অসহায় কৃষকদের হাতে তুলে দিলেন তিন লক্ষাধিক টাকার সবজির বীজ বিনামূল্যে বিতরণ

লেখক: মফিদুল ইসলাম সরকার
প্রকাশ: ৫ মাস আগে

রংপুরের তরুণ সংবাদকর্মী ও ডেইলি সানের রংপুর জেলা প্রতিনিধি মো: মফিদুল ইসলাম সরকার স্থানীয় দাতাদের সহযোগিতায় অসহায় কৃষকদের মাঝে বিভিন্ন ধরনের সবজির বীজ, বিশ হাজার বেগুনের চারা এবং চার হাজার ফুলকপির চারা বিনামূল্যে বিতরণ করেছেন।

তিনি বাড়ি বাড়ি গিয়ে এসব সহযোগিতা পৌঁছে দিচ্ছেন। তার সামাজিক কাজের এই পদ্ধতি দেখে অনেকেই এখন একইভাবে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

এ বিষয়ে সাংবাদিক মফিদুল ইসলাম সরকার বলেন, “আমি ২০০৫ সাল থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সহযোগিতা শুরু করি। কারণ দেখেছি—মাত্র একশ টাকার একটি কম্বলের জন্য অসহায় মানুষদের ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে হয়। আমি চেয়েছিলাম যেন এই পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়। এখন ভালো লাগে—অনেক রাজনৈতিক নেতাও বাড়ি বাড়ি গিয়ে সহযোগিতা করছেন।”

শুধু তাই নয়, দাতাদের সহায়তায় তিনি বর্তমানে সবজির বীজের পাশাপাশি সার এবং বিভিন্ন জাতের দুই কেজি করে ধানের বীজও বিতরণ করছেন।

সাংবাদিক মফিদুল ইসলাম সরকার প্রতি সপ্তাহে শিশুদের জন্য আয়োজন করেন খিচুড়ি ভোজ। শিশুদের আনন্দ দিতে প্রতিবারই থাকছে নানান প্রতিযোগিতা, এবং প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া সব শিশুকে দেওয়া হয় উপহার সামগ্রী।

ডেইলি সানের রংপুর প্রতিনিধি হিসেবে কাজের পাশাপাশি মফিদুল ইসলাম বহু বছর ধরে স্থানীয় দাতাদের সহায়তায় অসহায় ও দরিদ্র মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। তার মানবিক কার্যক্রমের পরিধি এখন বেশ বিস্তৃত।

প্রতি সপ্তাহের শিশুদের খিচুড়ি ভোজ ছাড়াও তিনি শীতকালে কম্বল ও শীতবস্ত্র বিতরণ করেন এবং দরিদ্র শিশুদের এক বছরের শিক্ষা সামগ্রী দিয়ে সহায়তা করেন। অসহায় মানুষের বাড়ি গিয়ে চাউলসহ এক সপ্তাহের বাজার এবং খাবারের আয়োজনও করেন তিনি।

পীরগাছা উপজেলার সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ কার্যক্রমও শুরু করেছেন মফিদুল। যা পরিবেশ সচেতনতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

মফিদুল ইসলাম সরকার জানান, স্থানীয় দাতাদের সহযোগিতায় তিনি এসব কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছেন। ২০২৬ সাল থেকে শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা সামগ্রীর পাশাপাশি একটি করে স্কুল ব্যাগ উপহার দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

তার এই ধারাবাহিক মানবিক কার্যক্রম স্থানীয় মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। তিনি প্রমাণ করেছেন—ছোট উদ্যোগও সমাজে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

সামাজিক কাজে তাকে সহযোগিতা করছেন অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল আব্দুল বাতেন, মাওলানা এটিএম আজম খান, ঢাকা সাভারের স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত কবি ইলোরা সোমা, নাইজেরিয়া প্রবাসী সুমন চন্দ্র, আলীফ সীডের মালিক বেলাল হোসেন, সার ডিলার রাজন, এগ্রি ফাস্টের মালিক শরিফুল ইসলাম, পটুয়াখালীর ফরহাদ হোসেন শিকদার, ডা. রওশন আরা এবং আরও বেশ কিছু স্থানীয় ডোনার। তাদের নিয়মিত সহায়তার কারণেই তিনি ধারাবাহিকভাবে সামাজিক কাজ চালিয়ে যেতে পারছেন।