আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ২ নভেম্বর ২০২৬, ৪:৫০ অপরাহ্ন
আমেরিকার মধ্যবর্তী (মিডটার্ম) নির্বাচনের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে পারমাণবিক হামলার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলে দাবি করেছেন দেশটির প্রভাবশালী সাংবাদিক টাকার কার্লসন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই চাঞ্চল্যকর ও সংবেদনশীল দাবি জানান। কার্লসনের মতে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর তীব্র চাপের মুখে ট্রাম্প প্রশাসন এমন একটি পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বিবেচনা করতে পারে।
কার্লসনের দাবি অনুযায়ী, ইরানের মধ্যাঞ্চলের পিক এক্স মাউন্টেন মার্কিন বাহিনীর সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। এই পাহাড়ের গভীরে ইরানের অত্যন্ত সংবেদনশীল পারমাণবিক স্থাপনা ও সুড়ঙ্গ রয়েছে।
মার্কিন সাংবাদিক কার্লসন প্রকাশ করেন যে, পাহাড়ের ভেতরে প্রায় ৩০০ ফুট গভীরে এই সুড়ঙ্গগুলো অবস্থিত। প্রথাগত মার্কিন অস্ত্র দিয়ে এই স্থাপনাগুলো ধ্বংস করার সামর্থ্য নেই। তাই সেখানে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
তিনি আরও দাবি করেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং সেন্টকম (CENTCOM) প্রধান ব্র্যাড কুপারসহ মার্কিন প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের ওপর চাপ বাড়াচ্ছেন। ইরানে পুনরায় বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করতেই এই চাপ দেওয়া হচ্ছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং সিআইএ প্রধান জন র্যাটক্লিফও নেতানিয়াহুর এই অবস্থানকে সমর্থন করছেন বলে কার্লসন উল্লেখ করেন।
ইরানে পরমাণু হামলা চালানো হলে তার পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন কার্লসন। তিনি বলেন, এই ধরনের হামলার ফলে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়তে পারে, যা কোটি কোটি মানুষের পানির চাহিদাকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করবে।
টাকার কার্লসন আরও দাবি করেন যে, মার্কিন এই পদক্ষেপের পর রাশিয়া ইউক্রেনের বিরুদ্ধে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের অজুহাত খুঁজে পেতে পারে। একই সঙ্গে পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যেও পারমাণবিক সংঘাতের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে।
মার্কিন এই সাংবাদিকের মতে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী ৭ নভেম্বরের মধ্যে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরের সবাই যে কঠোর অবস্থানের পক্ষে, তা নয়। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ইরানের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে চুক্তি করার পক্ষে রয়েছেন।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইরানে পারমাণবিক হামলার প্রস্তুতি বা এ সংক্রান্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সত্যতা নিশ্চিত করা হয়নি। এমনকি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেই ইতিপূর্বে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো সামরিক পদক্ষেপের বদলে কূটনৈতিক ও আলোচনার পথ বেছে নেওয়ার সুযোগ এখনও উন্মুক্ত রয়েছে।

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।