
কুমিল্লা–৪ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন না বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী। প্রার্থিতা ফিরে পেতে করা তার লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। ফলে এ আসনে তার নির্বাচন করার পথ চূড়ান্তভাবে বন্ধ হয়ে গেল।
রোববার (৫ ফেব্রুয়ারি) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের আপিল বিভাগ শুনানি শেষে লিভ টু আপিল খারিজ করে আদেশ দেন। এর ফলে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও হাইকোর্টের আগের সিদ্ধান্তই বহাল থাকল। কুমিল্লা–৪ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন হাসনাত আবদুল্লাহ।
এর আগে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা মঞ্জুরুল আহসানের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছিলেন। তবে ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইসিতে আপিল করেন এনসিপির প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপির প্রার্থী ঋণখেলাপি হওয়ার তথ্য গোপন করে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে শুনানি শেষে গত ১৭ জানুয়ারি হাসনাত আবদুল্লাহর আপিল মঞ্জুর করে ইসি। এতে মঞ্জুরুল আহসানের মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করা হয়। ইসির এ সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মঞ্জুরুল আহসান হাইকোর্টে রিট করেন। শুনানি নিয়ে গত ২১ জানুয়ারি হাইকোর্ট সরাসরি রিটটি খারিজ করে দেন।
হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে তিনি আপিল বিভাগে আবেদন করেন। গত ২৬ জানুয়ারি আপিল বিভাগ শুনানি ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত মুলতবি করেন। এ সময়ের মধ্যে হাইকোর্টের আদেশের প্রত্যায়িত অনুলিপি পেয়ে তিনি নিয়মিত লিভ টু আপিল দায়ের করেন। ৩০ জানুয়ারি শুনানি শেষে আপিল বিভাগ ১ ফেব্রুয়ারি আদেশের দিন ধার্য করেন। আজ রোববার সেই আদেশে লিভ টু আপিল খারিজ করা হলো।
আদালতে মঞ্জুরুল আহসানের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম, মো. রুহুল কুদ্দুস ও আইনজীবী মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ মামুন। অন্যদিকে হাসনাত আবদুল্লাহর পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সালাহ উদ্দিন দোলন ও মোহাম্মদ হোসেন এবং আইনজীবী জহিরুল ইসলাম মুসা।
রায় ঘোষণার পর জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সালাহ উদ্দিন দোলন বলেন, ‘মঞ্জুরুল আহসানের লিভ টু আপিল খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। ফলে তিনি নির্বাচন করতে পারবেন না। আদালতের মাধ্যমে স্থগিতাদেশ নিয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচন করার গত আড়াই দশকের চর্চার কবর রচনা করেছে এই রায়। ভবিষ্যতে কোনো রাজনৈতিক দল কোনো ঋণখেলাপিকে মনোনয়ন দিতে পারবে না, একই সঙ্গে দ্বৈত নাগরিকদেরও নয়।’
