রেকর্ড দামে জ্বালানি তেল, বাড়ছে ভোগান্তির শঙ্কা
বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের অস্থিরতার মধ্যেই দেশে জ্বালানি তেলের দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাতে সরকার নতুন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রলের দাম বৃদ্ধি করে, যা আজ থেকে কার্যকর হয়েছে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।
এর আগে ২০২২ সালের আগস্টে ডিজেলের দাম ১১৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা ছিল সর্বোচ্চ। এবার ১১৫ টাকায় সেই রেকর্ড ভেঙেছে।
এদিকে সরবরাহ ঘাটতির আশঙ্কায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে বেড়েছে ভিড়। পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) ইতোমধ্যে তেল সরবরাহ বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে।
বিপিসির কর্মকর্তারা জানান, গত বছরের তুলনায় তেলের চাহিদা প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে। তবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আশ্বস্ত করে বলেছেন, বাজারে আতঙ্কের কিছু নেই এবং ভোগান্তি কমাতে দ্রুত সরবরাহ বাড়ানো হচ্ছে।
বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধির পেছনে অন্যতম কারণ ইরান-ইসরায়েল সংঘাত। সংঘাতের প্রভাবে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। যদিও একসময় হরমুজ প্রণালি খোলার ঘোষণায় দাম কিছুটা কমে, কিন্তু পুনরায় বন্ধের আশঙ্কায় আবারও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বর্তমানে দেশে প্রায় ১ লাখ ২ হাজার টন ডিজেল মজুত রয়েছে এবং আরও ১ লাখ টনের বেশি ডিজেল আমদানির পথে রয়েছে। পাশাপাশি পেট্রল ও অকটেনেরও পর্যাপ্ত মজুত আছে বলে জানিয়েছে বিপিসি।
উল্লেখ্য, দেশের মোট জ্বালানি ব্যবহারের প্রায় ৬৩ শতাংশই ডিজেল। ফলে এর দাম বাড়ার প্রভাব সরাসরি পড়তে পারে গণপরিবহন, কৃষি এবং নিত্যপণ্যের বাজারে—যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বাড়ছে দুশ্চিন্তা।
