৫ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে ৭৭ রানে হারল বাংলাদেশ
দুই পেসার তাসকিন আহমেদ ও তানজিম হাসান সাকিবের দুর্দান্ত বোলিং পারফরম্যান্সে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কাকে মাত্র ২৪৭ রানে গুটিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ। বোলিং আক্রমণে যে আত্মবিশ্বাস দেখা গিয়েছিল, তা ব্যাট হাতে ধরে রাখতে পারেননি টাইগার ব্যাটাররা। প্রত্যাশা ছিল, এই লক্ষ্য তাড়া করেই জয় ছিনিয়ে আনবে দল। কিন্তু সেই আশার জায়গায় নেমে আসে হতাশার ছায়া।
ব্যাটিং ধসে আত্মবিশ্বাসের সংকটে বাংলাদেশ
জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে দুই ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও পারভেজ হোসেন ইমন এনে দেন আত্মবিশ্বাসী সূচনা। উদ্বোধনী জুটিতে আসে ২৯ রান। এরপর তিন নম্বরে নামা নাজমুল হোসেন শান্ত যোগ দেন তানজিদের সঙ্গে, এবং তারা গড়ে তোলেন প্রতিশ্রুতিশীল একটি জুটি। দলীয় স্কোর যখন ১০০, তখনো জয় ছিল হাতের নাগালে।
কিন্তু এরপরই ঘটে ভয়াবহ এক ব্যাটিং বিপর্যয়। মাত্র ৫ রানের ব্যবধানে বাংলাদেশের ৭ উইকেটের পতন ঘটে। ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে এটি এক লজ্জাজনক অধ্যায় হয়ে থাকবে। দ্বিতীয় উইকেট থেকে অষ্টম উইকেট পর্যন্ত এত কম ব্যবধানে হারানোর নজির অতীতে খুব একটা দেখা যায়নি।

সর্বশেষ এমন ঘটনা ঘটেছিল যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে, ২০২০ সালে। নেপালের বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্র ২৩ থেকে ৩১ রানের মধ্যে হারিয়েছিল ৭ উইকেট। এবার বাংলাদেশ হারিয়েছে ১০০ থেকে ১০৫ রানের মধ্যে ৭টি উইকেট। ব্যাটিং ধসের সূচনা হয় শান্তর রান আউট দিয়ে। ২৬ বলে ২৩ রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি। এরপর একে একে ফিরেছেন লিটন দাস, তাওহিদ হৃদয়, মেহেদি হাসান মিরাজ, তানজিম সাকিব ও তাসকিন আহমেদ। এদের মধ্যে লিটন, মিরাজ এবং তাসকিন ‘ডাক’ মেরে ফেরেন।
এই ধস বাংলাদেশের ব্যাটিং মেরুদণ্ডকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। বিশেষ করে মিডল অর্ডারের ব্যর্থতা এবং টপ অর্ডারের পর ব্যাটারদের আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি ফুটে উঠেছে স্পষ্টভাবে। ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধুই একটি ম্যাচের ব্যর্থতা নয়, বরং দলের মানসিক প্রস্তুতি ও ব্যাটিং মেন্টালিটির দুর্বলতারই বড় ইঙ্গিত।
এমন সময়ে দলের প্রয়োজন নতুন করে নিজেদের ঝালিয়ে নেওয়া এবং মিডল অর্ডারে দৃঢ়তা আনয়ন। না হলে বড় মঞ্চে ভালো পারফর্ম করার স্বপ্ন শুধু কল্পনাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে।