যেসব খাবার নারীর সন্তান ধারণের ক্ষমতা বাড়ায়

নারীর শরীরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর একটি হলো জরায়ু। নারীর প্রজনন ব্যবস্থার মৌলিক অংশ হিসাবে এটি প্রধান ভূমিকা পালন করে। কিছু খাবার জরায়ুর স্বাস্থ্য ভালো রাখার মাধ্যমে প্রজনন ব্যবস্থার উন্নতি করে। বর্তমানে নারীর মধ্যে বন্ধ্যাত্ব বা সন্তান ধারণে অক্ষমতার সমস্যা অনেক বেশি বেড়েছে।

অনেক নারী পিসিওডি বা পিসিওএস-এর মতো সমস্যায় ভুগছেন। বন্ধ্যাত্বের জন্য দায়ী উল্লেখযোগ্য কারণগুলোর মধ্যে একটি হলো অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন। প্রজনন সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যা দূর করতে হলে সবার আগে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন নিশ্চিত করতে হবে। সুস্থ প্রজনন ব্যবস্থার জন্য সুস্থ শরীর অপরিহার্য।

খাবার আমাদের শরীর গঠনের জন্য অন্যতম প্রয়োজনীয় উপাদান। এবং অবশ্যই সেগুলো স্বাস্থ্যকর ও সঠিক খাবার হতে হবে। তবে চলুন জেনে নেওয়া যাক এমন ৫ ধরনের খাবার সম্পর্কে যেগুলো নারীর প্রজনন ব্যবস্থার উন্নতি করে সন্তান ধারনের ক্ষমতা বাড়ায়-

 

নারীর প্রজনন ব্যবস্থার উন্নতি করে এমন কিছু খাবার সম্পর্কে জেনে নিন-

বেরি জাতীয় ফল: বেরি জাতীয় ফলে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট সমৃদ্ধ থাকায় নারীর প্রজনন ক্ষমতা বাড়াতে কাজ করে। এ জাতীয় ফল ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতেও কাজ করে। বেরি জাতীয় ফল খুব সহজেই খাবারের সঙ্গে মেশাতে পারেন।দই

দই পেটের আলসার ও ভ্যাজাইনাল ইনফেকশন দূর করতে বেশ কার্যকরী। দইয়ে আছে পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম যা হাড় ভালো রাখতে কাজ করে। প্রতিদিন এক কাপ দই খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য বেশ ভালো।

কার্বোহাইড্রেট: পর্যাপ্ত কার্বোহাইড্রেট রয়েছে এ রকম কিছু খাবার নির্বাচন করুন, যেমন- লাল চাল, লাল আটা, ওটসসহ আরও কিছু খাবার। এ ধরনের খাবারের মধ্যে জিংক, সেলেনিয়াম ও প্রচুর ভিটামিন বি থাকে। যা সন্তান ধারণে সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে। তবে রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট যে সকল খাবার তৈরিতে ব্যবহার করা হয়; এ ধরনের খাবার রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বাড়িয়ে দেওয়ার সঙ্গে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। তাই এ ধরনের খাবার পুরোপুরি বাদ দেওয়া বা যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলাই ভালো। তাই এ ধরনের খাবার বাদ দেওয়াই শরীরের জন্য ভালো।

ডিম: বিভিন্ন ভিটামিনের অনেক বড় উৎস হলো ডিম। এটি প্রজনন ক্ষমতা বাড়াতেও কাজ করে। ডিমে আরও রয়েছে ওমেগা ৩ ও কোলিন। এটি প্রথমত সন্তান ধারণের ক্ষমতা বাড়ায়, দ্বিতীয়ত অনাগত শিশুর জন্মগত কিছু ত্রুটি দূর করতে কাজ করে। তাই সুস্থ প্রজনন ক্ষমতার জন্য প্রতিদিন ডিম খাওয়ার অভ্যাস করুন।

তেলযুক্ত মাছ: মাছে থাকে স্বাস্থ্যকর তেল বা চর্বি যা ওমেগা ৩ বা ওমেগা ৬ ফ্যাটি অ্যাসিড নামে পরিচিত। প্রজনন ব্যবস্থার উন্নতি ছাড়াও এটি ত্বকের শুষ্কতা, চুলের রুক্ষতা, নখের ভঙ্গুরতা, ক্লান্তি, অস্বস্তি, অতিরিক্ত ওজন, পিএমস, বাতের ব্যথা, উচ্চ রক্তচাপ, দেরিতে ক্ষত শুকানো, ত্বক ফাটা ও চুল পড়ার মতো সমস্যা দূর করে। তেলযুক্ত মাছ খেলে তা আমাদের পেশির উন্নতির পাশাপাশি অনেক রকম অসুখকেও দূরে রাখে।

দই: পেটের স্বাস্থ্যের জন্য দই খুবই উপকারী। এটি ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম বা আইবিএস এবং পাচনতন্ত্রের বিভিন্ন সমস্যা দূর করতে কাজ করে। সেইসঙ্গে এটি পেটের আলসার ও ভ্যাজাইনাল ইনফেকশন দূর করতেও কাজ করে। দইয়ে আছে পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম যা হাড় ভালো রাখতে কাজ করে। তাই প্রতিদিন এক কাপ দই খাওয়া নারীর জন্য জরুরি। চাইলে এর সঙ্গে তাজা ফল বা বাদাম মেশাতে পারেন।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *