ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে জমি বিক্রির বায়নানামা করে ৭ লাখ টাকা গ্রহণ, জাল দলিল তৈরি এবং জমি রেজিস্ট্রি না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কয়েকজনের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় মো. মোশারফ হোসেন (৩৬) নামে এক ব্যক্তি বিজয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর এজাহার দিয়েছেন। তিনি বিজয়নগর প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে এজাহারে উল্লেখ করেছেন।
এজাহারে অভিযুক্ত হিসেবে মো. শামসুল আলম, মো. সোলায়মান (দলিল লেখক), মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন, মাসুকুর রহমান ভূঁইয়া ও মনিরুল ইসলামের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি অভিযুক্তদের কাছ থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার পশারচাঁদ মৌজার ৩৪২ নম্বর খতিয়ান ও ৩৪২ নম্বর দাগের দুই শতক জমি কেনার বিষয়ে আলোচনা হয়। জমিটির মূল্য ২৩ লাখ টাকা নির্ধারণ করে বায়নানামা সম্পাদন করা হয়।
এ সময় অগ্রিম হিসেবে চার লাখ টাকা এবং পরবর্তী সময়ে আরও তিন লাখ টাকা দেওয়া হয় বলে দাবি করেছেন এজহারকারী। সব মিলিয়ে সাত লাখ টাকা গ্রহণের পরও জমিটি রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হয়নি বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজহারে আরও বলা হয়, জমির মালিকানা ও দলিলসংক্রান্ত বিষয়ে বিরোধ দেখা দিলে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হয়। পরে ২ নং চান্দুরা ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতে অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগকারীর দাবি, নোটিশ দেওয়ার পরও অভিযুক্তরা শুনানিতে উপস্থিত হননি। পরবর্তী সময়ে ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যানের তদন্তে জমিসংক্রান্ত দলিলের স্বাক্ষর ও টিপসই জালিয়াতির বিষয় উঠে আসে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলাহয়েছে, দলিল লেখকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পরস্পরের যোগসাজশে কথিত জাল সাফ-কবলা দলিল তৈরি ও ব্যবহার করেছেন। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সরকারি নিবন্ধন ফি ও রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ারও উদ্দেশ্য ছিল বলে অভিযোগকারীর দাবি।
এ ঘটনায় তিনি নিজের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন এবং থানায় সাধারণ ডায়রি করেছেন ।
এজাহারের সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদের প্রত্যয়নপত্র, বায়নানামার হিসাবসংবলিত কপি এবং কথিত জাল দলিলের পাঁচ পৃষ্ঠার অনুলিপি সংযুক্ত করেছেন বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি এজহারটি আমলে নিয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিজয়নগর থানার পুলিশ প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।
এই বিষয়ে বিজয়নগর থানার অফিসার ইনচার্জ
আহসান উল্লাহ এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমরা এজহার পেয়েছি এবং একজন তদন্ত কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দিয়েছি, আর এখন আমরা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বড় উৎসব দূর্গাপূজা নিয়ে চরম ব্যাস্ততায় আছি।পূজা শেষে আমরা এ বিষয়টি নিয়ে গুরুত্ব সহকারে যথাযথ ব্যবস্থা নিব।

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।