ট্রাম্পের ইশারায় হাসিনার পতন! সিআইএ ও সেনাপ্রধানের গোপন চক্রান্তে ‘গণ-অভ্যুত্থান’?

লেখক: লিটন হোসাইন জিহাদ
প্রকাশ: ৬ মাস আগে
ট্রাম্পের ইশারায় হাসিনার পতন! সিআইএ ও সেনাপ্রধানের গোপন চক্রান্তে ‘গণ-অভ্যুত্থান’?

স্টাফ রিপোর্টার │ বাংলাদেশের রাজনীতি আবারও উত্তপ্ত। একদিকে ছাত্র আন্দোলনের পরবর্তী অস্থিরতা, অন্যদিকে রাজনৈতিক পালাবদল নিয়ে জল্পনা— এরই মধ্যে প্রকাশিত একটি বইতে উঠে এসেছে রীতিমতো বিস্ফোরক দাবি। বইটির নাম “Inshallah Bangladesh: The Story of an Unfinished Revolution”। লেখক দীপ হালদার, জয়দীপ মজুমদার ও সহিদুল হাসান খোকন। প্রকাশ করেছে ভারতের জাগারনট পাবলিশার্স।

বইটিতে অভিযোগ করা হয়েছে— বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরানো হয়েছিল এক আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে, যার নেতৃত্বে ছিল মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ এবং সহযোগিতায় ছিলেন দেশের বর্তমান সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।

বইতে উদ্ধৃত হয়েছেন শেখ হাসিনার সরকারের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী,“আমরা বুঝতেই পারিনি যে সিআইএ ওয়াকারকে নিয়ন্ত্রণ করছে। এমনকি আমাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলিও প্রধানমন্ত্রীকে সতর্ক করতে ব্যর্থ হয়েছিল যে সেনাপ্রধানই তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন।”কামালের মতে, এটি ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি কৌশলগত পরিকল্পনা — দক্ষিণ এশিয়ায় প্রভাবশালী নেতাদের দুর্বল করা। তাঁর ভাষায়,“মার্কিন স্বার্থ রক্ষার জন্য মোদি, শি জিনপিং এবং হাসিনাকে দুর্বল করা ছিল প্রধান লক্ষ্য।”

বইতে আরও বলা হয়েছে, ষড়যন্ত্রের অন্যতম কারণ ছিল বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত স্ট. মার্টিন দ্বীপের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব।প্রকাশ অনুযায়ী, শেখ হাসিনাকে বলা হয়েছিল— যদি তিনি দ্বীপটি যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেন, তাহলে তাঁর সরকার টিকে থাকতে পারে। কিন্তু হাসিনা নাকি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন, দেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আপস করতে অস্বীকৃতি জানান। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই এই প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন। তিনি বলেন,“একে কোনোভাবেই বিপ্লব বলা যায় না। এটা ছিল বাংলাদেশের ওপর পরিকল্পিত সন্ত্রাসবাদী হামলা, যা আমেরিকা পরিকল্পনা করেছিল এবং পাকিস্তান থেকে পরিচালিত হয়।”

ট্রাম্পের ইশারায় হাসিনার পতন! সিআইএ ও সেনাপ্রধানের গোপন চক্রান্তে ‘গণ-অভ্যুত্থান’?

ট্রাম্পের ইশারায় হাসিনার পতন! সিআইএ ও সেনাপ্রধানের গোপন চক্রান্তে ‘গণ-অভ্যুত্থান’?

হাসিনার দাবি, তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে যে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ আনা হয়েছিল, তা আসলে ছিল সন্ত্রাসীদের কাজ— পুলিশের নয়। এর মাধ্যমে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে তাঁকে দুর্বল করা হয়েছিল। ‘ইনশাল্লাহ বাংলাদেশ’ বইটিতে আরও দাবি করা হয়েছে—২০২৪ সালের জুন মাসে সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ইসলামপন্থী সংগঠন ও জামায়াতে ইসলামির সঙ্গে গোপন যোগাযোগ রাখেন এবং আগস্টের ৫ তারিখে শেখ হাসিনাকে দেশত্যাগে বাধ্য করেন।

বইয়ের লেখকরা উল্লেখ করেছেন,“যেমন মহাভারতে অভিমন্যুকে নিজের লোকেরাই ঘিরে ফেলেছিল, তেমনই হাসিনাকেও তাঁর ঘরের মানুষই বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।”এই বই প্রকাশের সময়টিও তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর ভূমিকাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে চলছে বিতর্ক।সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমের খবরে জানা গেছে, শেখ হাসিনার আমলে বিরোধী নেতাদের নিখোঁজের সঙ্গে যুক্ত ১৫ জন কর্মকর্তাকে সেনাবাহিনী আটক করেছে। এর ফলে ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে জেনারেল ওয়াকার তাঁর নির্ধারিত সৌদি সফর বাতিল করেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বইটির প্রকাশ সময়োপযোগী এবং বিতর্ক উস্কে দিতে যথেষ্ট। একদিকে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি অভিযোগ, অন্যদিকে সেনাপ্রধানের নাম উঠে আসা— দুইয়ে মিলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।তবে সেনাবাহিনী বা মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত বইটির বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

সূত্র: Zee News, SwarajyaMag, The Print, OpIndia, Jagranott Publishers.