আমি যদি আবার জন্মাই:লিটন হোসাইন জিহাদ

লেখক:
প্রকাশ: ৫ মাস আগে
আমি যদি আবার জন্মাই

কবি লিটন হোসাইন জিহাদ সমকালীন বাংলা কবিতার এক স্বতন্ত্র উচ্চারণ। তাঁর কবিতায় গ্রামবাংলার মাটি, মানুষের জীবনযাত্রা ও অন্তর্লোকের যে শব্দহীন আর্তি, তা অনন্য ভঙ্গিতে ধরা পড়ে। শব্দ ব্যবহারে তিনি মিতব্যয়ী—তবু তাঁর চিত্রকল্প শক্তিশালী, অনুভূতি গভীর, আর প্রকাশভঙ্গি দার্শনিক ভাবনায় সমৃদ্ধ।

জীবনের ক্ষুদ্রতম প্রান্ত থেকে তিনি তুলে আনেন মহত্তম সত্য, তাই তাঁর কবিতা পাঠকের হৃদয়ে আলোড়ন তোলে নিঃশব্দে, অথচ গভীরভাবে। বাংলা ভাষার প্রতি তাঁর নিষ্ঠা ও কাব্যচর্চার অনুরাগ তাঁকে আলাদা করে চিহ্নিত করে।

কবি লিটন হোসাইন জিহাদ নিঃসন্দেহে আমাদের সময়ের এক আশাব্যঞ্জক কবি—যাঁর লেখনী ভবিষ্যতেও বাংলা কবিতাকে সমৃদ্ধ করবে। নিচে তার লিখা আবার যদি জন্মায় কবিতাটি দেওয়া হলো।

liton hossain jihad

আমি যদি আবার জন্মাই— চন্দ্রিকা হবো না আর
যে তোমার মুখ ছুঁয়ে উদ্ভাসিত হয়।
আমি হবো অন্ধ গুহা—নিজের প্রতিবিম্ব দেখে
বোঝবে, মানুষ আসলে নিজের ভেতরেই
সবচেয়ে বেশি হারায়।

আমি যদি আবার জন্মাই—প্রেম করবো না।
প্রেম বড়ো নিপুণ খেলা—চুমুর মতো কোমল,
কিন্তু হৃদয়ে লুকিয়ে রাখে দীর্ঘশ্বাসের ছুরি।
আমি হবো নীরব প্রভঞ্জন —চোখে ধুলো দিয়ে
তোমাকে শেখাবো, বিশ্বাস ভাঙলে
শব্দরাও কাঁদে।

আমি যদি আবার জন্মাই—আমি নদী হবো না।
নদী তো প্রার্থনা করে জলধির।
আমি হবো তৃষ্ণার মরুভূমি—
যেখানে জল নেই,
আশা নেই,
বেঁচে থাকার স্বাদ নেই,
কান্নাই হবে তৃষ্ণার একমাত্র উৎস।
কারণ মানুষ কখনো কখনো নিজের শাস্তি নিজেই হয়ে ওঠে।

আমি যদি আবার জন্মাই— শব্দ ছাড়াই বাঁচবো।
কারণ শব্দ মানুষকে শেখায়
ভুল ভেবে বাঁচতে।
ব্যাকরণহীন,দীর্ঘশ্বাসের মতো আমি হবো অভিশাপ
শুধু উচ্চারণেই পুড়ে যাবে তোমার ঠোঁট —
যেন বুঝো, সব ক্ষত প্রেমের নয়,
কিছু ক্ষত আসে, জীবন নামের দায় থেকে।

আমি যদি আবার জন্মাই—
কবিতা লিখবো না আর
কবিতা তো দুর্বলদের বাঁচার অজুহাত।
আমি লিখবো এক কঠোর ইতিহাস—
যেখানে থাকবে শুধু অসমাপ্ত করুন কান্না—
যা পড়ে কেউ আর ফিরবে না
দ্বিতীয়বার।