মাদকদ্রব্য ধ্বংসের পর কর্মকর্তার পকেট থেকে ইয়াবা উদ্ধার, ম্যাজিস্ট্রেট পাঠালেন শ্রীঘরে

লেখক: Md Emon
প্রকাশ: ৬ মাস আগে

ডেক্স রিপোট

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদকদ্রব্য ধ্বংসের সময় ১ হাজার ২২টি ইয়াবা পকেটে লুকানোর অভিযোগে মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত বুধবার তাঁকে আটকের পর গতকাল বৃহস্পতিবার তাঁর বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়েছে।

 ওই কর্মকর্তার নাম মাহমুদুল হাসান (৩০)। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের সহকারী প্রসিকিউটর হিসেবে কর্মরত। তাঁর বাড়ি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার চান্দ্রশী গ্রামে। গ্রেপ্তারের পর গতকাল আদালতের মাধ্যমে তাঁকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০ আগস্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়ার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এক আদেশে জেলায় জব্দ করা মাদকদ্রব্য ধ্বংসের একটি কমিটি গঠন করা হয়। এতে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জালাল উদ্দিনকে সভাপতি ও সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বেগম আফরিন আহাম্মেদকে সদস্যসচিব করা হয়। এ ছাড়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফরহাদ রায়হান, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাকিবুল হাসান ও শাখাওয়াত হোসেনকে সদস্য করা হয়। বুধবার বিকেলে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের দক্ষিণে জেলার বিভিন্ন ইউনিটের জব্দ করা মাদক ধ্বংসের আয়োজন করা হয়। এ সময় কমিটির সদস্যরা ছাড়াও জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি হিসেবে সহকারী প্রসিকিউটর মাহমুদুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।

মামলা সূত্রে আরও জানা যায়, আদালতের মালখানায় জমা থাকা মাদকদ্রব্যগুলো আদালত চত্বরে আনা হয়। মাহমুদুলের কাছে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের জব্দ করা মোট আলামত ছিল ১ হাজার ১৫৮টি ইয়াবা, ৩৮ কেজি ৮৯০ গ্রাম গাঁজা, ১৬ বোতল মদ। মালখানা থেকে মাদকদ্রব্য আনার সময় মাহমুদুল এক প্যাকেট ইয়াবা নিজের পকেটে লুকিয়ে ফেলেন। মাদকদ্রব্য ধ্বংসের পর মাহমুদুলের ডান পকেট ফোলা ও তাঁর গতিবিধি দেখে উপস্থিত ম্যাজিস্ট্রেটদের সন্দেহ হয়। পরে তাঁরা মাহমুদুলকে ডেকে পকেট ফোলা থাকার কারণ জিজ্ঞাসা করেন। কিন্তু মাহমুদুল কোনো উত্তর দিতে পারেননি। একপর্যায়ে মাহমুদুল তাঁর প্যান্টের ডান পকেট থেকে কালো পলিথিনে মোড়ানো ১ হাজার ২২টি ইয়াবা বের করেন। এ সময় ম্যাজিস্ট্রেটরা তাঁকে গ্রেপ্তার করে মাদক জব্দ করার নির্দেশ দেন। বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে মাহমুদুলকে সদর থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

মাহমুদুলের বিরুদ্ধে করা মামলায় বাদী হয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা জজ আদালতের উপপরিদর্শক (এসআই) যোবাইদুল হাছান। তিনি বলেন, পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় ১ হাজার ২২টি ইয়াবা মাহমুদুলের পকেট থেকে জব্দ করা হয়। এগুলোর ওজন ১০২ দশমিক ০২ গ্রাম। তিনি অবৈধ ও বেআইনিভাবে মাদকদ্রব্য নিজ হেফাজতে রেখে ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(১)–এর ১০(ক) ধারার অপরাধ করেছেন। তাঁকে মামলা দিয়ে সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক বেলায়েত হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার মা অসুস্থ। আমি হাসপাতালে আছি। এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। আপনি থানায় যোগাযোগ করুন।’

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসলাম হোসেন বলেন, মাদকদ্রব্য ধ্বংসের সময় ইয়াবা লুকানোর ঘটনায় থানায় একটি মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিকে গতকাল বিকেলে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

সূত্র: প্রথম আলো

পথিক নিউজ/ মো: ইমন