আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৬:৫০ পূর্বাহ্ন
যুক্তরাষ্ট্রে দশকের পর দশক ধরে চলা মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নতুন ও ভয়াবহ মাত্রা যোগ করেছে মারাত্মক সিন্থেটিক উপাদান ‘ট্রাঙ্ক’। সরবরাহকারী ও কার্টেলগুলোর এই ক্রমাগত কৌশল পরিবর্তনের মুখে দেশটির কর্তৃপক্ষ বারবার পিছিয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই নতুন মাদক সংকটের মোকাবিলায় এখন সামনের সারিতে এসে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় বিভিন্ন কমিউনিটি ও গির্জা।
প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যে মাদক কার্টেলগুলোকে ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। একই সঙ্গে তিনি শক্তিশালী সিন্থেটিক ওপিয়েড ফেন্টানিলকে ‘গণবিধ্বংসী অস্ত্র’ হিসেবে অভিহিত করেন। তবে সম্প্রতি দেশটির মাদকের বাজারে এই রাসায়নিকের সঙ্গে আরও বিপজ্জনক উপাদান মেশানো হচ্ছে, যার অন্যতম হলো পশুর শরীরে ব্যবহৃত শক্তিশালী চেতনানাশক ওষুধ। সাধারণ মানুষের কাছে এই রাসায়নিক মিশ্রিত মাদকটি ‘ট্রাঙ্ক’ নামে পরিচিত।
সাম্প্রতিক তথ্যে যুক্তরাষ্ট্রে সার্বিক ওভারডোজ বা অতিরিক্ত মাত্রায় মাদক গ্রহণে মৃত্যুর সংখ্যা কিছুটা কমে আসার ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও এই নতুন মাদকগুলোর তীব্রতা ও কার্যকারিতা পুনর্বাসন কর্মীদের গভীরভাবে চিন্তিত করে তুলেছে। মাদকের রাসায়নিক গঠন পরিবর্তন হওয়ায় এর চিকিৎসাও বেশ জটিল হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এমন পরিস্থিতিতে অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, কেবল সরবরাহ বন্ধ করে এই সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। বরং মাদকের চাহিদা কমানো, ব্যবহারকারীদের পর্যাপ্ত মানসিক ও চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া এবং তাদের আসক্তি মুক্ত করতে সাহায্য করার মধ্যেই এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান লুকিয়ে রয়েছে।
এই সংকটময় পরিস্থিতির বাস্তব চিত্র দেখতে যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের কলম্বাস সফর করেছেন বিবিসি আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি কুয়েন্টিন সামারভিল এবং ক্যামেরা সাংবাদিক ড্যারেন কনওয়ে। সেখানে তারা দেখতে পান, কীভাবে একটি স্থানীয় গির্জা মাদকাসক্তদের সহায়তা এবং চিকিৎসা দিয়ে নতুন জীবন দিতে কাজ করে যাচ্ছে।
দেশটিতে ঘরে তৈরি সিন্থেটিক মাদকের নতুন এই ঢেউ পুরো সংকটকে আরও গভীর করে তুলছে। সামনের দিনগুলোতে চাহিদা হ্রাসকরণ এবং সঠিক পুনর্বাসন ব্যবস্থার জোরদার প্রয়োগ না হলে এই রাসায়নিক মাদকের মহামারি ঠেকানো কঠিন হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।