— বিজ্ঞাপন —

ইসরায়েলে ক্ষমতার লড়াই, নেতানিয়াহুকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান আইজেনকোটের

ইসরায়েলে ক্ষমতার লড়াই, নেতানিয়াহুকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান আইজেনকোটের
সংবাদটি শেয়ার করুনছবি, শিরোনাম ও সংক্ষিপ্ত বিবরণসহ
Facebook WhatsApp X Telegram

ইসরায়েলের নির্বাচনের পর সরকার গঠনের লড়াইয়ে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোট। তাঁর দাবি, ভোটাররা নেতানিয়াহুর নেতৃত্বের পরিবর্তে নতুন রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা চেয়েছেন। তবে বুথফেরত জরিপে কোনো জোটই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় পরবর্তী সরকার গঠন করতে হলে রাজনৈতিক সমর্থন আদায় ও জোটের সমীকরণ মেলানোই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভোরে তেল আবিবে নিজের দল ইয়াশারের কার্যালয়ে সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে আইজেনকোট বলেন, ইসরায়েলের মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। তাই সমাজের বিভিন্ন অংশের প্রতিনিধিত্ব করবে—এমন একটি সরকার গঠনে জোটসঙ্গীদের নিয়ে কাজ করবেন তিনি। তাঁর মতে, আবার নির্বাচন আয়োজন করা হবে ভুল সিদ্ধান্ত। জনগণের ইচ্ছা বাস্তবায়নে সম্ভাব্য সবকিছু করা তাঁর দায়িত্ব।

ইসরায়েলের সাবেক সেনাপ্রধান আইজেনকোটের দাবি, নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল প্রকাশের আগেই নেতানিয়াহুর বিরোধী জায়নবাদী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর অবস্থান আগের তুলনায় শক্তিশালী হয়েছে। তিনি মনে করেন, ভোটারদের রায়কে গুরুত্ব দিয়ে পরবর্তী সরকার গঠনের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

নেতানিয়াহুকে কড়া বার্তা: বক্তব্যে নেতানিয়াহুকে সরাসরি উদ্দেশ করে আইজেনকোট বলেন, নিজের রাজনৈতিক স্বার্থে ইসরায়েলের নিরাপত্তাকে ব্যবহার করা উচিত নয়। নিরাপত্তা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের প্রতিও তিনি আহ্বান জানান, তাঁরা যেন রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে দেশের নাগরিকদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেন।

আইজেনকোটের ভাষ্য, নেতানিয়াহু বর্তমানে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান। এ অবস্থায় নিরাপত্তা বাহিনী ও সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব হলো রাষ্ট্র এবং জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা। রাজনৈতিক বিভাজন ও উসকানির রাজনীতির অবসান ঘটানোর কথাও বলেন তিনি।

নতুন সরকার গঠনের ক্ষেত্রে সামরিক বাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগ নিশ্চিত করাকে অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেছেন আইজেনকোট। ইসরায়েলে সামরিক বাহিনীতে নিয়োগের বাধ্যবাধকতা এবং নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর নিয়োগ-সংক্রান্ত ছাড় দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয়। সরকার গঠনের আলোচনায় এই ইস্যু গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

জরিপে দুই জোটের আসনসংখ্যা কাছাকাছি: ইসরায়েলের চ্যানেল ১৩-এর হালনাগাদ বুথফেরত জরিপে নেতানিয়াহুর জোট এবং আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট—উভয় পক্ষের জন্য ৫১টি করে আসনের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। আরব দলগুলো পেতে পারে ১৮টি আসন। দেশটির পার্লামেন্ট নেসেটের মোট আসন ১২০টি। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ৬১টি আসন।

এর আগে চ্যানেল ১২-এর জরিপে আইজেনকোটের জোটের জন্য ৫২টি এবং নেতানিয়াহুর জোটের জন্য ৫০টি আসনের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। আরব দলগুলোর সম্ভাব্য আসনসংখ্যা ধরা হয়েছিল ১৮টি। অর্থাৎ জরিপের ফল হালনাগাদ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দুই প্রধান জোটের সম্ভাব্য আসনসংখ্যায় পরিবর্তন এসেছে। তবে কোনো জরিপেই দুই পক্ষের কেউ এককভাবে সরকার গঠনের প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি।

বুথফেরত জরিপের এই হিসাব চূড়ান্ত নির্বাচনী ফল নয়। ভোট গণনা শেষ হওয়ার পর আসনসংখ্যা বদলে যেতে পারে। তাই এখনই কোনো পক্ষকে নিশ্চিত বিজয়ী বা পরবর্তী সরকার গঠনের অধিকারী হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।

সরকার গঠনে আরব দলগুলোর ভূমিকা: দুই প্রধান জোটের কেউই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় আরব দলগুলোর অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। জরিপ অনুযায়ী, দলগুলোর সম্মিলিত আসনসংখ্যা ১৮ হতে পারে। তবে তারা কোন পক্ষকে সমর্থন করবে, কিংবা সরকার গঠনের আলোচনায় কী শর্ত দেবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটকে সরকার গঠন করতে হলে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার সমর্থন নিশ্চিত করতে হবে। একইভাবে নেতানিয়াহুর জোটেরও অন্যান্য দলের সমর্থন প্রয়োজন হতে পারে। ফলে আসনসংখ্যার পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক, নীতিগত অবস্থান ও জোট গঠনের শর্ত পরবর্তী সরকার নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে।

ভোটার উপস্থিতিতে রেকর্ড: ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশ। ১৯৯৯ সালের পর এটি সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি। ২০২২ সালের নির্বাচনের তুলনায় ভোটদানের হার বেড়েছে ৭ দশমিক ১ শতাংশীয় পয়েন্ট।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) স্থানীয় সময় রাত ১০টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর গণনা শুরু হয়। উচ্চ ভোটার উপস্থিতি নির্বাচনে ব্যাপক অংশগ্রহণের ইঙ্গিত দিলেও সরকার গঠনের প্রশ্নে অনিশ্চয়তা কাটেনি।

চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরবর্তী সরকার গঠনের দায়িত্ব প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ আইজেনকোটকে দিতে পারেন। তবে এ সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী ফল এবং পার্লামেন্টের দলগুলোর সুপারিশের ওপর। প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তের আগে কোন নেতা সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন জোগাড় করতে পারবেন, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

আগামী ৪ নভেম্বর আনুষ্ঠানিক ফল প্রকাশের কথা রয়েছে। এর আগে বুথফেরত জরিপের আসনসংখ্যাকে সম্ভাব্য হিসাব হিসেবেই দেখতে হবে। নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ এবং জোট গঠনের আলোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলের পরবর্তী সরকার কারা গঠন করবে, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

তথ্যসূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

পাঠকের মতামত

মন্তব্য ০

আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না।

পথিক নেটওয়ার্কআমাদের অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম
PothikTV ভিডিও ও লাইভ সম্প্রচার ↗ PothikTV সাহিত্য সাহিত্য, সংস্কৃতি ও লেখকবৃন্দের মঞ্চ ↗ PothikTV Marketplace বই ও শিক্ষণ সামগ্রী ↗ PothikTV Media Center মিডিয়া সংস্থা ও সেবাসমূহ ↗