457 বার দেখা হয়েছে বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

৭০ বছর পর হারানো সন্তান কে ফিরে পেলো শতবর্ষী বৃদ্ধ  মা

মোহাম্মদ সেলিম রেজা , বাঞ্ছারামপুর :  ৭০ বছর আগে হারিয়ে যাওয়া আবদুল কুদ্দুস মুন্সী। প্রায় সাত দশক সময়টা কম নয়। ধরেই নিয়েছিলেন আর দেখা পাবেন না পরিবার  পরিজনের। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে এই যন্ত্রণা পোড়াচ্ছিলেন আবদুল কুদ্দুস মুন্সী। কিন্তু সেই যন্ত্রণা ঘুচল তার। শনিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) শতবর্ষী মা মঙ্গলা বিবির সঙ্গে দেখা করতে ব্রাক্ষণবাড়িয়া বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ছলিমাবাদ ইউনিয়ন আশ্রাফবাদ গ্রামে বৃদ্ধা বোনের বাড়িতে শতবর্ষী মা মঙ্গলা বিবির সহ পরিবার পরিজনের সঙ্গে দেখা হয় বৃদ্ধ আবদুল কুদ্দুস মুন্সীর।
একমাত্র ছেলেকে কাছে পেয়ে আনন্দে আপ্লুত হয়ে পরেন শতবর্ষী মা মঙ্গলা বিবি। এই দৃশ্য দেখে আত্মীয় স্বজনদের মধ্যে বইতে থাকে আনন্দের হাওয়া। মা যেন আকাশের চাঁদ পেয়েছে। সন্তান পেয়েছেন জান্নাত। শতবর্ষী মাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে থাকে ৮০ বছরের বৃদ্ধ আবদুল কুদ্দুস মুন্সী। এই যেন আনন্দের জল পরছে চোঁখ দিয়ে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের কল্যাণে দীর্ঘ ৭০ বছর পর খুঁজে পেয়েছেন হারানো স্বজনদের। ৭০ বছর আগে পুলিশ সদস্য চাচার সাথে ব্রাক্ষণবাড়িয় জেলার নবীনগর উপজেলা বাড্ড গ্রাম থেকে রাজশাহীর বাগমারায় গিয়ে  হাড়িয়ে যান  ১০ বছর বয়সী আবদুল কুদ্দুস মুন্সী।  অনেক খোঁজা খুজির পর তাকে না পাওয়া গেলে পরিবারের সদস্যরা মনে করেন সম্পত্তির লোভে পিতা- মাতার একমাত্র পুত্র সন্তান আবদুল কুদ্দুস মুন্সী কে  নিয়ে  হত্যা করে তার চাচা। ৭০ বছর পর হাড়িয়ে যাওয়া সেই আবদুল কুদ্দুস মুন্সী খুঁজে পেয়েছে তার পরিবার। ১০ বছরের সেই ছোট্ট শিশুটি আজ ৮০ বছরের বৃদ্ধ। সেদিনের কথাও দিব্যি মনে আছে তার। একদিন  কাউকে কিছু না বলেই বেরিয়ে যান। এর পর হাঁটতে হাঁটতে পৌঁছে যান আত্রাই উপজেলার সিংসাড়া এলাকায়। তখন ঘনিয়ে আসে সন্ধ্যা। পথ হাড়িয়ে ফেলেন তিনি। ঐই সময় খৈমুন নামে এক বৃদ্ধার সঙ্গে দেখা হয়।ভিক্ষা করে ঘরে ফিরছিলেন তিনি। আবদুল কুদ্দুস মুন্সী বলেন আমি তার বাড়ি যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তিনি অসহায় ছিলেন। শেষে নিয়ে যান তার এলাকার সাদেকের বাড়িতে। নিঃসন্তান সাদেক আমাকে সন্তানের মতই আশ্রয় দেন। পরে চৌউড়বাড়ির এক আত্মীয়ের মেয়ের সঙ্গে আমার বিয়ে দেন পালিত বাবা সাদেক।
স্বজনরা জানান, আবদুল কুদ্দুস মুন্সী ছিলেন, বাবা-মায়ের একমাত্র ছেলে। তিনি নিখোঁজ হওয়ার পর স্বজনরা সন্দেহ করেছিলেন সম্পত্তির লোভে চাচা হয়তো তাকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিয়েছেন। এই অভিযোগ মাথায় নিয়ে তার চাচাও ঘটনার পর থেকে গ্রামে ফেরেননি। কিন্তু সাত দশক পর সেই সন্দেহ মিথ্যা প্রমাণ হলো।
[Sassy_Social_Share total_shares="ON"]