
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত এখন ১২তম দিনে পৌঁছেছে এবং পরিস্থিতি ক্রমেই আরও জটিল হয়ে উঠছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা, নৌ ঘাঁটি এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে।
ইরান এই হামলার জবাবে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে বিভিন্ন স্থানে পাল্টা আক্রমণ চালাচ্ছে। যুদ্ধ থামাতে এখনো কোনো যুদ্ধবিরতির লক্ষণ দেখা যায়নি।
ইরান সরকার জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দেশটিতে ১,৩০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।
বিভিন্ন শহরে বোমা হামলা ও ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে হাজার হাজার বেসামরিক স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে।
এছাড়া বহু স্কুল, হাসপাতাল এবং আবাসিক এলাকাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ইরান।
দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরের একটি মেয়েদের স্কুলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৬০-১৮০ জনের বেশি মানুষ নিহত, যাদের বেশিরভাগই শিশু।
জাতিসংঘসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এই হামলার নিন্দা জানিয়ে স্বাধীন তদন্তের দাবি করেছে এবং এটিকে সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরান পারস্য উপসাগর অঞ্চলে একাধিক হামলা চালিয়েছে।
হরমুজ প্রণালীর কাছে কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা
দুবাই বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনায় আঘাত
বিভিন্ন উপসাগরীয় অঞ্চলে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
এসব হামলার ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
যুদ্ধের কারণে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (IEA) জরুরি মজুদ থেকে ৪০০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০% তেল পরিবহন হয়, তাই সেখানে উত্তেজনা বাড়ায় বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব পড়ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানে ১৮টি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র হামলার শিকার হয়েছে এবং কয়েকজন স্বাস্থ্যকর্মী নিহত হয়েছে।
এছাড়া বহু মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়েছে এবং শরণার্থী সংকটও বাড়ছে।
ইরানের মিত্র গোষ্ঠীগুলো যেমন হিজবুল্লাহ ও ইরাকের কিছু মিলিশিয়া সংঘাতে সীমিতভাবে জড়িয়েছে।
তবে এখনো পুরো মধ্যপ্রাচ্যে বড় আকারের যুদ্ধ শুরু হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি যেকোনো সময় আরও বড় আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে।
✔ সংক্ষেপে বর্তমান পরিস্থিতি
যুদ্ধ শুরু: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রধান পক্ষ: ইরান বনাম যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল জোট
ইরানে নিহত: ১,৩০০+
বহু বেসামরিক স্থাপনা ধ্বংস
তেল বাজার ও বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় প্রভাব
