ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাপরিষদ নির্বাচনে ভোটের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ১০ কোটি টাকা আত্মসাৎ, চেয়ারম্যান-মেম্বারদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন

নিজেস্ব প্রতিবেদক:  জেলা পরিষদ নির্বাচনে ন্যক্কারজনক ভোট বাণিজ্যে লিপ্ত হওয়ার অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ভোটার তথা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহের জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে মানববন্ধন হয়েছে। আজ শনিবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে জেলার সচেতন নাগরিক সমাজ এ মানববন্ধন করে।

মানব বন্ধন চলাকালে বক্তারা অভিযোগ করে বরেন গত ১৭ই অক্টোবর অনুষ্ঠিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদ নির্বাচনের ১৩৮২ জন ভোটার অর্থাৎ ৫টি পৌরসভার মেয়র-কাউন্সিলর, ৯টি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান-ভাইস চেয়ারম্যান এবং ১০০ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যগণ তাদের ভোট নিলামে তুলে চরম নৈতিক অধঃপতনের পরিচয় দিয়েছেন। নির্বাচনকালীন তাদের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বাস্তব অবস্থা অবলোকন এবং গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের ভিত্তিতে আমরা উদ্বিগ্ন। তারা ভোটের পবিত্রতা ভুলুন্ঠিত করেছেন। তাছাড়া এই ধরনের জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে সামাজিক ন্যায় বিচার এবং সমাজে শান্তিশৃঙ্খলা আশা করা যায় না। টাকার বিনিময়ে সালিশ দেনদরবার করে তারা সমাজে শুধু অশান্তির আগুনই ছড়াবেন।

সর্বোপরি প্রান্তিক পর্যায়ে সরকারের সকল উন্নয়ন কর্মকান্ড বাস্তবায়ন তাদের ওপর নির্ভরশীল। ভোটের বিনিময়ে টাকা খাওয়ার তাদের যে মনোভাব পরিলক্ষিত হয়েছে তাতে আমরা নিশ্চিত তাদের মাধ্যমে জেলার উন্নয়ন কর্মকান্ড বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। প্রকল্পের বরাদ্দ তারা শুধু লুটপাটই করবেন। মানববন্ধনে সচেতন নাগরিক সমাজের প্রধান সমন্বয়ক কমরেড নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সুজনের সদর উপজেলা সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মোশারফ হোসেন, জেলা জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের সহ-সভাপতি শামসুল আলম, আলী আহমদ ও মো: মালেক মিয়া।

পরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। এতে বলা হয়- ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য পদে  ৫৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী প্রতিদ্বন্দ্বী এই প্রার্থীদের ভোট দেয়ার প্রতিশ্রুতিতে জেলায় ১০ কোটি টাকার বেশি হাতিয়েছেন ভোটাররা। যতো প্রার্থী তাদের দুয়ারে ধরনা দিয়েছেন সবার কাছ থেকেই টাকা রেখেছেন। কোন কোন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তার ভোট বিক্রি করেছেন আড়াই-তিন লাখ টাকাতে।

জেলা পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ড তথা সরাইল উপজেলায় সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বী ৫ জনের সঙ্গেই ভোট দেয়ার ওয়াদাবদ্ধ হয়ে লাখ লাখ টাকা নেন ভোটাররা। টাকার সঙ্গে তারা স্বর্ণালংকারও নিয়েছেন এক সদস্য প্রার্থীর কাছ থেকে। নবীনগর উপজেলায় (৮নং ওয়ার্ড) মো: নাসির উদ্দিন নামে এক প্রার্থীর জন্যে এলাকার সংসদ সদস্য নিজেই ৫০ হাজার টাকা করে কয়েকটি ইউনিয়নের ভোট কিনেন বলে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা নির্বাচনকালীন নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে দফায় দফায় অভিযোগ করেন। সংসদ সদস্য টাকার সাথে একটি করে মোবাইলও দেন ভোটারদের। এখানে সাবেক এক সংসদ সদস্যও লাখ লাখ টাকা খরচ করে চেয়ারম্যান প্রার্থীর ভোট ক্রয় করেন।

জেলার অন্যান্য আসনের সংসদ সদস্যদেরকে দল সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থীকে পাশ করাতে টাকা ঢালতে হয়েছে। এভাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জেলা পরিষদ নির্বাচনে সর্বত্র টাকার বিনিময়ে  ভোট  কেনাবেচা হয়। প্রত্যেক ভোটার তাদের নিজের ভোটের নিলাম তুলেন। সংসদ সদস্যদের কাছ থেকে টাকা গ্রহণ করে টাকার জন্য তারা কতোটা বেপরোয়া ছিলেন তার প্রমাণ দিয়েছেন। প্রার্থীরা এরই মধ্যে এনিয়ে মুখ খুলছেন এবং টাকা আদায়ের জন্যে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন। টাকা নেয়ার সময় ভোটারদের অনেকে কসম খেয়েছেন, ওজু করে নামাজের জন্যে প্রস্তুত অবস্থায় টাকা গ্রহণ করে প্রার্থীকে আশ^স্ত করেন যে, আমি আপনাকেই ভোট দেব। তাদের এসব কীর্তি কান্ড জেলার সর্বত্র ঘৃণার সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে, সাধারণ মানুষ ধিক্কার জানাচ্ছেন।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *