্রহণ করেন। সফরের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত ছিল দিরাই উপজেলার কালীন নদী পেরিয়ে নৌকায় করে বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিমের বাড়ি পরিদর্শন। সেখানে উপস্থিত সবাই ঘুরে দেখেন কিংবদন্তি এই শিল্পীর জীবনের স্মৃতিবিজড়িত জাদুঘর।
শাহ আবদুল করিমের সুযোগ্য পুত্র নুর জালালের কণ্ঠে শোনা যায় তার পিতার লেখা জনপ্রিয় কিছু সুমিষ্ট গান, যা শ্রোতাদের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। এছাড়া, করিম সাহেবের জীবনের বিভিন্ন দিক, তার গান সংরক্ষণের প্রয়াস এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য তাঁর সৃষ্টি নিয়ে নুর জালালের সঙ্গে এক হৃদয়গ্রাহী সাক্ষাৎকারও অনুষ্ঠিত হয়।
এই সফরে উপস্থিত ছিলেন সুমন দেব, মিনাক্ষী দেব, অমিত পাল, টুম্পা দাশ, আখি দেব, আকাশ বণিক, আচঁল বণিক, মিঠুনড বণিক, পিনাক দেবরায়, এ্যাপোলো দেবরায়, এ্যাথিনা দেবরায়, শুভ চৌধুরী, জুঁই দেবরায়, অর্ণয় চক্রবর্তী আয়ূষ প্রমুখ।
সবশেষে, শাহ আবদুল করিমের পরিবারের সঙ্গে কাটানো কিছু অমূল্য মুহূর্ত স্থিরচিত্রে ধারণ করে স্মৃতির ভাণ্ডারে যুক্ত করা হয়। লোকজ ঐতিহ্যের প্রতি ভালোবাসা, শিল্প–সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধা এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে বাউল সাধনার মর্মবাণী পৌঁছে দেওয়ার এই প্রয়াস নিঃসন্দেহে এক অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।