আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩:৫১ অপরাহ্ন
মেক্সিকোর পর্যটননির্ভর অর্থনীতিকে বড় ধরনের হুমকির মুখ থেকে বাঁচাতে ক্যারিবীয় উপকূলজুড়ে বিশাল আকারের সারগাসাম শৈবালের বিরুদ্ধে অভিযানে নেমেছে দেশটির নৌবাহিনী। মেক্সিকোর ক্যারিবীয় সৈকতগুলোতে প্রতিদিন হাজার হাজার টন সামুদ্রিক শৈবাল ভেসে এসে জমা হচ্ছে, যা স্থানীয় পর্যটন শিল্পের জন্য মারাত্মক উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সামুদ্রিক এই শৈবাল বিপুল পরিমাণে জমে থাকার কারণে উপকূলের পানির রঙ স্বাভাবিক নীল থেকে পরিবর্তন হয়ে বাদামী বা চকলেট রঙে পরিণত হয়েছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দা ও মেক্সিকোর মনোরম সৈকতগুলোতে ঘুরতে আসা বিদেশি পর্যটকদের মাঝে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, আটলান্টিক মহাসাগরে সারগাসাম শৈবালের অতিরিক্ত বংশবৃদ্ধির কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সমুদ্রের তলদেশ থেকে বিশাল আকারের এই শৈবালের স্তূপ ভেসে এসে প্রতিদিন সমুদ্রসৈকতগুলোকে ঢেকে ফেলছে, যার ফলে দুর্গন্ধ ও পরিবেশগত সমস্যা তৈরি হচ্ছে।
মেক্সিকোর অর্থনীতি ব্যাপকভাবে পর্যটন খাতের ওপর নির্ভর করে। দেশটির ক্যারিবীয় অঞ্চলের সমুদ্রসৈকতগুলো প্রতি বছর কোটি কোটি বিদেশি পর্যটককে আকর্ষণ করে। শৈবালের এই উপদ্রব দীর্ঘস্থায়ী হলে পর্যটন রাজস্বে বড় ধরনের ধস নামার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মেক্সিকান নৌবাহিনী বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। নৌবাহিনীর জাহাজ এবং সদস্যরা উপকূলীয় এলাকা থেকে হাজার হাজার টন শৈবাল অপসারণের কাজে দিনরাত পরিশ্রম করছেন। তারা সমুদ্রের জলে বিশেষ ধরনের বাধা বা ব্যারিয়ার তৈরি করে শৈবালকে সৈকতে পৌঁছাতে বাধা দেয়ার চেষ্টা করছেন।
সমুদ্র থেকে শৈবাল সংগ্রহের পাশাপাশি সৈকতে জমা হওয়া শৈবাল দ্রুত পরিষ্কার করার জন্য ভারি যন্ত্রপাতি ও কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পর্যটন শিল্প এবং উপকূলীয় অঞ্চলের পরিবেশ রক্ষায় এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং সাগরের তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে প্রতি বছরই এই ধরনের সারগাসাম শৈবালের আক্রমণ বাড়ছে। ফলে এটি মেক্সিকোর জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদী চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে, যা মোকাবেলায় টেকসই সমাধানের পথ খুঁজছে মেক্সিকো সরকার।

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।