মাদকের মতোই নেশা স্মার্টফোনে

লেখক:
প্রকাশ: ৪ সপ্তাহ আগে

মাদক দ্রব্যের প্রতি অনেক তরুণদেরই নেশা অটুট, এমন খবর অহরহই মেলে। একই সঙ্গে বর্তমানে ছোট-বড় কমবেশি সবাই অনলাইন গেইম ও অতিরিক্ত স্মার্টফোন ব্যবহারে আসক্ত। যা মাদকের মতোই শারীরিক বিভিন্ন সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

 

সম্প্রতি এক গবেষণা বলছে মাদক দ্রব্যের থেকে কিছু কম নয় অনলাইনে গেইম খেলার নেশা কিংবা অতিরিক্ত স্মার্টফোনের ব্যবহার। সাম্প্রতিককালে ব্রেনের ইমেজিং করে দেখার পরেই বিজ্ঞানীরা এমনটিই জানাচ্ছেন।

 

 

ইমেজিংয়ে দেখা গেছে, মাদক সেবনের ফলে ব্রেনের যেমন চেহারা হয়, তেমনটিই হচ্ছে অনলাইন গেইমিংয়ের মতো নেশায়। দিন দিন এই নেশা বাড়ছে। আর বাড়ছে নেশার কারণে নানা অসুস্থতা। এবার মাদক সেবনের সঙ্গে তার মিল পেলেন বিজ্ঞানীরা।

 

অনলাইনে দিন-রাত গেইম খেলার অভ্যাসকে ইন্টারনেট গেমিং ডিসঅর্ডার বা আইজিডি নাম দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। দিনের অনেকটা সময় এমন গেম খেলার ফলে ব্রেনের গঠনগত পরিবর্তন ঘটছে।

 

 

সেই ছবিই ব্রেন ইমেজিংয়ে ধরা পড়ে। তা দেখা যায়, মাদক সেবন করলেও একই অবস্থা হয় মস্তিষ্কের। যা দেখে রীতিমতো উদ্বিগ্ন গবেষকদের। অনলাইন গেইম খেলে তবে কি মাদক সেবনের মতোই ক্ষতি হচ্ছে শরীরের?

 

স্মার্ট ফোনের ব্যবহার নিয়ে এর আগেও নানাভাবে সতর্ক করেছে গবেষকরা। বহু গবেষণায় দেখা গেছে, এর কুফল। এবার আরেকটি নতুন কুফলের খোঁজ মিললো গবেষণায়।

 

 

তবে ফোন সংক্রান্ত এই সব সমস্যাকে একটি ছাতার তলায় নিয়ে এসেছিলেন জোয়েল বিলিক্স। ২০১৯ সালে তিনি তার গবেষণায় সমস্যাটির নাম দেন স্মার্টফোন ডিসঅর্ডার। এর মধ্যে ফোন সংক্রান্ত সব সমস্যাই পড়ছে।

 

স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের মধ্যে বেশ কিছু সমস্যা দেখা দেয়। তার মধ্যে অন্যতম হলো- কেনো কারণ ছাড়াই ঘন ঘন উত্তেজিত হয়ে পড়া। এর প্রভাব পড়ে ব্যক্তিজীবনে। ফলে সম্পর্কে টানাপোড়েন দেখা দেয়।

 

কোন কোন রোগের শিকার হচ্ছেন স্মার্টফোনে আসক্তরা?

 

 

ফোনের চূড়ান্ত নেশা যাদের, তাদের মধ্যে একাধিক শারীরিক ও মানসিক রোগ দেখা দিতে পারে। ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিনের তরফে একটি গবেষণা করা হয়। তাতে বেশি ফোন ব্যবহার করেন ও কম ফোন ব্যবহার করেন এমন দুটি দলের মধ্যে পরীক্ষা নিরীক্ষা হয়।

দেখা যায়, বেশি ফোন ব্যবহারকারীদের ওজন বেড়ে যাওয়া, চোখের সমস্যা, গলা ও ঘাড়ে ব্যথা, কোমরে ব্যথার হার বেশি। অন্যদিকে মানসিক সমস্যাগুলির মধ্যে অবসাদ, সম্পর্কের সমস্যা, মেজাজ বিগড়ে যাওয়ার প্রবণতা বেশি।

 

সূত্র: এবিপি লাইভ/এনসিবিআই

ইমি/পথিক নিউজ