এনসিপিকে ছেড়ে দেওয়া আসনে দাঁড়িপাল্লা নিয়ে মাঠে জামায়াত প্রার্থী, চট্টগ্রাম-৮ এ জোটের প্রার্থী নিয়ে বিভ্রান্তি
চট্টগ্রাম নগরের পাঁচটি ওয়ার্ড ও বোয়ালখালী উপজেলা নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-৮ আসনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। আসনটি শরিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) ছেড়ে দেওয়া হলেও একই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আবু নাছের নিজ প্রতীক দাঁড়িপাল্লা নিয়ে প্রচারণায় নামায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চট্টগ্রাম-৮ আসনে এনসিপির প্রার্থী হিসেবে মো. জুবাইরুল হাসান আরিফকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। তবে জামায়াতের বোয়ালখালী উপজেলা শাখার নায়েবে আমির মো. আবু নাছের মনোনয়ন প্রত্যাহার না করায় নিয়ম অনুযায়ী তিনি দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লা বরাদ্দ পান এবং গত বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) থেকে প্রচারণায় নামেন।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে গেলে আইনগতভাবে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সুযোগ থাকে না। ফলে এই আসনে এনসিপির শাপলা কলি প্রতীকের পাশাপাশি জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকও থাকছে। যদিও দাঁড়িপাল্লা প্রতীক না রাখতে ২৩ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়েছিলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, তবে নির্বাচন কমিশন সেই আবেদন গ্রহণ করেনি।
স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, তফসিল ঘোষণার আগেই জামায়াতের প্রার্থী ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে মাঠে সক্রিয় ছিলেন। প্রতীক বরাদ্দের পর শরিক দলের প্রার্থীর সমর্থনে তিনি আর মাঠে ছিলেন না। বিপরীতে এনসিপির প্রার্থী জুবাইরুল হাসান আরিফ প্রচারণা শুরুর দিন থেকেই মাঠে রয়েছেন এবং দলের কেন্দ্রীয় নেতারাও বোয়ালখালীতে এসে প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন। তবে গত বুধবার থেকে আবু নাছের আবার নিজ প্রতীক নিয়ে প্রচারণা শুরু করায় জোটের প্রকৃত প্রার্থী কে—তা নিয়ে ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে।
তফসিল অনুযায়ী, গত ২১ জানুয়ারি ছিল মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন। ওই দিন দুপুরে প্রতীক বরাদ্দ নিলেও পরে এনসিপির প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়ে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন আবু নাছের। এরপর কিছুদিন তাকে মাঠে দেখা না গেলেও তার ফেসবুক পেজে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণামূলক পোস্ট দেখা যায়। গত ৩১ জানুয়ারি তার পক্ষে মহিলা জামায়াতের নেতাকর্মীরা বোয়ালখালীতে মিছিল করেন। পরে বুধবার চান্দগাঁও এলাকায় নির্বাচনী কার্যালয় উদ্বোধনের মাধ্যমে আবার সরাসরি প্রচারণায় নামেন তিনি। নগর ও উপজেলার বিভিন্ন সড়কে তার ব্যানার-বিলবোর্ডও দেখা গেছে।
এ বিষয়ে মো. আবু নাছের বলেন, “দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমি একসময় সরে দাঁড়িয়েছিলাম। কিন্তু স্থানীয় ভোটার ও নেতাকর্মীরা আমাকে নির্বাচনে থাকতে জোর করেছেন। তাদের অনুরোধেই আবার প্রচারণায় নেমেছি।”
জামায়াতের কেন্দ্রীয় সূত্র জানায়, চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে চট্টগ্রাম-৫, চট্টগ্রাম-৮, চট্টগ্রাম-১২ ও চট্টগ্রাম-১৪ আসন শরিক দলগুলোর জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কেবল চট্টগ্রাম-৮ আসনেই এ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। ২ ফেব্রুয়ারি নগর জামায়াতের জনসভায় জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান এনসিপির প্রার্থী জুবাইরুল হাসান আরিফের হাতে শাপলা কলি প্রতীক তুলে দেন।
এনসিপির প্রার্থী জুবাইরুল হাসান আরিফ বলেন, “জোটের পক্ষে স্থানীয় পর্যায়ে যে সহযোগিতা পাওয়ার কথা, তা পাচ্ছি না। উল্টো জামায়াতের প্রার্থী নিজে প্রচারণায় নেমেছেন। এতে ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। বিষয়টি আমরা কেন্দ্রীয় নেতাদের জানিয়েছি।”
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, “সমঝোতা অনুযায়ী আসনটি এনসিপিকে দেওয়া হয়েছে। সেখানে এনসিপির প্রার্থীই নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। বিষয়টি আবু নাছেরকেও জানানো হয়েছে।”
