কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে ঝুঁকিপূর্ণ ভাঙা সেতুতে দুর্ভোগে ১৫ গ্রামের মানুষ

লেখক: Arisha Eme
প্রকাশ: ৪ মাস আগে
 কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে ঝুঁকিপূর্ণ ভাঙা সেতুতে দুর্ভোগে ১৫ গ্রামের মানুষ

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় একটি জরাজীর্ণ ও ভাঙা সেতুর কারণে হাজার হাজার মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার শিবনাথ সাহার বাজার সংলগ্ন কুড়িখাই নদীর ওপর নির্মিত সেতুটি বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

সেতুটির দুই পাশের রেলিং অনেক আগেই ভেঙে গেছে। পিলারের আস্তরণ ও ইট খসে পড়ছে, আর পাটাতনের বিভিন্ন অংশ ভেঙে যাওয়ায় যানবাহন ও পথচারী চলাচল মারাত্মকভাবে ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

এ অবস্থায় বোয়ালিয়া, নামা বোয়ালিয়া, তেলিচারা, কাহেতেরটেকী, ভাংনাদী, চারিয়া, দড়িচারিয়া, মাগুরা, কুড়িখাই, চাতল, মুমুরদিয়া, জোয়ারিয়া ও পিপুলিয়াসহ অন্তত ১৫ গ্রামের মানুষ প্রতিদিন মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে এই সেতু পার হচ্ছেন। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছে স্কুল, মাদ্রাসা ও কলেজগামী শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি সেতুর জীর্ণদশার কারণে ব্যবসায়ীদের মালামাল পরিবহনেও চরম সমস্যা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কটিয়াদী পৌরসভার বোয়ালিয়া এলাকা থেকে মুমুরদিয়া ইউনিয়নের শিবনাথ সাহার বাজার হয়ে কুড়িখাই শাহ শামছুদ্দিন বুখারী (র.) মাজার পর্যন্ত যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম এই সেতুটি। বিকল্প কোনো রাস্তা না থাকায় ঝুঁকি জেনেও সবাইকে এটি ব্যবহার করতে হচ্ছে।

প্রায় ষাট বছর আগে কুড়িখাই নদীর ওপর সেতুটি নির্মাণ করা হয়। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাক হানাদার বাহিনী এই সেতুর ওপর দাঁড় করিয়ে স্থানীয় কিছু নিরীহ মানুষকে গুলি করে নদীতে ফেলে দেয়। অথচ মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণের জন্য এখানে কোনো স্মৃতিচিহ্ন স্থাপন করা হয়নি। দীর্ঘ প্রায় ছয় দশকেও সেতুটির সংস্কার বা পুনঃনির্মাণের উদ্যোগ না নেওয়ায় ইতিহাসের সাক্ষী এই স্থাপনাটি আজ ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে।

এদিকে সামনে কুড়িখাইয়ে শাহ শামছুদ্দিন বুখারী (র.)-এর ওরস অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওরস উপলক্ষে বিশাল মেলা বসে এবং হাজার হাজার মানুষ এই সেতু দিয়ে যাতায়াত করে। এতে বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। তারা দ্রুত সেতুটি সংস্কার বা পুনঃনির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

শিবনাথ সাহার বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, গত এক দশক ধরে নির্বাচনের আগে এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র ও ইউপি চেয়ারম্যানরা সেতুটি পুনঃনির্মাণের আশ্বাস দিয়ে আসছেন। কিন্তু নির্বাচনের পর কেউ আর খোঁজ নেন না। পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যবর্তী এলাকায় সেতুটি অবস্থিত হওয়ায় দায় নেওয়ার বিষয়েও গড়িমসি চলছে।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী (এলজিইডি) মিজানুর রহমান বলেন, সেতুটি পুনঃনির্মাণের জন্য প্রকল্প প্রস্তাব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে।

  • কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে ঝুঁকিপূর্ণ ভাঙা সেতুতে দুর্ভোগে ১৫ গ্রামের মানুষ