জিলহজ মাসের কিছু গুরুত্বপূর্ণ আমল

লেখক: দেলোয়ার হোসাইন মাহদী
প্রকাশ: ৯ মাস আগে

১) জিলহজ মাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো আয়্যামে তাশরিকের তাকবীর পাঠ করা। প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর উপর এই তাকবীর পাঠ করা ওয়াজিব।

 

তাকবীরটি হলো:

আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার,

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু,

আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার,

ওয়ালিল্লাহিল হামদ।

 

এই তাকবীর ৯ জিলহজ ফরজ নামাজের পর থেকে শুরু করে ১৩ জিলহজ আছরের নামাজ পর্যন্ত পড়তে হয়।

 

২০২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী, এটি শুরু হবে শুক্রবার, ৬ই জুন থেকে এবং শেষ হবে মঙ্গলবার, ১০ই জুন পর্যন্ত।

 

এই পবিত্র দিনগুলোতে তাকবীর পাঠ, ইবাদত-বন্দেগি এবং আল্লাহর জিকিরে মশগুল থাকা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ।

 

২) কোরবানির জন্য ক্রয়কৃত পশু জবাই করার পূর্বে তা থেকে উপকৃত হওয়া জায়েজ নয়।

 

উদাহরণস্বরূপ—

দুধ দোহন করা,

পশম কাটা,

বা হাল চাষে ব্যবহার করা ইত্যাদি।

 

তবে যদি কেউ ভুলক্রমে এসব করে ফেলে, তাহলে তার মূল্য সদকা করে দিতে হবে।

 

৩) ভুল সংশোধন-

গ্রাম বাংলার সরল মানুষের মাঝে প্রচলন আছে

মোরগ কুরবানি করা।

এটি গর্হিত কাজ ও নাজায়েজ।

ঈদের দিন মোরগ জবাই করা নিষেধ নয়,

তবে কুরবানির নিয়তে করা যাবে না।

 

৪) পশু ক্রয়ের ক্ষেত্রে লক্ষ্যণীয় বিষয়

 

কোরবানির পশু ক্রয়ের সময় যে বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, তা হলো পশুর বয়স নির্ধারণ।

যদি পশুর সঠিক বয়স নির্ধারণ না করা হয়, তবে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ই গুনাহগার হবে।

 

তবে ইসলামিক গবেষকগণ বলেছেন, বয়স নির্ধারণে বিক্রেতার কথাকেই প্রধান্য দেওয়া হবে।

 

পশুর প্রকারভেদ অনুযায়ী বয়সে পার্থক্য হয়ে থাকে। যেমন:

 

উটের ক্ষেত্রে বয়স ৫ বছর,

গরুর ক্ষেত্রে ২ বছর,

এবং ছাগল বা ভেড়ার ক্ষেত্রে ১ বছর হতে হবে।

 

কোরবানির পশু ক্রয়ের আগে এ বিষয়গুলো অবশ্যই নিশ্চিত করা প্রত্যেক মুসলিমের দায়িত্ব।

 

মুফতী আবু বকর মুহাম্মাদ রায়হান

ইমাম ও খতিব

মসজিদে বেলাল রাযি.

মুহতামিম

দারুল উলুম মোহাম্মদীয়া মাদরাসা

মাধবপুর, হবিগঞ্জ