কর্মসংস্থানের সুযোগ চায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নারীরা, প্রার্থীদের কাছে প্রতিশ্রুতি নয় বাস্তবায়নের প্রত্যাশা

লেখক: বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৪ মাস আগে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নারীদের কর্মসংস্থানের দাবি দিন দিন আরও জোরালো হয়ে উঠছে। ঘরে-বাইরে সমানভাবে কাজ করার আগ্রহ থাকলেও পর্যাপ্ত সুযোগের অভাবে অনেক নারীই পিছিয়ে পড়ছেন। স্থানীয় নারীদের অভিযোগ, নির্বাচন এলেই প্রার্থীরা নারীদের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও ক্ষমতায়নের কথা বলেন, কিন্তু নির্বাচন শেষ হলে সেই প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তব প্রতিফলন খুব কমই দেখা যায়।

ফলে বছরের পর বছর ধরে নারীরা একই সংকটের মুখে পড়ছেন। শহর ও গ্রাম—উভয় এলাকার নারীরা বলছেন, কাজ করার মানসিকতা ও সক্ষমতা থাকলেও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, পুঁজি ও নিরাপদ কর্মপরিবেশের অভাবে তারা কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করতে পারছেন না। অনেক শিক্ষিত নারী চাকরির সুযোগ না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়ছেন, আবার গ্রামাঞ্চলের নারীরা হস্তশিল্প, ক্ষুদ্র ব্যবসা বা কারিগরি কাজে যুক্ত হতে চাইলেও সহায়তার অভাবে উদ্যোগ নিতে পারছেন না। এতে করে একদিকে যেমন নারীদের আত্মনির্ভরশীলতা ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে পরিবার ও সমাজও তাদের সম্ভাব্য অবদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। নারীরা মনে করেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি শুধু চাকরি দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে প্রয়োজন দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা, বাজার ব্যবস্থার সঙ্গে সংযোগ এবং কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে নারীরা নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারবেন এবং দেশের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন। নারী অধিকারকর্মী ও সচেতন মহলের মতে, আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আবারও নানা আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে। তবে তারা জোর দিয়ে বলছেন, কাগুজে প্রতিশ্রুতি নয়—বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা ও তার কার্যকর বাস্তবায়নই এখন সময়ের দাবি। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের উচিত নারীদের কর্মসংস্থানকে অগ্রাধিকার দিয়ে টেকসই উদ্যোগ গ্রহণ করা। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নারীদের প্রত্যাশা, এবার যেন তাদের দাবি আর উপেক্ষিত না থাকে। তারা চান এমন বাস্তব পদক্ষেপ, যা শুধু নির্বাচনের সময় নয়, দীর্ঘমেয়াদে নারীদের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।