জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং বিদ্যালয়ে নাজুক পরিস্থিতির প্রতিবাদে ফ্রান্সে আয়োজিত বিশাল বিক্ষোভ দাঙ্গা ও লুটপাটে রূপ নেওয়ার পর দেশজুড়ে গভীর ক্ষোভ ও চরম বিস্ময় সৃষ্টি হয়েছে। রবিবারে দেশটিতে বিক্ষোভের তীব্রতা অনেকটাই কমে আসলেও বিভিন্ন শহরের রাস্তায় পোড়া গাড়ি, ভাঙা কাচ এবং আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত সরকারি ভবনের চিহ্ন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
বিগত কয়েক বছরের মধ্যে দেশটিতে হওয়া বৃহত্তম এই বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে ব্যাপক সহিংসতা ছড়ানোর পর রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা একে অপরকে দোষারোপ করতে শুরু করেছেন। সরকারের প্রতিনিধি ও বিভিন্ন পক্ষ এই বিশৃঙ্খলার জন্য পরস্পরের ওপর দায় চাপাচ্ছেন।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, শনিবারের সহিংসতায় প্রায় ২ হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে ৬০০ জনেরও বেশি পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
সহিংসতার রাতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা ও প্রতীকী ভবনে হামলা চালানো হয়। দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় পোর্সেলিন শিল্পের জন্য বিখ্যাত শহর লিমোজে ১৯ শতকের একটি ঐতিহ্যবাহী সিটি হলে অগ্নিসংযোগ করা হয়, যার ফলে ভবনটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
উত্তরের লিল থেকে শুরু করে দক্ষিণের মার্সেই পর্যন্ত একাধিক সিটি হলে হামলা চালিয়েছে দাঙ্গাকারীরা। মার্সেই শহরের স্থানীয় সরকার সদর দপ্তরে ঢুকে ফ্রান্সের প্রজাতন্ত্রের প্রতীক ‘মারিয়ান’-এর একটি ভাস্কর্য ভেঙে ফেলে তারা। এছাড়া লিওন শহরে একটি পর্যটন তথ্য কেন্দ্র আগুনে পুড়ে ধ্বংস হয়ে গেছে।
ফরাসি বাণিজ্য ও বণ্টন ফেডারেশনের প্রধান আলেকজান্দ্রে বোম্পার্ড জানান, দেশজুড়ে প্রায় ১,৫০০টি দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে। এতে যেসব ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা মেরামত করতে শত শত মিলিয়ন ডলার খরচ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও অন্যান্য দাবিতে রবিবারেও প্রায় পাঁচ লাখের বেশি মানুষ মিছিল করেছেন। তবে শান্তিকামী আন্দোলনকারীদের বড় একটি অংশ সহিংস ঘটনায় স্তম্ভিত হয়ে পড়েছেন। প্যারিসের বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেওয়া একটি অলাভজনক সংস্থার কর্মী এস্তেল গ্রঁদিদিয়ে জানান, বিদেশের সংকটপূর্ণ যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায় যেসব দৃশ্য দেখা যায়, নিজের দেশে তেমন পরিস্থিতি দেখে তিনি গভীরভাবে হতবাক হয়েছেন।

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।