ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সিএনজি অটোরিকশা চালকদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট, দুর্ভোগে সাধারণ মানুষ

লেখক: মোঃমনির হোসেন
প্রকাশ: ৯ মাস আগে

ট্রাফিক পুলিশের হয়রানি, ঘুষ দাবি, বৈধ কাগজ থাকা সত্ত্বেও গাড়ি জব্দ এবং লাইসেন্স সংক্রান্ত দুর্নীতির প্রতিবাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সিএনজি চালিত অটোরিকশা মালিক-শ্রমিকরা অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘটে নেমেছে। রবিবার (২৭ জুলাই) সকাল থেকে শুরু হওয়া এই কর্মবিরতিতে জেলার প্রধান সড়ক ও মহাসড়কজুড়ে সিএনজি চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

তাদের দাবিগুলো হলো- পুলিশ লাইনে আটক থাকা শতাধিক সিএনজি বিনা শর্তে ছাড়পত্র, জেলার সব সড়কে (ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ছাড়া) চলাচলের অনুমতি, ট্রাফিক পুলিশের হয়রানি ও অবিচার বন্ধ, ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মীর মো. আনোয়ারকে অপসারণ।

সকালে সরেজমিনে শহরের বিভিন্ন এলাকা, ঢাকা-সিলেট ও কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্ট ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও কোনো সিএনজি অটোরিকশা চলেনি।

বিভিন্ন স্থানে চালক ও মালিকরা অবস্থান করছেন। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাও আটকিয়ে দিচ্ছে ধর্মঘটে অংশ নেওয়া কিছু কর্মী, অনেক জায়গায় চাকার হাওয়া ছেড়ে দিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও রোগীরা। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়েছেন।

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সরাইল উপজেলার কুট্টাপাড়া মোড়ে দেখা হয় সাজেদ মিয়া (৫৫) নামে চাতলপাড়ের এক কৃষকের।

তিনি বলেন, ‘এইখানে আসতেই মেলা ঝামেলা অইছে। অহন এই বোঝা নিয়া জেলা শহরে যামু কেমনে জানি না।’

শিক্ষার্থীরাও পড়েছেন বিপাকে। বর্তমানে এইচএসসি ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক শ্রেণির পরীক্ষা চলায়, অনেক শিক্ষার্থীকে গ্রাম বা উপজেলা থেকে জেলা সদরে যেতে হচ্ছে।

আকলিমা আক্তার নামের স্নাতক শিক্ষার্থীকে ১২ দিনের শিশু কোলে নিয়ে সরাইল উপজেলার প্রত্যন্ত শাহবাজপুর থেকে জেলা সদরে যেতে দেখা গেছে।

তিনি বলেন, ‘১২ দিনের বাচ্চা কোলে নিয়া অনেক কষ্টে ১৫ কিলোমিটার হেঁটে এসেছি। এখন আরেকটু দূর যেতে হবে। কীভাবে যাব বুঝতে পারছি না।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সিএনজি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি হেবজুল করিম অভিযোগ করে বলেন, ‘প্রতিদিন নানা অজুহাতে ট্রাফিক পুলিশ আমাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করছে। অনেক সময় বৈধ কাগজ থাকা সত্ত্বেও বিনা কারণে গাড়ি জব্দ করা হয়। লাইসেন্স নবায়নে ঘুষ না দিলে কাজ হয় না। এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমরা আন্দোলনে নেমেছি।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সিএনজিচালিত অটোরিকশা পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি বলেন, ‘আমরা গত এক বছরে সরকারকে ৫ কোটি টাকা রাজস্ব দিয়েছি। অথচ জেলা শহরে ৫০০ টাকা ভাড়া নিয়ে রোগী বহন করে ফেরার পথে ৫ হাজার টাকার মামলা খেতে হয়। এক মাস ধরে আমাদের শতাধিক গাড়ি আটক রাখা হয়েছে। আমাদের দাবি না মানা পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবে। গত শনিবার রাতে আমরা এ কর্মসূচি ঘোষণা করেছি।’

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচলে বাধা দেওয়া প্রসঙ্গে মিজানুর রহমান জেলা সিএনজি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি বলেন, ‘আমাদের কর্মসূচির মধ্যে অন্য কোনো যানবাহনকে বাধা দেওয়ার কথা নেই। আমরা শুনেছি কয়েকটি স্থানে দুষ্কৃতকারী কিছু লোক এমনটি করেছে। আমরা তাদের বাধা দিয়েছি, তারা আমাদের লোক নয়। রিকশা চলতে আমাদের কোনো বাধা নেই।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার এহতেশামুল হক বলেন, ‘সিএনজি মালিক-শ্রমিক সংগঠন ধর্মঘটের ঘোষণা দিয়েছে। তাদের যে দাবি ছিল এর মধ্যে ছিল আটককৃত গাড়িগুলো ছেড়ে দেওয়া। যাদের বৈধ কাগজপত্র আছে, তাদের গাড়ি ছেড়ে দিচ্ছি। যেগুলো এখনো প্রক্রিয়াধীন, সেগুলো আটক থাকছে।

তিনি বলেন, অনেকে বিভিন্ন পুলিশ কর্মকর্তার নামে অভিযোগ করছেন। কেউ যদি পুলিশের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ও যুক্তিযুক্ত অভিযোগ দিতে পারে, আমরা অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেব।’