
স্টাফ রিপোর্টার : ঢাকার দোহার উপজেলায় রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের সাথে সাথে পাল্টে গেছে তৃণমূল রাজনীতির সমীকরণ। আদর্শিক রাজনীতির চেয়ে ‘ক্ষমতার সান্নিধ্য’ পাওয়ার লড়াই এখন তুঙ্গে। বিশেষ করে পূর্ববর্তী ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী কয়েকজন নেতার অন্য দলে যোগ দেয়া এবং একই পরিবারের সদস্যদের ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক মেরুকরণে অবস্থান নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা কৌতূহল ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের ফলে অনেকেই একটি দলের সুপার কর্মী সেজে ফায়দা লুটছে বা চেষ্টা করছে। আর যারা বিপদে-আপদে ঐ দলের কর্মঠ কর্মী ছিলেন তারা বর্তমানে অবহেলিত।
উপজেলায় এক বিচিত্র রাজনৈতিক সংস্কৃতি লক্ষ করা যাচ্ছে, যাকে স্থানীয়রা বলছেন ‘পারিবারিক রাজনৈতিক বীমা’ । দেখা গেছে, একই পরিবারের বড় ভাই এক দলে সক্রিয় থাকলে, ছোট ভাই বা চাচাতো ভাই অন্য দলে প্রভাবশালী অবস্থানে রয়েছেন। স্থানীয় জনসাধারণের মতে, এটি মূলত একটি কৌশলী অবস্থান। যে দলই ক্ষমতায় আসুক না কেন, পরিবারের অন্তত একজন সদস্য যেন ‘সেফ জোনে’ থেকে ছড়ি ঘোরাতে পারেন, সেটাই এর মূল উদ্দেশ্য। ক্ষমতার রদবদলে যখন এক পক্ষের ওপর জেল-জুলুমের ভয় থাকে, তখন অন্য দলের সাথে যুক্ত পরিবারের সদস্যটি ঢাল হিসেবে কাজ করেন।
এই ‘ডিগবাজি’ দেওয়া বা ‘হাইব্রিড’ নেতাদের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষোভ বিরাজ করছে দলের দুর্দিনের ত্যাগী কর্মীদের মধ্যে। নব্য আসা এই সুবিধাবাদীরা অর্থের জোর এবং তদ্বিরের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ পদ-পদবি দখল করে নেয়ার চেষ্টা করছে। ফলে আদর্শিক কর্মীরা কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন, যা দলের ভেতর অভ্যন্তরীণ কোন্দল মাথাচাড়া দিতে পারে।
দেখা গেছে, এই সুযোগসন্ধানী নেতারা স্থানীয় পর্যায়ে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলার চেষ্টা হচ্ছে। দল যেটাই হোক, হাট-বাজার ইজারা, স্থানীয় বিচার-সালিশ এবং সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার তাদের লক্ষ্য। এমনকি নিজেদের স্বার্থ হাসিলে তারা স্থানীয় প্রশাসনকে ব্যবহার করতে ততপর।
তবে এই সংকটময় পরিস্থিতিতে আশার আলো হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের শীর্ষ ও স্থানীয় নেতৃত্বের কঠোর অবস্থান। দোহার-নবাবগঞ্জের মাটি ও মানুষের নেতা, বর্তমান ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাক এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ঢাকা জেলার সিনিয়র সহ-সভাপতি আবুল হাসেম বেপারী বিভিন্ন সময়ে তাদের বক্তব্যে তৃণমূলের এই উদ্বেগের প্রতিফলন ঘটিয়েছেন। উভয় নেতা দলের ত্যাগী ও নির্যাতিত কর্মীদের অধিকার রক্ষায় বদ্ধপরিকর। তাদের সাম্প্রতিক বক্তব্যে স্পষ্ট ফুটে উঠেছে যে, নব্য আসা ‘বসন্তের কোকিল’ বা সুবিধাবাদীদের ভিড়ে যারা বিগত ১৭ বছর জেল-জুলুম ও রাজপথের লড়াইয়ে রক্ত দিয়েছেন, সেই ত্যাগী কর্মীরা কোনোভাবেই উপেক্ষিত হবেন না। তারা তৃণমূলকে আশ্বস্ত করেছেন যে, হাইব্রিড নেতাদের ব্যক্তিগত এজেন্ডা নয়, বরং দলের প্রতি আনুগত্য এবং ত্যাগই হবে আগামী দিনে নেতৃত্বের মূল মাপকাঠি।
সুস্থ রাজনৈতিক ধারা বাধাগ্রস্ত হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ। এই সুবিধাবাদী রাজনীতির কারণে প্রকৃত উন্নয়ন ব্যাহত এবং রাজনীতির প্রতি মানুষের নেতিবাচক ধারণা তৈরি হতে পরে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত তৃণমূল পর্যায়ে পদ দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রার্থীর পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড এবং দলের প্রতি বিগত দিনের আনুগত্য কঠোরভাবে যাচাই করা।
