অচল মুদ্রার গল্প: টিনের বাক্সে বন্দি বাংলাদেশের অতীত”

লেখক: ফাহমিদা ফিরোজ
প্রকাশ: ৫ মাস আগে

টিনের ডিবেতে সংরক্ষিত পুরনো ১ টাকার কয়েন—যে মুদ্রা একসময় ছিল প্রতিদিনের সঙ্গী, এখন তা কেবল ইতিহাসের অংশ।এই ধরনের ১ টাকা ও ২ টাকার পিতল রঙের কয়েন (যেমন ২০০৪–২০১২ সালের কয়েনগুলো)এখন ব্যবহারিক লেনদেনে প্রায় অচল—দোকানপাটে এগুলো খুব কমই গ্রহণ করে। টিনের ছোট একটি ডিবে ভর্তি লালচে রঙের এক টাকার কয়েন। একসময় এই ধাতব টাকার টুংটাং শব্দে মুখর ছিল বাজার, দোকান আর মানুষের হাত। এখন সেই শব্দ হারিয়ে গেছে—রয়ে গেছে শুধু স্মৃতি, আর ইতিহাসের সাক্ষ্য হয়ে থাকা কয়েকটি মুদ্রা।স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ নিজস্ব কয়েন চালু করে। পিতল ও ব্রোঞ্জের মিশ্র ধাতুতে তৈরি এসব লালচে রঙের ১ টাকার কয়েনে খোদাই করা থাকত ধানের শীষ, নদীর ঢেউ আর বাংলাদেশের নাম। সেসব কয়েন ছিল নতুন রাষ্ট্রের আর্থিক স্বাধীনতার প্রতীক, সাধারণ মানুষের আস্থা ও স্বপ্নের প্রতিচ্ছবি।সময় বদলে গেছে। ডিজিটাল লেনদেন, মোবাইল ব্যাংকিং আর নোটের আধিক্যে হারিয়ে গেছে ছোট মুদ্রার ব্যবহার। এখন এই কয়েনগুলো পাওয়া যায় টিনের বাক্সে, আলমারির কোণে, কিংবা কোনো সংগ্রাহকের যত্নে সংরক্ষিত অবস্থায়।যে মুদ্রায় একসময় পাওয়া যেতো বিস্কুট, পপকর্ন কিংবা একটা মিষ্টি, সেই কয়েন এখন ইতিহাসের অংশ। অচল হলেও এগুলো অমূল্য—কারণ প্রতিটি কয়েন সাক্ষী ছিল এক সময়ের বাংলাদেশের। এগুলো বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ইতিহাসের অংশ —স্বাধীনতার পরের কয়েক দশকে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে এগুলোর ভূমিকা ছিল অনেক বড়।যারা নিউমিসম্যাটিক সংগ্রাহক (coin collectors), তারা এসব কয়েন ঐতিহাসিক স্মারক হিসেবে রাখে এমনি একজন মানুষ পাওয়া গেছে ছাগলনাইয়া উপজেলার পাঠান নগর ইউনিয়নে পূর্ব শিলুয়া গ্রামে। যে কিনা হাইস্কুলে পড়াকালীন এ মুদ্রা গুলো জমায় এবং খরচ না করে স্মৃতি হিসেবে রেখে দেয়। বাংলাদেশের ইতিহাসের পাতায় এ মুদ্রা খুবই পরিচিত ছিল।