বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের কথিত নেতার দায় এনসিপির ঘাড়ে কেন

লেখক: নুরে আলম জাহাঙ্গীর
প্রকাশ: ৯ মাস আগে

কাতার প্রতিনিধি.

ইদানিং একটি চাঁদাবাজির ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরব মিডিয়া পাড়া সহ সমস্ত দেশ। যে দলের চাঁদাবাজির নিউজে প্রতিনিয়ত বিব্রত দেশবাসী, প্রতিদিন শতশত ঘটনা যাদের হাতের কামাই, সে-ই তারাই আজ গেল-গেল ধোঁয়া তুলছে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে।
তাদের অভিযোগের তীর এনসিপির দিকে। ৬ মাস আগে জন্ম নেয়া একটি দলকেই তাদের সকল ভয়। যতো ক্ষোভ সব যেন তাকেই ঘিরে।

আওয়ামী ফ্যাসিজমের আমলে দেখতাম কেউ কোন অপরাধ করলে বিরোধী মতের সংশ্লিষ্টটা খুঁজতে ঘটনায় কতো রং-ঢং মাখানো হতো।
উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, যে কোথাও কোন ব্যাক্তি অস্রহাতে গ্রেফতার হলে পত্রিকার রিপোর্ট হতো জামাত নেতার আত্মীয় অস্রহাতে গ্রেফতার। ভিতরে লিখা হতো অমুক ওয়ার্ডের সদস্যের ছেলের শালার বোনজামাইর বন্ধু অস্রহাতে গ্রেফতার হয়েছে।

তেমনি ভাবে কথিত নেতার অপরাধের পর তার সংশ্লিষ্টতা খোঁজা হচ্ছে। তাকে এনসিপি নেতা বানাতে জড়িয়ে দেয়া হচ্ছে এক দফার ঘোষক নাহিদ ইসলমের ছবিও। অথচ তার ডায়েরিতে বিএনপি, আওয়ামী লীগ সহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীদের ছবি রয়েছে, সে দিকে কোন নজর দেয়ার সাহস ও সময় নাই।

এবার বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন ও এনসিপি নিয়ে একটু আলোচনা করি। গত বছর জুলাই আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী ছাত্র-ছাত্রীদের সমন্বয়ে গঠিত একটি অরাজনৈতিক সংগঠনের নাম বৈষম্য বিরোধী ছাত্র সংগঠন। এখানে সকল দল-মতের ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিতি রয়েছে।

কারো ঘর-বাড়ি কিংবা ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানে আগুন লাগলে শুধু ভালো মানুষ পানি ঢালে না, তৎক্ষনাৎ যাচাই করা হয় না উপকারী লোকটি কোন দল মতের মানুষ, চুরি-ডাকাতি, চাঁদাবাজি ছিনতাই করে কিনা, তখন ভালো কাজে তাকে শরিক হতে বাঁধা দেয়া হয় না।
তেমনিভাবে দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদের বিপক্ষে আন্দোলনের সময় সবাইকে নিয়েই গড়ে উঠেছিল বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন।
যখন বুলেটে জর্জরিত হচ্ছিল ৩ বছরের শিশু থেকে নিয়ে স্কুল কলেজ মাদ্রাসার কোমল প্রাণগুলো, প্রতিদিন লাশের মিছিল দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছিল। তখন, কে চাঁদাবাজ আর কে ফেরেস্তা চিহ্নিত করার সময়টা ছিল কোথায়?

দেশ প্রেম আর মুক্তির নেশার চেয়ে বড় আর কোন নেশা নেই, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় ভালো লোকটা যেমন অস্র হাতে যুদ্ধ করেছে, পাশাপাশি মন্দ লোকটাও কাঁধে কাঁধ জড়িয়ে দেশের তরে মুক্তির নেশায় লড়েছে।

তেমনি ভাবে ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে মুক্তির নেশায় ভালো লোকটার সাথে মন্দ লোকটাও মিছিলে সুর মিলিয়েছে।

১৯৭১ এর পরবর্তী সময়ে মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে মন্দ লোকটার আচরণের কারণে যেমন মুক্তিযুদ্ধ ভুল প্রমাণ করে না, তেমনি ভাবে ফ্যাসিবাদের পতনের পরে গুটিকয়েক মন্দ জুলাই যোদ্ধার কারণে এই আন্দোলনটি ভুল প্রমাণ হবে না।
যারা মুক্তিযুদ্ধকে ভুল প্রমাণ করতে চায়, তাদেরকে আমরা যেমন রাজাকার হিসেবে চিনি, তেমনি ভাবে ফ্যাসিবাদের পতনের আন্দোলনকে যারা ভুল প্রমাণ করতে চায়, তাদেরকেও আমরা ফ্যাসিবাদের দোসর হিসেবেই চিহ্নিত করবো।

আজ ফ্যাসিবাদ বিলুপ্তির প্রায় একবছর হতে চললো। যেই মুক্তির নেশায় জীবন বিলিয়েছে সহস্রাধিক প্রাণ, পঙ্গুত্ব বরণ করেছে হাজারে হাজারে মানুষ, সেই মুক্তি আজ মিললো কোথায়?
চারদিকে এখনো হাহাকার, ভয়-আতংকে অসংখ্য মানুষ। চাঁদার টাকা হয়েছে দ্বিগুণ। প্রচলিত ধারার রাজনীতি হয়ে উঠেছে একটি অভিশাপের নাম।

সুস্থ ও জনকল্যাণমুখী রাজনৈতিক ধারা ফিরিয়ে দিতে, সমাজের সকল ধর্মের, সকল মতের মানুষের সমমর্যাদা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জুলাই আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে গঠিত হয়েছে ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি)।

আর বৈষম্য বিরোধী ছাত্র সংগঠনটি ছিলো সকল রাজনৈতিক মানুষের সংমিশ্রণ। এনসিপি আর বৈষম্য বিরোধী ছাত্র সংগঠন দুটি আলাদা প্লাটফর্ম। দুইটা আলাদা সংগঠন হওয়া সত্ত্বেও অভিযোগের তীর এনসিপির দিকে কেন এটা বুঝতে উচ্চতর ডিগ্রির প্রয়োজন হবে বলে মনে করি না।

বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের সময় কোন যাচাই-বাছাই ছাড়াই আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু এনসিপির সদস্য হতে যাচাই-বাছাই এর মাধ্যমে আসতে হয়। বর্তমানে এনসিপির সকল শাখায় আহ্বায়ক কমিটির মাধ্যমে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, তার মাধ্যমে যাচাইয়ের কাজ চলছে। যাচাই-বাছাইয়ের পর একঝাঁক তরুণ নেতৃত্বের মাধ্যমে একটি সুন্দর বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সুখী সমৃদ্ধ দেশ উপহার দিবে।

হাজারো ভালো মানুষের ভীড়ে দু-একজন খারাপ মানুষ থাকাটা অস্বাভাবিক নয়। দুয়েকজন খারাপ মানুষের জন্য উদীয়মান একটি তরুণ নেতৃত্বের দল কলুষিত হউক এটা আমরা চাই না। আশা করি সেদিকে খেয়াল রেখেই এনসিপি এগিয়ে যাবে, ইংশা-আল্লাহ।
দেশ ও জাতির প্রত্যাশা পূরণে এনসিপি হউক ভরসার জায়গা।