
স্ত্রী ও ৯ মাসের শিশু সন্তানের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় প্যারোলে মুক্তির অনুমতি না পাওয়া বাগেরহাট সদর উপজেলা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হাসান ওরফে সাদ্দামকে শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ফটকে দূর থেকে শেষবারের মতো স্ত্রী ও সন্তানের মুখ দেখার সুযোগ দেওয়া হয়।
তবে জুয়েল হাসান সাদ্দামের প্যারোলে মুক্তির আবেদন সংক্রান্ত বিষয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের সঙ্গে ভিন্নমত জানিয়েছে যশোর জেলা প্রশাসন। রোববার (২৫ জানুয়ারি) জেলা প্রশাসকের মিডিয়া সেলের সহকারী কমিশনার আশীষ কুমার দাস স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জুয়েল হাসান সাদ্দামকে ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর বাগেরহাট কারাগার থেকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। তাঁর স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, যশোর কিংবা যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ বরাবর প্যারোলে মুক্তির কোনো লিখিত আবেদন করা হয়নি।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে পরিবারের বক্তব্য থেকে জানা গেছে—সময় স্বল্পতার কারণে পারিবারিক সিদ্ধান্তে প্যারোলে মুক্তির আবেদন না করে কারা ফটকে মরদেহ দেখানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বন্দির স্ত্রীকে লেখা চিঠি বা কারাগারে বন্দি অবস্থার ছবি যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয় বলেও জানানো হয়।
এ ছাড়া আবেদন করার পরও প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়নি—এ ধরনের তথ্যকে সম্পূর্ণ মিথ্যা দাবি করে জেলা প্রশাসন জানায়, যেহেতু প্যারোলে মুক্তি সংক্রান্ত কোনো আবেদনই করা হয়নি, সেহেতু তা প্রত্যাখ্যানের প্রশ্নও ওঠে না।
তবে পরিবারের মৌখিক আবেদনের প্রেক্ষিতে কারা কর্তৃপক্ষ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে মানবিক দিক বিবেচনায় কারা ফটকে মরদেহ দেখানোর ব্যবস্থা করে। বিষয়টি জনস্বার্থে স্পষ্ট করতে এবং সত্যনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের জন্য গণমাধ্যমের প্রতি অনুরোধ জানানো হয় বিজ্ঞপ্তিতে।
কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে সাদ্দামের পরিবারের ছয়জন সদস্যকে কারাফটকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। সেখানে প্রায় পাঁচ মিনিট সময় ধরে তিনি স্ত্রী ও সন্তানকে শেষবারের মতো দেখতে পারেন।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার দুপুরে বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামের একটি বাড়ি থেকে কানিজ সুবর্ণা ওরফে স্বর্ণালীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। একই ঘরে পাওয়া যায় তাঁর ৯ মাস বয়সী শিশুপুত্র নাজিমের নিথর দেহ। এ মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক শোকের সৃষ্টি হয়।
