কবি আল মাহমুদ
বাংলা সাহিত্যের কিংবদন্তি কবি আল মাহমুদের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর জন্মস্থান ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আয়োজিত হতে যাচ্ছে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ১৩ জুলাই ২০২৫, শনিবার, বিকাল তিনটায় এই আয়োজনটি অনুষ্ঠিত হবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের ঐতিহ্যবাহী নিয়াজ মুহম্মদ উচ্চ বিদ্যালয়ের হলরুমে।
অনুষ্ঠানটির আয়োজন করছে কবি ‘আল মাহমুদ গবেষণা কেন্দ্র ও স্মৃতি পরিষদ’। আয়োজকরা জানিয়েছেন, এই অনুষ্ঠানে কবির সাহিত্যকর্ম, ব্যক্তিজীবন, দর্শন ও সামগ্রিক সাহিত্যিক অবদান নিয়ে আলোচনা করবেন স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের বিশিষ্ট কবি, গবেষক, শিক্ষক ,রাজনীতিবদ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা।
কবি আল মাহমুদ গবেষণা কেন্দ্র ও স্মৃতি পরিষদ এর সভাপতি মো: ইব্রাহিম খান সাদাত জানান, “আল মাহমুদ কেবল একজন কবি নন, তিনি বাংলা কবিতার এক শক্তিমান ধারক। এই কবির জন্মশতবার্ষিকী সামনে রেখে আমরা তাঁর সাহিত্য ও স্মৃতিকে সংরক্ষণ এবং প্রচারের কাজ হাতে নিয়েছি। আগামী শনিবারের আয়োজন সেই ধারাবাহিক প্রচেষ্টারই একটি অংশ।”
তিনি আরও বলেন, “আল মাহমুদের সাহিত্যচর্চা ও জীবনদর্শনকে নতুন প্রজন্মের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের লক্ষ্য।”
সাধারণ সম্পাদক লিটন হোসাইন বলেন, “আল মাহমুদের কবিতা শুধু শব্দের খেলা নয়, এটি ছিল সমাজের প্রতিচ্ছবি, সময়ের দলিল। এমন একজন কবি, যিনি বাংলা সাহিত্যে আধুনিকতা ও গ্রামীণ বাস্তবতার সমন্বয় ঘটিয়েছেন, তাঁর স্মরণে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে জন্মদিন পালন হওয়া উচিত ছিল। আমরা আশা করি, ভবিষ্যতে বাংলা একাডেমি এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় তাঁর স্মৃতিকে সম্মানিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করবে।”
আলোচনা সভার পাশাপাশি থাকবে আবৃত্তি, কবিতা পাঠ, সংগীত পরিবেশনা এবং আল মাহমুদের কবিতার ওপর ভিত্তি করে নির্মিত তথ্যচিত্র প্রদর্শনী। স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের শিল্পীরা এতে অংশ নেবেন।
আয়োজকরা জানান, উন্মুক্ত এই আয়োজনে যে কেউ অংশ নিতে পারবেন। ইতোমধ্যে কবির অনুরাগী ও সাহিত্যমোদীদের মধ্যে অনুষ্ঠানটি ঘিরে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে।
উল্লেখ্য যে ১৯৩৬ সালের ১১ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কবি আল মাহমুদ। তাঁর কবিতা ‘লোক লোকান্তর’, ‘সোনালি কাবিন’, ‘কালের কলস’ প্রভৃতি গ্রন্থ বাংলা সাহিত্যে নতুন মাত্রা যোগ করে। তিনি ২০১৯ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন।
বাংলা সাহিত্যে গ্রামীণ বাস্তবতা, ঐতিহ্য, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য এবং মানবিক চেতনার নিপুণ মিশ্রণে কবি আল মাহমুদের স্থান অনন্য।